ক্ষমার আদর্শ ও মানবিক সৌন্দর্য

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৮:৩৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪৩ বার পঠিত হয়েছে

পবিত্র কোরআন ও হাদিসে ক্ষমার সুউচ্চ মর্যাদা ও মহত্ত্ব স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সুরা আরাফের ১৯৯ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন, ‘তুমি ক্ষমাশীলতার নীতি অবলম্বন করো, সৎকাজের নির্দেশ দাও এবং অজ্ঞদের এড়িয়ে চলো।’

সুরা আলে ইমরানের ১৩৪ নম্বর আয়াতে সৎকর্মশীল মুমিনদের গুণাবলি বর্ণনা করতে গিয়ে আল্লাহ বলেন, আর যারা নিজেদের রাগ সংবরণ করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে; মূলত আল্লাহ সৎকর্মশীলদেরই ভালোবাসেন।’

প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও যারা অকাতরে ক্ষমা করে দেয়, মহান আল্লাহ তাদের জন্য সুসংবাদ ও মহা প্রতিদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ক্ষমা ও উদারতার ইতিহাসে সবচেয়ে কালজয়ী ও বাস্তব দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। সুদীর্ঘ ১৩ বছর ধরে মক্কার ভূমিতে কাফেরদের অমানুষিক নির্যাতন, স্বজন হারানো এবং স্বদেশের মায়া ত্যাগের মতো কঠিন জুলুম সহ্য করেছিলেন তিনি। কিন্তু পরে ঐতিহাসিক মক্কা বিজয়ের দিনে বিজয়ী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে প্রবেশ করে শত অত্যাচারী শত্রুকে সামনে পেয়েও তিনি কোনো প্রতিশোধ নেননি। অসীম মমতায় সেদিন তিনি ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছিলেন. ‘আজ তোমাদের বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই; যাও, তোমরা সবাই স্বাধীন ও মুক্ত!’

ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে ক্ষমার ইতিবাচক প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। এটি মানুষের আত্মিক অহংকার ও অন্তরের হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে মনকে প্রসন্ন করে। সমাজে বিদ্যমান কলহ, সংঘাত ও দূরত্ব ঘুচিয়ে পারস্পরিক সৌহার্দ্যের সেতু গড়ে তোলার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম হলো মার্জনা। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি অন্যকে ক্ষমা করে, আল্লাহ তাআলা তার সামাজিক ও আত্মিক মর্যাদা বহুগুণ বাড়িয়ে দেন।’ (সহিহ মুসলিম)

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা জ্ঞানীদের সুউচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সুরা জুমারের ৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা প্রশ্নের ছলে ইরশাদ করেন, ‘বলুন, যারা জানে আর যারা জানে না, তারা কি সমান হতে পারে?’ এই প্রশ্নের মধ্য দিয়েই সাধারণ মানুষের চেয়ে জ্ঞানীদের অনন্য ও সুউচ্চ অবস্থান…

একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।

আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার বিশ্বমঞ্চে এবার বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকার গৌরব উড্ডীন করলেন হাফেজ শেখ সাদ মুহাম্মাদ নূর। যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারের বোল্টনে অনুষ্ঠিত ‘হাবিবুল কোরআন ইউকে’ আয়োজিত ‘ইন্টারন্যাশনাল হিফজুল কোরআন কমপিটিশন-২০২৬ ’-এ তিনি তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন।

জনপ্রিয় টার্গেট

বরিশালে মাদ্রাসার সভাপতি নিয়ে চরমোনাই ও বিএনপিতে উত্তেজনা

ক্ষমার আদর্শ ও মানবিক সৌন্দর্য

প্রকাশ: ০৮:৩৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পবিত্র কোরআন ও হাদিসে ক্ষমার সুউচ্চ মর্যাদা ও মহত্ত্ব স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সুরা আরাফের ১৯৯ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন, ‘তুমি ক্ষমাশীলতার নীতি অবলম্বন করো, সৎকাজের নির্দেশ দাও এবং অজ্ঞদের এড়িয়ে চলো।’

সুরা আলে ইমরানের ১৩৪ নম্বর আয়াতে সৎকর্মশীল মুমিনদের গুণাবলি বর্ণনা করতে গিয়ে আল্লাহ বলেন, আর যারা নিজেদের রাগ সংবরণ করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে; মূলত আল্লাহ সৎকর্মশীলদেরই ভালোবাসেন।’

প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও যারা অকাতরে ক্ষমা করে দেয়, মহান আল্লাহ তাদের জন্য সুসংবাদ ও মহা প্রতিদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ক্ষমা ও উদারতার ইতিহাসে সবচেয়ে কালজয়ী ও বাস্তব দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। সুদীর্ঘ ১৩ বছর ধরে মক্কার ভূমিতে কাফেরদের অমানুষিক নির্যাতন, স্বজন হারানো এবং স্বদেশের মায়া ত্যাগের মতো কঠিন জুলুম সহ্য করেছিলেন তিনি। কিন্তু পরে ঐতিহাসিক মক্কা বিজয়ের দিনে বিজয়ী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে প্রবেশ করে শত অত্যাচারী শত্রুকে সামনে পেয়েও তিনি কোনো প্রতিশোধ নেননি। অসীম মমতায় সেদিন তিনি ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছিলেন. ‘আজ তোমাদের বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই; যাও, তোমরা সবাই স্বাধীন ও মুক্ত!’

ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে ক্ষমার ইতিবাচক প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। এটি মানুষের আত্মিক অহংকার ও অন্তরের হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে মনকে প্রসন্ন করে। সমাজে বিদ্যমান কলহ, সংঘাত ও দূরত্ব ঘুচিয়ে পারস্পরিক সৌহার্দ্যের সেতু গড়ে তোলার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম হলো মার্জনা। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি অন্যকে ক্ষমা করে, আল্লাহ তাআলা তার সামাজিক ও আত্মিক মর্যাদা বহুগুণ বাড়িয়ে দেন।’ (সহিহ মুসলিম)

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা জ্ঞানীদের সুউচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সুরা জুমারের ৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা প্রশ্নের ছলে ইরশাদ করেন, ‘বলুন, যারা জানে আর যারা জানে না, তারা কি সমান হতে পারে?’ এই প্রশ্নের মধ্য দিয়েই সাধারণ মানুষের চেয়ে জ্ঞানীদের অনন্য ও সুউচ্চ অবস্থান…

একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।

আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার বিশ্বমঞ্চে এবার বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকার গৌরব উড্ডীন করলেন হাফেজ শেখ সাদ মুহাম্মাদ নূর। যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারের বোল্টনে অনুষ্ঠিত ‘হাবিবুল কোরআন ইউকে’ আয়োজিত ‘ইন্টারন্যাশনাল হিফজুল কোরআন কমপিটিশন-২০২৬ ’-এ তিনি তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন।