শুক্রবার (৬ নভেম্বর) আল-জাজিরা জানায়, গত মঙ্গলবার ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির উপপ্রধান আমির হায়াত মোঘাদ্দাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারের নাম উল্লেখ করে ইরানিয়ান স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সিকে (আইএসএনএ) বলেন, ‘এই দেশগুলোর জাহাজ অবাধে চলাচল করছে। যুক্তরাষ্ট্রও সেগুলোতে বাধা দিচ্ছে না।’
তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই সিদ্ধান্তের পেছনে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ থাকলেও রয়েছে কূটনৈতিক ঝুঁকি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় তেহরান। পরে জুলাইয়ে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলোতে পুনরায় নৌ অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানি আইনপ্রণেতার ভাষ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে ওষুধ এবং চীনের কাছ থেকে রাজনৈতিক সমর্থন পাওয়ার বিনিময়ে দেশ দুটিকে চলাচলের সুযোগ দিচ্ছে তেহরান। তবে ভারত ও চীনের জাহাজ থেকে ট্রানজিট ফি আদায় করছে ইরান। কাতারের জাহাজকে কোনো শুল্ক দিতে হচ্ছে না। ইরাকের ক্ষেত্রে কোনো ফি নেওয়া হচ্ছে কি না, তা অবশ্য স্পষ্ট করেননি তিনি।
অস্ট্রিয়ার সাবেক প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক উলফগ্যাং পুস্তাইয়ের মতে, এই উদ্যোগ সফল হলে ইরান উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় করতে পারে। কারণ, চীন ইরানের অপরিশোধিত তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। দেশটির মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই কেনে চীন।
ভারতের জন্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া বড় ধরনের ক্ষতি। একই সঙ্গে দেশটি ইরানের প্রয়োজনীয় ওষুধের একটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী। কাতারও ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। কারণ, দেশটির জ্বালানি রপ্তানি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ইরান গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী।
তবে এই ছাড় পুরোপুরি নতুন নয়। যুদ্ধ শুরুর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইরান বন্ধুত্বপূর্ণ কয়েকটি দেশের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে শুরু করে। এপ্রিলে ইরানের সামরিক কমান্ড ইরাককে ‘ভ্রাতৃপ্রতিম’ দেশ উল্লেখ করে ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের এই উদ্যোগ মেনে নিলে তাদের অবরোধ কার্যকর রাখা কঠিন হতে পারে। তবে জাহাজের জাতীয়তা বলতে সেটির পতাকা, মালিকানা নাকি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানকে বোঝানো হচ্ছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

দৈনিক টার্গেট 
























