জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে আজ শনিবার সকালে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, কোথাও কোথাও গলির ভেতর থেকে ককটেল ও বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হচ্ছে। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে এসব কর্মকাণ্ডের নির্দেশনা আসছে। জনগণ এসব অপচেষ্টা যথাযথভাবে প্রতিহত করবে। সরকার এ ব্যাপারে সদা প্রস্তুত রয়েছে। তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করা ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড জনগণ পর্যবেক্ষণ করছে। জনগণ এসব বিষয় কখনো ক্ষমা করবে না।
২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে তৎকালীন সরকার আবারও জনগণের অধিকার কেড়ে নেয় মন্তব্য করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, সেসময় দেশকে ভয়াবহ ফ্যাসিবাদের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়। গুম, খুন ও গুপ্তহত্যার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা হয়। মানুষ ভয়ে কথা বলতে পারত না, রাস্তায় চলাচল করতেও ভয় পেত। এমন পরিস্থিতিতে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতা ও শ্রমিকেরা রাজপথে নেমে আসে এবং গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন ঘটাতে বাধ্য করে।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পেছনে ছিল ৭ নভেম্বরের চেতনা। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের অব্যাহত ধারা নিশ্চিত করার প্রত্যয় নিয়েই এ দেশের মানুষ জুলাইয়ে আন্দোলনে নেমেছিল।
তিনি বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। বিএনপি সরকার ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন ও বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশ কোনো আধিপত্যবাদের থাবার মধ্যে পড়বে না। দেশের সার্বভৌমত্ব শক্তিশালী করার অঙ্গীকার নিয়েই ৭ নভেম্বরের বিপ্লব ও পরবর্তী সময়ে দেশের মানুষ গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষার প্রত্যয় খুঁজে পেয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিভিন্ন কর্মসূচি প্রসঙ্গে রুহুল কবির রিজভী বলেন, তিনি ক্ষমতায় আসার আগে জনগণকে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেগুলো বাস্তবায়নে কাজ করছেন। তিনি কোনো মিথ্যা আশ্বাস বা প্রতিশ্রুতি দেননি। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে হতদরিদ্র মানুষকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দুই-তিন দিন পর থেকেই এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছেন।
এ সময় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আব্দুস সালাম উপস্থিত ছিলেন।

দৈনিক টার্গেট 



























