কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “শুধু নিজের নয়, সব স্বপ্নকে ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয়কে আলোকিত করুন; আমরা চাই গুণগত ও কল্যাণমুখী ছাত্ররাজনীতি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের নবীনবরণ: কুরআন-সুন্নাহ অনুসরণে সফলতার বার্তা

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৬:৪১:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫
  • ২১০ বার পঠিত হয়েছে

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে জাহিদুল ইসলাম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে নবীনবরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম শিক্ষণীয় বক্তব্য দেন।

বক্তব্যে জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা শুধু দুনিয়ার সফলতা চাই না, উভয় জগতের সফলতাই আমাদের লক্ষ্য। রাসুল (সা.) বিদায় হজের সময় আমাদেরকে কুরআন ও সুন্নাহর প্রতি দৃঢ় থাকার শিক্ষা দিয়েছেন। জীবন যেকোনো ক্ষেত্রে রাজনীতি, সমাজ বা সংস্কৃতি কুরআন ও সুন্নাহকে ধরা থাকলে সফলতা স্বয়ং আসবে।” তিনি আরও বলেন, কুরআনের প্রতিটি আয়াত নিয়ে যত বেশি চিন্তা করা হবে, ততই মন ও সমাজ সমৃদ্ধ হবে। ইসলামের সঠিক উপস্থাপনা সমাজে পুনর্জাগরণের পথ খুলবে এবং একটি ন্যায়সংগত ইসলামী সমাজব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আপনারা কেবল নিজের স্বপ্ন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেননি, মা-বাবা, শিক্ষক ও পরিবারের স্বপ্নও আপনাদের সঙ্গে যুক্ত। এই স্বপ্নগুলোকে ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজের মতো করে গড়ে তুলতে হবে এবং সফলতার শীর্ষে পৌঁছাতে হবে।” তিনি শিক্ষাকে আলোর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “জ্ঞান মানুষের পশুত্ব দূর করে মনুষত্ববোধকে জাগ্রত করে। তাই আপনারা যে প্রজ্ঞা ও ফিতরাত নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছেন, তা ব্যবহার করে সমাজকে আলোকিত করতে হবে।”

ছাত্ররাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা জাহেলিয়াতের রাজনীতি চাই না, যেখানে গুম, খুন বা অপকর্মের প্রচার করা হতো। আমরা চাই এমন রাজনীতি যা রাষ্ট্র ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করবে, এবং ক্যাম্পাসের সমস্যার সমাধান নিয়ে মনযোগী হবে।”

দেশের ভবিষ্যত নিয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “বাংলাদেশের প্রচুর মানবসম্পদ ও খনিজ সম্পদ রয়েছে। সঠিক নেতৃত্বের মাধ্যমে এগুলোকে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। আমাদের নদীমাতৃক দেশকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা যেতে পারে, যা দেশের সফলতার উচ্চতম চূড়ায় পৌঁছাতে সাহায্য করবে।”

নবীনবরণের আয়োজন নিয়ে শিক্ষার্থী তনুশ্রী রায় (ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগ, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ) বলেন, “ছাত্রশিবিরের নবীনবরণ অন্য বছরের তুলনায় অনেক ইউনিক ছিল। গিফট দেওয়ার আয়োজনটি খুবই ভালো লাগলো। সব কার্যক্রম সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে।”

কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের শিক্ষার্থী অন্বেষা দেবনাথ বলেন, “সুন্দরভাবে সাজানো অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপহার হিসেবে বই, কলম, চাবির রিংসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় উপহার দেওয়া হয়েছে। প্রধান অতিথির বক্তব্য শুনে ছাত্রশিবির সম্পর্কে আগের ভুল ধারণা বদলে গেছে।”

ইবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে এবং প্রচার সম্পাদক আলী আফসার হামজা ও প্রকৌশল অনুষদের সভাপতি শোয়াইব আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সংস্কৃতিক সম্পাদক হাফেজ আবু মুসা, কেন্দ্রীয় ব্যবসায় শিক্ষা সম্পাদক গোলাম জাকারিয়া, অধ্যাপক ড. আব্দুল বারী, অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমানসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “শুধু নিজের নয়, সব স্বপ্নকে ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয়কে আলোকিত করুন; আমরা চাই গুণগত ও কল্যাণমুখী ছাত্ররাজনীতি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের নবীনবরণ: কুরআন-সুন্নাহ অনুসরণে সফলতার বার্তা

প্রকাশ: ০৬:৪১:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে নবীনবরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম শিক্ষণীয় বক্তব্য দেন।

বক্তব্যে জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা শুধু দুনিয়ার সফলতা চাই না, উভয় জগতের সফলতাই আমাদের লক্ষ্য। রাসুল (সা.) বিদায় হজের সময় আমাদেরকে কুরআন ও সুন্নাহর প্রতি দৃঢ় থাকার শিক্ষা দিয়েছেন। জীবন যেকোনো ক্ষেত্রে রাজনীতি, সমাজ বা সংস্কৃতি কুরআন ও সুন্নাহকে ধরা থাকলে সফলতা স্বয়ং আসবে।” তিনি আরও বলেন, কুরআনের প্রতিটি আয়াত নিয়ে যত বেশি চিন্তা করা হবে, ততই মন ও সমাজ সমৃদ্ধ হবে। ইসলামের সঠিক উপস্থাপনা সমাজে পুনর্জাগরণের পথ খুলবে এবং একটি ন্যায়সংগত ইসলামী সমাজব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আপনারা কেবল নিজের স্বপ্ন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেননি, মা-বাবা, শিক্ষক ও পরিবারের স্বপ্নও আপনাদের সঙ্গে যুক্ত। এই স্বপ্নগুলোকে ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজের মতো করে গড়ে তুলতে হবে এবং সফলতার শীর্ষে পৌঁছাতে হবে।” তিনি শিক্ষাকে আলোর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “জ্ঞান মানুষের পশুত্ব দূর করে মনুষত্ববোধকে জাগ্রত করে। তাই আপনারা যে প্রজ্ঞা ও ফিতরাত নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছেন, তা ব্যবহার করে সমাজকে আলোকিত করতে হবে।”

ছাত্ররাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা জাহেলিয়াতের রাজনীতি চাই না, যেখানে গুম, খুন বা অপকর্মের প্রচার করা হতো। আমরা চাই এমন রাজনীতি যা রাষ্ট্র ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করবে, এবং ক্যাম্পাসের সমস্যার সমাধান নিয়ে মনযোগী হবে।”

দেশের ভবিষ্যত নিয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “বাংলাদেশের প্রচুর মানবসম্পদ ও খনিজ সম্পদ রয়েছে। সঠিক নেতৃত্বের মাধ্যমে এগুলোকে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। আমাদের নদীমাতৃক দেশকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা যেতে পারে, যা দেশের সফলতার উচ্চতম চূড়ায় পৌঁছাতে সাহায্য করবে।”

নবীনবরণের আয়োজন নিয়ে শিক্ষার্থী তনুশ্রী রায় (ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগ, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ) বলেন, “ছাত্রশিবিরের নবীনবরণ অন্য বছরের তুলনায় অনেক ইউনিক ছিল। গিফট দেওয়ার আয়োজনটি খুবই ভালো লাগলো। সব কার্যক্রম সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে।”

কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের শিক্ষার্থী অন্বেষা দেবনাথ বলেন, “সুন্দরভাবে সাজানো অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপহার হিসেবে বই, কলম, চাবির রিংসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় উপহার দেওয়া হয়েছে। প্রধান অতিথির বক্তব্য শুনে ছাত্রশিবির সম্পর্কে আগের ভুল ধারণা বদলে গেছে।”

ইবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে এবং প্রচার সম্পাদক আলী আফসার হামজা ও প্রকৌশল অনুষদের সভাপতি শোয়াইব আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সংস্কৃতিক সম্পাদক হাফেজ আবু মুসা, কেন্দ্রীয় ব্যবসায় শিক্ষা সম্পাদক গোলাম জাকারিয়া, অধ্যাপক ড. আব্দুল বারী, অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমানসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।