গাজীপুর সদর উপজেলার ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের রুদ্রপুর এলাকায় জমি উন্নয়নকাজকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবির অভিযোগে যুবদলের এক নেতাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে এ ঘটনায় মামলা দায়ের হলে পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করে এবং আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আটক ব্যক্তি রুদ্রপুর এলাকার বাসিন্দা সাব্বির আহমেদ (৩০)। তিনি স্থানীয় যুবদলের একটি ওয়ার্ড কমিটির সাংগঠনিক দায়িত্বে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় ব্যবসায়ী নুরুদ্দিন খন্দকার খোকন সম্প্রতি নিজের মালিকানাধীন জমিতে উন্নয়নকাজের অংশ হিসেবে বালু ভরাট শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, গত রোববার বিকেলে সাব্বির আহমেদ কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে কাজ বন্ধ করার চেষ্টা করেন এবং বিপুল অঙ্কের অর্থ দাবি করেন। অর্থ না দিলে জমিতে কোনো ধরনের উন্নয়নকাজ করতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, পরদিন সকালে পুনরায় কাজ শুরু হলে একই পক্ষ আবার ঘটনাস্থলে এসে বাধা দেয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে জমির মালিক আহত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, হামলার সময় তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং প্রাণনাশেরও চেষ্টা চালানো হয়।
ঘটনার সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে এলাকাবাসী অভিযুক্ত সাব্বির আহমেদকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। তবে তার সঙ্গে থাকা অন্যরা ঘটনাস্থল থেকে সরে যান।
অভিযোগকারী নুরুদ্দিন খন্দকার জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ১১ দশমিক ৫৫ শতাংশ জমির বৈধ মালিক হিসেবে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। সম্প্রতি জমির উন্নয়নকাজ শুরু করার পর থেকেই বিভিন্ন বাধার মুখোমুখি হচ্ছেন বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে, সাব্বির আহমেদ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার বক্তব্য, বালু ভরাটের কাজ তাদের দাবি করা জমির অংশ অতিক্রম করে পরিচালিত হচ্ছিল। এ কারণে তিনি আপত্তি জানিয়েছেন। চাঁদা দাবির অভিযোগকে তিনি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে ভাওয়ালগড় ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরীফ বলেন, ঘটনাটি তাদের নজরে এসেছে। দলীয়ভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজন হলে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জয়দেবপুর থানার তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
দৈনিক টার্গেট 






















