বিশ্ববাজারে সোনার দাম বাড়ল, দেশে ভরিতে ২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৬:৪৭:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
  • ৪ বার পঠিত হয়েছে

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে সোনার দাম। মার্কিন ডলারের মূল্য কমে যাওয়া এবং বিভিন্ন দেশের বন্ডের রিটার্ন কিছুটা নেমে আসায় মূল্যবান এই ধাতুটির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি ও ভবিষ্যৎ সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তাও সোনার চাহিদা বাড়াচ্ছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে সোনার দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৭০ দশমিক ১৯ ডলারে উঠেছে। তবে ডিসেম্বর ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারসের দাম ০ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪২৫ দশমিক ৪০ ডলারে নেমেছে।

একদিন পরই ঘুরে দাঁড়াল সোনা

এর আগের দিন মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ২ শতাংশের বেশি কমেছিল। যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও জাপানের দীর্ঘমেয়াদি ঋণের খরচ কয়েক দশকের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর প্রভাবে বন্ডবাজারে চাপ তৈরি হওয়াই এর অন্যতম কারণ।

তবে বুধবার বন্ড বিক্রির চাপ কিছুটা কমে আসায় মার্কিন ডলারের মূল্যও দুর্বল হয়েছে। এতে কোনো সুদ প্রদান না করা সোনা তুলনামূলক আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে বিনিয়োগকারীদের কাছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব অর্থনীতির গতিপথ, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নীতিগত অবস্থান-সবকিছুই বর্তমানে সোনার বাজারকে প্রভাবিত করছে।

ট্রাডু.কমের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক নিকোস জাবোরাস বলেন, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ফেডের নীতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা-দুই বিষয়ই বিনিয়োগকারীদের নজরে রয়েছে। ফলে স্বল্পমেয়াদে সোনার বাজারে ওঠানামা থাকতে পারে।

তার মতে, সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অবশ্য ধীরে ধীরে সোনার দাম বৃদ্ধির জন্য অনুকূল হয়ে উঠছে। মূল্যস্ফীতির চাপ কমার পাশাপাশি ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনাও বাজারে সোনার পক্ষে কাজ করতে পারে।

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজার

সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুতেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। বুধবার রুপার দাম ০ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৩ দশমিক ৪০ ডলারে নেমেছে।

অন্যদিকে প্ল্যাটিনামের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৭৩৪ দশমিক ৩২ ডলারে পৌঁছেছে। প্যালাডিয়ামের দামও ০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৯৪ দশমিক ৪৪ ডলারে উঠেছে।

দেশের বাজারে সোনার দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও বাংলাদেশের বাজারে বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ভ্যাটসহ ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৫ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৯৪ হাজার ২০৬ টাকা নির্ধারিত রয়েছে।

সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ টাকা।

রুপার দামও নির্ধারিত

দেশের বাজারে রুপার গহনার দামও ক্যারেটভেদে আলাদা। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৭৪ টাকা।

২১ ক্যারেটের রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৮৪১ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ১৯৯ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির রুপার প্রতি ভরির দাম ৩ হাজার ১৫৯ টাকা।

বিশ্ববাজারে ডলারের গতিপথ, বন্ডের রিটার্ন, মূল্যস্ফীতি এবং ফেডের সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ওপর সামনের দিনগুলোতে সোনার বাজারের গতিবিধি অনেকটাই নির্ভর করবে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ববাজারে সোনার দাম বাড়ল, দেশে ভরিতে ২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা

প্রকাশ: ০৬:৪৭:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে সোনার দাম। মার্কিন ডলারের মূল্য কমে যাওয়া এবং বিভিন্ন দেশের বন্ডের রিটার্ন কিছুটা নেমে আসায় মূল্যবান এই ধাতুটির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি ও ভবিষ্যৎ সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তাও সোনার চাহিদা বাড়াচ্ছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে সোনার দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৭০ দশমিক ১৯ ডলারে উঠেছে। তবে ডিসেম্বর ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারসের দাম ০ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪২৫ দশমিক ৪০ ডলারে নেমেছে।

একদিন পরই ঘুরে দাঁড়াল সোনা

এর আগের দিন মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ২ শতাংশের বেশি কমেছিল। যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও জাপানের দীর্ঘমেয়াদি ঋণের খরচ কয়েক দশকের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর প্রভাবে বন্ডবাজারে চাপ তৈরি হওয়াই এর অন্যতম কারণ।

তবে বুধবার বন্ড বিক্রির চাপ কিছুটা কমে আসায় মার্কিন ডলারের মূল্যও দুর্বল হয়েছে। এতে কোনো সুদ প্রদান না করা সোনা তুলনামূলক আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে বিনিয়োগকারীদের কাছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব অর্থনীতির গতিপথ, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নীতিগত অবস্থান-সবকিছুই বর্তমানে সোনার বাজারকে প্রভাবিত করছে।

ট্রাডু.কমের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক নিকোস জাবোরাস বলেন, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ফেডের নীতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা-দুই বিষয়ই বিনিয়োগকারীদের নজরে রয়েছে। ফলে স্বল্পমেয়াদে সোনার বাজারে ওঠানামা থাকতে পারে।

তার মতে, সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অবশ্য ধীরে ধীরে সোনার দাম বৃদ্ধির জন্য অনুকূল হয়ে উঠছে। মূল্যস্ফীতির চাপ কমার পাশাপাশি ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনাও বাজারে সোনার পক্ষে কাজ করতে পারে।

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজার

সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুতেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। বুধবার রুপার দাম ০ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৩ দশমিক ৪০ ডলারে নেমেছে।

অন্যদিকে প্ল্যাটিনামের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৭৩৪ দশমিক ৩২ ডলারে পৌঁছেছে। প্যালাডিয়ামের দামও ০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৯৪ দশমিক ৪৪ ডলারে উঠেছে।

দেশের বাজারে সোনার দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও বাংলাদেশের বাজারে বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ভ্যাটসহ ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৫ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৯৪ হাজার ২০৬ টাকা নির্ধারিত রয়েছে।

সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ টাকা।

রুপার দামও নির্ধারিত

দেশের বাজারে রুপার গহনার দামও ক্যারেটভেদে আলাদা। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৭৪ টাকা।

২১ ক্যারেটের রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৮৪১ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ১৯৯ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির রুপার প্রতি ভরির দাম ৩ হাজার ১৫৯ টাকা।

বিশ্ববাজারে ডলারের গতিপথ, বন্ডের রিটার্ন, মূল্যস্ফীতি এবং ফেডের সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ওপর সামনের দিনগুলোতে সোনার বাজারের গতিবিধি অনেকটাই নির্ভর করবে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।