নিখোঁজের ছয় দিন পর পাওয়া রহস্যময় হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় আরও ঘনীভূত হচ্ছে পুজা দাসের অন্তর্ধানের রহস্য। পরিবার অস্বস্তিতে, পুলিশ সন্ধানে তৎপর

“খুঁইজেন না, বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে আছি”-পুজা দাসের বার্তায় তোলপাড় বরিশাল!

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৫:৫৫:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫
  • ২৪১ বার পঠিত হয়েছে

পুজা দাস

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার মধ্য শিহিপাশা গ্রামের তরুণী পুজা দাস (২১) বাড়ি থেকে বের হওয়ার ছয় দিন পার হলেও তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। গত ৯ নভেম্বর সকালে বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজে যাওয়ার উদ্দেশে বের হওয়ার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ রয়েছেন বলে পরিবারের দাবি।

এ ঘটনায় তার ভাই রিমন দাস থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

পরিবারের ভাষ্য: নিখোঁজের ঘটনায় অস্বাভাবিকতা রয়েছে

পুজার পরিবার শুরু থেকেই বিষয়টিকে সন্দেহজনক বলে মনে করছে। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ নিয়েও কোনো সূত্র না পাওয়ায় তাদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, পুজা কখনো বাড়ি থেকে বের হয়ে লাপাত্তা হওয়ার মতো আচরণ করেননি, তাই তার নিখোঁজ ঘটনাকে স্বাভাবিক মনে করা যাচ্ছে না।

তদন্তের মাঝপথে রহস্যময় হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা

ঘটনার পরপরই তদন্ত কর্মকর্তার মোবাইলে একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা আসে। সেখানে লেখা ছিল- “আমাকে খুঁজবেন না। আমি আমার বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে আছি, ভালো আছি।”

আগৈলঝাড়া থানার উপপরিদর্শক মনিরুল ইসলাম জানান, বার্তাটি সত্যিই পুজা পাঠিয়েছেন কিনা তা এখনো নিশ্চিত নয়। বার্তাটি পাঠানোর সঙ্গে সঙ্গেই নম্বরটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিষয়টি আরও রহস্যজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, “এটি পুজা নিজে লিখেছেন-এমনও হতে পারে। আবার কেউ ওই ভঙ্গিতে বার্তা পাঠিয়েও থাকতে পারে।”

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা: স্বেচ্ছায় গা ঢাকা নাকি অন্য কিছু?

তদন্তকারীরা বলছেন, পুজা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় সবদিক বিবেচনা করেই তদন্ত চলছে। পুলিশের ধারণা-
তিনি স্বেচ্ছায় কারও সঙ্গে চলে যেতে পারেন, আবারঅপহরণ বা জোরপূর্বক আটক রাখার বিষয়টিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ওসি অলিউল ইসলাম জানান, “এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। পরিবার থেকেও কোনো নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে আমাদের হাতে কিছু অগ্রগতি আছে, এবং আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে মেয়েটি জীবিত আছে।”

ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও অনুসন্ধান অব্যাহত

যে নম্বর থেকে বার্তা এসেছিল তা বর্তমানে বন্ধ থাকায় সেটি ট্র্যাক করতে না পারলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য ডিজিটাল সূত্র কাজে লাগিয়ে মেয়েটির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পুলিশের দাবি, তারা পুজার অবস্থান সম্পর্কে ইতোমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে।

পরিবারের অপেক্ষা মেয়েকে সুস্থভাবে ফিরে পাওয়ার

নিখোঁজের পর থেকে পরিবার আতঙ্ক ও উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে। পুজার ভাই রিমন দাস বলেন, “পুলিশ তদন্ত করছে। আমরা শুধু চাই, আমাদের বোনকে যেন নিরাপদে খুঁজে পাওয়া যায়।”

জনপ্রিয় টার্গেট

হাওরে গোখাদ্যের তীব্র সংকট, বিপাকে কৃষক

নিখোঁজের ছয় দিন পর পাওয়া রহস্যময় হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় আরও ঘনীভূত হচ্ছে পুজা দাসের অন্তর্ধানের রহস্য। পরিবার অস্বস্তিতে, পুলিশ সন্ধানে তৎপর

“খুঁইজেন না, বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে আছি”-পুজা দাসের বার্তায় তোলপাড় বরিশাল!

প্রকাশ: ০৫:৫৫:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার মধ্য শিহিপাশা গ্রামের তরুণী পুজা দাস (২১) বাড়ি থেকে বের হওয়ার ছয় দিন পার হলেও তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। গত ৯ নভেম্বর সকালে বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজে যাওয়ার উদ্দেশে বের হওয়ার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ রয়েছেন বলে পরিবারের দাবি।

এ ঘটনায় তার ভাই রিমন দাস থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

পরিবারের ভাষ্য: নিখোঁজের ঘটনায় অস্বাভাবিকতা রয়েছে

পুজার পরিবার শুরু থেকেই বিষয়টিকে সন্দেহজনক বলে মনে করছে। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ নিয়েও কোনো সূত্র না পাওয়ায় তাদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, পুজা কখনো বাড়ি থেকে বের হয়ে লাপাত্তা হওয়ার মতো আচরণ করেননি, তাই তার নিখোঁজ ঘটনাকে স্বাভাবিক মনে করা যাচ্ছে না।

তদন্তের মাঝপথে রহস্যময় হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা

ঘটনার পরপরই তদন্ত কর্মকর্তার মোবাইলে একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা আসে। সেখানে লেখা ছিল- “আমাকে খুঁজবেন না। আমি আমার বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে আছি, ভালো আছি।”

আগৈলঝাড়া থানার উপপরিদর্শক মনিরুল ইসলাম জানান, বার্তাটি সত্যিই পুজা পাঠিয়েছেন কিনা তা এখনো নিশ্চিত নয়। বার্তাটি পাঠানোর সঙ্গে সঙ্গেই নম্বরটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিষয়টি আরও রহস্যজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, “এটি পুজা নিজে লিখেছেন-এমনও হতে পারে। আবার কেউ ওই ভঙ্গিতে বার্তা পাঠিয়েও থাকতে পারে।”

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা: স্বেচ্ছায় গা ঢাকা নাকি অন্য কিছু?

তদন্তকারীরা বলছেন, পুজা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় সবদিক বিবেচনা করেই তদন্ত চলছে। পুলিশের ধারণা-
তিনি স্বেচ্ছায় কারও সঙ্গে চলে যেতে পারেন, আবারঅপহরণ বা জোরপূর্বক আটক রাখার বিষয়টিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ওসি অলিউল ইসলাম জানান, “এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। পরিবার থেকেও কোনো নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে আমাদের হাতে কিছু অগ্রগতি আছে, এবং আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে মেয়েটি জীবিত আছে।”

ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও অনুসন্ধান অব্যাহত

যে নম্বর থেকে বার্তা এসেছিল তা বর্তমানে বন্ধ থাকায় সেটি ট্র্যাক করতে না পারলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য ডিজিটাল সূত্র কাজে লাগিয়ে মেয়েটির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পুলিশের দাবি, তারা পুজার অবস্থান সম্পর্কে ইতোমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে।

পরিবারের অপেক্ষা মেয়েকে সুস্থভাবে ফিরে পাওয়ার

নিখোঁজের পর থেকে পরিবার আতঙ্ক ও উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে। পুজার ভাই রিমন দাস বলেন, “পুলিশ তদন্ত করছে। আমরা শুধু চাই, আমাদের বোনকে যেন নিরাপদে খুঁজে পাওয়া যায়।”