দৈনিক টার্গেট

দেশের চেতনায়

রাজধানীতে সবজিসহ নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী

রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের দাম ক্রমেই উর্ধ্বমুখী। শাক-সবজি থেকে শুরু করে মুরগি, ডিম ও মাছসহ প্রায় সব ধরনের পণ্য এখন সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে চলে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরবরাহ সীমিত এবং আবহাওয়া অনিশ্চয়তার কারণে বাজারে এ ধরণের দামের ওঠানামা ঘটছে।

রাজধানীর খিলক্ষেত, কারওয়ান বাজার, যাত্রাবাড়ি ও কৃষিমার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, কাঁচা পেঁপে ছাড়া সবজির দাম ৮০ থেকে ২৪০ টাকার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়, কাঁচা মরিচ ২৪০ টাকা, গোল বেগুন ১৪০ টাকা, করলা ও বরবটি ১০০ টাকা। শসা, ঢেঁড়স, পটল, ঝিঙা, কচুর লতি, ধুন্দল, কাঁকরোল ও লম্বা বেগুনের দাম ৮০ টাকার আশেপাশে রয়েছে। আর পেঁপে ক্রেতার জন্য এখন সাশ্রয়ী প্রতি কেজি ৩০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

ক্রেতাদের দুশ্চিন্তা ও বিক্রেতাদের দাবি

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাজারে আসা এক ক্রেতা জেসমিন জানান, “গত দুই মাস ধরে সবজির দামই বেড়েই চলেছে। মাছ-মাংসের পর এখন সবজিও সাধারণ ক্রেতার পক্ষে ক্রয়যোগ্য নয়।”

বিক্রেতারা বলছেন, মূলত বেশিরভাগ সবজির মৌসুম শেষ হওয়ায় সরবরাহ কম এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি থাকার কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কারওয়ান বাজারের একজন বিক্রেতা ফিরোজ জানান, দাম বাড়ার কারণে এক কেজি সবজি ক্রেতারা কিনলেও এখন মাত্র আধা কেজি কিনছে। ফলে, ব্যবসার পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

মুরগি ও ডিমের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি

মুরগির দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৬০-১৭০ টাকা। সোনালি মুরগি ৩২০-৩৪০ টাকা, লাল কক ২৮০-৩০০ টাকা, সাদা কক ৩০০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬০০-৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম বাড়ছে।

ডিমের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। লাল ডিমের প্রতি ডজন দাম ১৫০ টাকা, সাদা ডিম ১৪০ টাকা এবং হাঁসের ডিম ২৩৫ টাকা।

মাংস ও মাছের বাজার

গরু ও খাসির মাংসের দাম আপাতত অপরিবর্তিত। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০-৮০০ টাকা, খাসি ১২০০ টাকা এবং ছাগল ১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারেও দামের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। ইলিশের প্রতি কেজি দাম ২,২০০ টাকা, ৫০০-৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১,৬০০ টাকা, ৭০০-৮০০ গ্রাম ১,৮০০ টাকা এবং দেড় কেজি ওজনের ইলিশ ৩,০০০ টাকা। বোয়াল ৭৫০-৯০০, কোরাল ৮৫০, রুই ৩৮০-৪৫০, কাতল ৪৫০, ট্যাংরা ৭৫০-৮০০, কাঁচকি ৬৫০-৭০০ এবং মলা ৫০০-৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, “দাম ওঠার মূল কারণ হলো সীমিত সরবরাহ, আবহাওয়ার প্রভাব ও মৌসুমের শেষ হওয়া। যদি দ্রুত নতুন সবজির সরবরাহ না হয় এবং মুরগি ও মাছের উৎপাদন স্থিতিশীল না হয়, তাহলে এই ঊর্ধ্বমুখী দাম আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।”

রাজধানীর সাধারণ ক্রেতারা দুশ্চিন্তায় আছেন। অনেকেই বলছেন, “প্রতি বাজারে এসে এখন আমরা আগে যেমন সবজি কিনতাম, তেমনই কিনতে পারছি না। এখন খরচ বাড়ছে, আবার খাবারের পরিমাণ কমছে।”

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।