তৈরি পোশাক খাত: অর্ডার কমছে, সুযোগ নিচ্ছে ভারত

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০২:৪১:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১ বার পঠিত হয়েছে

পোশাকশিল্প মালিকেরা বলছেন, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের নেপথ্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে লিড টাইম। দ্রুত পরিবর্তনশীল ফ্যাশন পণ্যের ক্ষেত্রে একটি মৌসুমের পোশাক বাজারে পৌঁছাতে কয়েক সপ্তাহ দেরি হলে পুরো বিপণন পরিকল্পনা ও বিক্রি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলো এখন এমন দেশের দিকে ঝুঁকছে, যেখানে অর্ডারের পর দ্রুত পণ্য তৈরি করে জাহাজে পাঠানো সম্ভব।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে একটি অর্ডারের পণ্য জাহাজে তুলতে গড়ে ৬০-৯৫ দিন সময় লাগে, যেখানে ভারতে পণ্য তুলতে লাগে ৪৫-৬০ দিন। অন্যান্য প্রতিযোগী দেশের মধ্যে ভিয়েতনামে লাগে ৬০ দিন এবং চীনে লাগে মাত্র ৩২ দিন। সময়ের এই বড় ব্যবধানই আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের ভারতসহ অন্য বিকল্প দেশের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

শিল্প মালিকেরা আরও বলছেন, শুধু শিপমেন্টে দীর্ঘসূত্রতাই একমাত্র কারণ নয়। ক্রেতার বেঁধে দেওয়া সময় অনুযায়ী পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ দেওয়ার ক্ষেত্রেও বড় জটিলতা তৈরি হচ্ছে। চলমান জ্বালানিসংকট এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী। বিশেষ করে সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের টেক্সটাইল ও ডাইং কারখানাগুলোতে গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় নিয়মিত উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। উৎপাদনেও গুনতে হচ্ছে বাড়তি খরচ। অনেক কারখানা বাধ্য হয়ে ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করছে, যা উৎপাদন খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর পাশাপাশি জ্বালানি তেলের দাম এবং কারখানা থেকে চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত কনটেইনার পরিবহনের খরচও অস্বাভাবিক বেড়েছে।

বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে শিল্পে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম প্রায় ২৮৬ শতাংশ এবং বিদ্যুতের দাম ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। ২০২৪ সালে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৫৬ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশের সমস্যা মূলত মূল উৎপাদন সক্ষমতায় নয়; সমস্যা উৎপাদনের ধারাবাহিকতা, স্থিতিশীলতা ও সময়সীমা নিশ্চিত করতে না পারায়। বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পরিবেশবান্ধব সবুজ কারখানার স্বীকৃতি বাংলাদেশেই রয়েছে। এ দেশের দক্ষ শ্রমশক্তি ও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ভিত্তি যথেষ্ট মজবুত। কিন্তু নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ, দ্রুত বন্দর সেবা, লিড টাইম কমিয়ে আনা এবং স্থিতিশীল ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করতে না পারলে আন্তর্জাতিক বাজারে এই আধিপত্য ধরে রাখা কঠিন হবে। আজ যে কার্যাদেশের একটি অংশ ভারতমুখী হচ্ছে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে তা আরও বড় ঝুঁকিতে রূপ নিতে পারে।

বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, কারখানা ক্যাপাসিটি অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়লে কোম্পানির প্রতি বায়ারদের বিশ্বাসযোগ্যতা কমে যায়। সুতরাং সরকারের নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্য বিকল্পব্যবস্থা করতে হবে।

জানতে চাইলে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো পরিচালক (নীতি পরিকল্পনা বিভাগ) আবু মোখলেছ আলমগীর হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে কিছু বায়ারের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে লিড টাইমে পণ্যপ্রাপ্তি নিয়ে। এ ছাড়াও এলডিসি-পরবর্তী ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পক্ষান্তরে ভারত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএ করেছে। ফলে স্থিতিশীলতার খাতিরে কিছু বায়ার চলে যাচ্ছে।

আবু মোখলেছ অবশ্য দাবি করেন, ‘এলডিসি থেকে উত্তরণের আগে আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএ করব, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। আশা করছি, মার্কেটে তার প্রভাব পড়বে না।’

রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডের (বিডিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার…

নাগরিক সেবা আরও সহজ ও আধুনিক করার পাশাপাশি রাজস্ব আদায় কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে ৫টি ব্যাংকের সঙ্গে পৃথক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে ডিএসসিসি। ব্যাংকগুলো হলো ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, সীমান্ত ব্যাংক পিএলসি এবং জনতা ব্যাংক পিএলসি।

বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। ফলে ভোক্তাদের এখন থেকে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন কিনতে হবে ২০৪ টাকায়। এত দিন ছিল লিটার ১৯৯ টাকা। তবে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে…

জনপ্রিয় টার্গেট

তৈরি পোশাক খাত: অর্ডার কমছে, সুযোগ নিচ্ছে ভারত

প্রকাশ: ০২:৪১:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পোশাকশিল্প মালিকেরা বলছেন, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের নেপথ্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে লিড টাইম। দ্রুত পরিবর্তনশীল ফ্যাশন পণ্যের ক্ষেত্রে একটি মৌসুমের পোশাক বাজারে পৌঁছাতে কয়েক সপ্তাহ দেরি হলে পুরো বিপণন পরিকল্পনা ও বিক্রি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলো এখন এমন দেশের দিকে ঝুঁকছে, যেখানে অর্ডারের পর দ্রুত পণ্য তৈরি করে জাহাজে পাঠানো সম্ভব।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে একটি অর্ডারের পণ্য জাহাজে তুলতে গড়ে ৬০-৯৫ দিন সময় লাগে, যেখানে ভারতে পণ্য তুলতে লাগে ৪৫-৬০ দিন। অন্যান্য প্রতিযোগী দেশের মধ্যে ভিয়েতনামে লাগে ৬০ দিন এবং চীনে লাগে মাত্র ৩২ দিন। সময়ের এই বড় ব্যবধানই আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের ভারতসহ অন্য বিকল্প দেশের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

শিল্প মালিকেরা আরও বলছেন, শুধু শিপমেন্টে দীর্ঘসূত্রতাই একমাত্র কারণ নয়। ক্রেতার বেঁধে দেওয়া সময় অনুযায়ী পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ দেওয়ার ক্ষেত্রেও বড় জটিলতা তৈরি হচ্ছে। চলমান জ্বালানিসংকট এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী। বিশেষ করে সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের টেক্সটাইল ও ডাইং কারখানাগুলোতে গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় নিয়মিত উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। উৎপাদনেও গুনতে হচ্ছে বাড়তি খরচ। অনেক কারখানা বাধ্য হয়ে ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করছে, যা উৎপাদন খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর পাশাপাশি জ্বালানি তেলের দাম এবং কারখানা থেকে চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত কনটেইনার পরিবহনের খরচও অস্বাভাবিক বেড়েছে।

বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে শিল্পে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম প্রায় ২৮৬ শতাংশ এবং বিদ্যুতের দাম ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। ২০২৪ সালে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৫৬ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশের সমস্যা মূলত মূল উৎপাদন সক্ষমতায় নয়; সমস্যা উৎপাদনের ধারাবাহিকতা, স্থিতিশীলতা ও সময়সীমা নিশ্চিত করতে না পারায়। বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পরিবেশবান্ধব সবুজ কারখানার স্বীকৃতি বাংলাদেশেই রয়েছে। এ দেশের দক্ষ শ্রমশক্তি ও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ভিত্তি যথেষ্ট মজবুত। কিন্তু নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ, দ্রুত বন্দর সেবা, লিড টাইম কমিয়ে আনা এবং স্থিতিশীল ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করতে না পারলে আন্তর্জাতিক বাজারে এই আধিপত্য ধরে রাখা কঠিন হবে। আজ যে কার্যাদেশের একটি অংশ ভারতমুখী হচ্ছে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে তা আরও বড় ঝুঁকিতে রূপ নিতে পারে।

বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, কারখানা ক্যাপাসিটি অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়লে কোম্পানির প্রতি বায়ারদের বিশ্বাসযোগ্যতা কমে যায়। সুতরাং সরকারের নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্য বিকল্পব্যবস্থা করতে হবে।

জানতে চাইলে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো পরিচালক (নীতি পরিকল্পনা বিভাগ) আবু মোখলেছ আলমগীর হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে কিছু বায়ারের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে লিড টাইমে পণ্যপ্রাপ্তি নিয়ে। এ ছাড়াও এলডিসি-পরবর্তী ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পক্ষান্তরে ভারত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএ করেছে। ফলে স্থিতিশীলতার খাতিরে কিছু বায়ার চলে যাচ্ছে।

আবু মোখলেছ অবশ্য দাবি করেন, ‘এলডিসি থেকে উত্তরণের আগে আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএ করব, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। আশা করছি, মার্কেটে তার প্রভাব পড়বে না।’

রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডের (বিডিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার…

নাগরিক সেবা আরও সহজ ও আধুনিক করার পাশাপাশি রাজস্ব আদায় কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে ৫টি ব্যাংকের সঙ্গে পৃথক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে ডিএসসিসি। ব্যাংকগুলো হলো ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, সীমান্ত ব্যাংক পিএলসি এবং জনতা ব্যাংক পিএলসি।

বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। ফলে ভোক্তাদের এখন থেকে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন কিনতে হবে ২০৪ টাকায়। এত দিন ছিল লিটার ১৯৯ টাকা। তবে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে…