কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় এক অন্তঃসত্ত্বা নারী স্বামীর স্বীকৃতি ও আশ্রয়ের দাবিতে শ্বশুরবাড়িতে এসে বিপাকে পড়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, ঢাকায় গোপনে বিয়ে করার পর ওই নারীকে এড়িয়ে চলছেন তার স্বামী। ঘটনাটি স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলার উত্তর রাবাইটারী এলাকার বাসিন্দা দুলাল ঢাকায় নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করার সময় বরিশালের এক নারীর সঙ্গে পরিচিত হন। পরিচয় থেকে ঘনিষ্ঠতা এবং পরে তাদের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে দাবি করেছেন ওই নারী।
ভুক্তভোগী সাথী আক্তার জানান, কয়েক মাস আগে তারা ঢাকায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বর্তমানে তিনি চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তবে সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন, দুলালের আগে থেকেই একটি সংসার রয়েছে এবং তার প্রথম স্ত্রী ও সন্তানও আছে। এ তথ্য জানার পর থেকে তাদের সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সাথীর ভাষ্য, দুলাল হঠাৎ করে ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন। পরে স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হলে তিনি মঙ্গলবার সকালে ফুলবাড়ীতে তার বাড়িতে আসেন। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর দুলাল তাকে দেখে সরে যান এবং এরপর আর তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্বামীর পরিবারের সদস্যরা তাকে বাড়িতে উঠতে দেননি। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কোনো সমাধান না পেয়ে তিনি অসহায় অবস্থায় পড়ে যান। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় নিরাপদ আশ্রয় না পাওয়ায় তার মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে রাতে ফুলবাড়ী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পরিস্থিতি বিবেচনায় পুলিশ ওই নারীকে সেখান থেকে সরিয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে নিরাপদ স্থানে থাকার ব্যবস্থা করে দেয়।
ফুলবাড়ী থানার এক কর্মকর্তা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমাধানের সুযোগ থাকলেও প্রয়োজন হলে ভুক্তভোগী নারীকে আইনগত সহায়তা দেওয়া হবে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়রা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়সঙ্গত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

দৈনিক টার্গেট 
























