রাজবাড়ীর এক তরুণীর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে গড়ে ওঠা প্রেম, এরপর বিদেশ থেকে বাংলাদেশে এসে বিয়ে-এমনই এক ব্যতিক্রমী ঘটনার জন্ম দিয়েছেন চীনা নাগরিক ঝং কেজুন ও রুমা খাতুন।
জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে একটি জনপ্রিয় চীনা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে রুমা খাতুনের সঙ্গে পরিচয় হয় ঝং কেজুনের। অনলাইন কথোপকথন ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতায় রূপ নেয় এবং একপর্যায়ে দুজনই সম্পর্ককে পরিণয়ে রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বয়সের ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও তাদের এই সম্পর্ক এগিয়ে যায় পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে।
পরবর্তীতে প্রেমের টানে চীন থেকে বাংলাদেশে আসেন ঝং কেজুন। প্রথমদিকে পরিবারের আপত্তি থাকলেও শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি বদলায়। গত ২ সেপ্টেম্বর রাজবাড়ীতে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। পরে ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে স্থানীয় মসজিদের ইমামও তাদের বিবাহ সম্পন্ন করেন।
বিয়ের পর কিছুদিন স্ত্রীর বাড়িতে অবস্থান করেন ঝং কেজুন। এরপর তিনি নিজ দেশে ফিরে যান। তবে মাঝেমধ্যে বাংলাদেশে এসে স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে আবার ফিরে যান বলে জানা গেছে।
রুমার পরিবার জানায়, বর্তমানে চীন থেকে ঝং কেজুন প্রতি মাসে তার স্ত্রীর ব্যক্তিগত খরচের জন্য অর্থ পাঠাচ্ছেন, যার পরিমাণ প্রায় দুই হাজার টাকা। বিষয়টি নিয়ে পরিবারের ভেতরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। রুমার বাবা শুরুতে এই বিয়েতে রাজি ছিলেন না বলেও জানান, যদিও পরে মেয়ের সম্মতিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, রুমা খাতুন নিজে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তার বর্তমান জীবনযাপন বা দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে চাননি।
স্থানীয়দের কাছে ঘটনাটি বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে আন্তর্জাতিক বিয়ে-এ ধরনের ঘটনা এখন নতুন নয়, তবে বাস্তব জীবনে এর প্রভাব ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও সামনে এসেছে অনলাইন সম্পর্কের বিস্তার, আন্তঃদেশীয় বিবাহের বাস্তবতা এবং পারিবারিক গ্রহণযোগ্যতার জটিল দিকগুলো।















Leave a Reply