০৫:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওমরাহ করার নিয়ম: ইহরাম থেকে তাওয়াফ পর্যন্ত পূর্ণ গাইড

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৫:২৮:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
  • ১০ বার পঠিত হয়েছে

সঠিক জ্ঞান, প্রস্তুতি ও সুন্নাহসম্মত পন্থায় ওমরাহ সম্পন্ন করলে তা আল্লাহর দরবারে কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়। ওমরাহর প্রস্তুতি থেকে শুরু করে এর রুকনসমূহ এবং জরুরি মাসআলা-মাসায়েল নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ গাইড নিচে তুলে ধরা হলো:

ওমরাহ সফরে যাওয়ার আগে প্রশাসনিক, শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সফর শুরুর পূর্বে নিচের বিষয়গুলো নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত:

পুরুষদের জন্য: দুই সেট সেলাইবিহীন সাদা ইহরামের কাপড় ও ইহরামের উপযোগী ফিতেযুক্ত স্যান্ডেল।

নারীদের জন্য: শালীন ও পর্যাপ্ত আরামদায়ক ঢিলেঢালা পোশাক, হিজাব ও ওড়না।

সাধারণ সামগ্রী: মোবাইল, চার্জার, পাওয়ার ব্যাংক, ছোট ব্যাগ, জুতা রাখার ব্যাগ, সুগন্ধিবিহীন সাবান-শ্যাম্পু, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং একটি নির্ভরযোগ্য দোয়া ও মাসায়েলের বই।

ওমরাহ সম্পন্ন হওয়ার মূল কাজ মূলত চারটি। এই কাজগুলো সঠিক নিয়মে সম্পন্ন করলেই ওমরাহ পূর্ণ হয়:

মিকাত অতিক্রম করার আগেই ইহরামের প্রস্তুতি নিতে হবে।

শরীরের পরিচ্ছন্নতা: ভালো করে গোসল করা, নখ ও অবাঞ্ছিত লোম পরিষ্কার করা এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা (ইহরামের নিয়তের আগে)।

পোশাক পরিধান: পুরুষেরা দুই টুকরা সেলাইবিহীন সাদা চাদর পরবেন (ডান কাঁধ খোলা রেখে)। নারীরা তাঁদের স্বাভাবিক শালীন পোশাক পরিধান করবেন (নিকাব ও হাতমোজা পরা নিষিদ্ধ)।

ওমরাহর নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা মুস্তাহাব।

অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আপনার জন্য ওমরাহর ইচ্ছা করছি, আপনি তা আমার জন্য সহজ করে দিন এবং কবুল করুন।

নিয়তের পর থেকে উচ্চস্বরে (নারীরা নিচু স্বরে) তালবিয়া পড়তে শুরু করবেন এবং মক্কায় পৌঁছে তাওয়াফ শুরুর আগ পর্যন্ত এটি পড়তে থাকবেন।

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি হাজির, আমি হাজির। আপনার কোনো শরিক নেই। আমি হাজির। নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা, নিয়ামত ও রাজত্ব কেবল আপনারই। আপনার কোনো শরিক নেই।’

মক্কায় পৌঁছে হোটেলে বিশ্রামের পর ওমরাহর উদ্দেশ্যে মসজিদুল হারামে প্রবেশ করতে হবে।

ডান পা দিয়ে মসজিদে প্রবেশ করে এই দোয়া পড়বেন:

بِسْمِ اللَّهِ، وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ، اللَّهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ.

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি ওয়াসসালাতু ওয়াসসালামু আলা রাসূলিল্লাহ। আল্লাহুম্মাফতাহলি আবওয়াবা রাহমাতিক।

অর্থ: ‘আল্লাহর নামে শুরু করছি। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক। হে আল্লাহ! আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাগুলো খুলে দিন।’

প্রথমবার কাবা শরিফ দেখার পর আল্লাহর অশেষ প্রশংসা করবেন এবং নিজের ও মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করবেন।

তাওয়াফ হলো পবিত্র কাবা শরিফকে কেন্দ্র করে চারপাশ দিয়ে সাতবার প্রদক্ষিণ করা।

হাজরে আসওয়াদের বরাবর এসে তাওয়াফ শুরু করতে হবে। সম্ভব হলে হাজরে আসওয়াদে চুমা দেবেন, ভিড় থাকলে দূর থেকে হাত দিয়ে ইশারা করে বলবেন: ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার।’

কাবা শরিফকে সব সময় বাম পাশে রেখে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে হাঁটবেন। পুরুষেরা প্রথম তিন চক্করে একটু দ্রুত হাঁটবেন (যাকে রমল বলে) এবং ডান কাঁধ খোলা রাখবেন (যাকে বলে ইজতিবা)। অবশিষ্ট চার চক্কর স্বাভাবিকভাবে হাঁটবেন।

রুকনে ইয়ামানি ও হাজরে আসওয়াদ: রুকনে ইয়ামানি থেকে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত এই বিশেষ দোয়াটি পড়া সুন্নত—

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

উচ্চারণ: ‘রব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাহ। ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাহ। ওয়া কিনা আজাবান নার।’

অর্থ: হে আমাদের রব! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন, আখিরাতেও কল্যাণ দান করুন। আর জাহান্নামের শাস্তি থেকে আমাদের রক্ষা করুন। (সুরা বাকারা: ২০১)

তাওয়াফ শেষ করার পর মাকামে ইব্রাহিমের পেছনে (কিংবা হারামের যেকোনো সুবিধাজনক স্থানে) দুই রাকাত ওয়াজিবুত তাওয়াফ নামাজ আদায় করবেন। প্রথম রাকাতে সুরা কাফিরুন এবং দ্বিতীয় রাকাতে সুরা ইখলাস পড়া সুন্নত।

নামাজ শেষে তৃপ্তি সহকারে জমজমের পানি পান করবেন এবং এই দোয়া পড়বেন:

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا، وَرِزْقًا وَاسِعًا، وَشِفَاءً مِنْ كُلِّ دَاءٍ.

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ইলমান নাফিআ, ওয়া রিজকান ওয়াসিআ, ওয়া শিফাআন মিন কুল্লি দাঈ।

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে উপকারী জ্ঞান, প্রশস্ত রিজিক এবং সব ধরনের রোগ থেকে মুক্তি প্রার্থনা করছি।’

সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে সাতবার যাতায়াত করাকে সায়ি বলা হয়।

সাফা পাহাড় থেকে সায়ি শুরু করতে হবে। সাফার কাছে পৌঁছে পবিত্র কোরআনের এই আয়াতটি পড়া সুন্নত—

إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ.

উচ্চারণ: ‘ইন্নাস সাফা ওয়াল মারওয়াতাম মিন শাআইরিল্লাহ।’

অর্থ: ‘নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনগুলোর অন্তর্ভুক্ত। (সুরা বাকারা: ১৫৮)

সাফা থেকে মারওয়া যাওয়া হলো ১ বার, আর মারওয়া থেকে সাফা ফিরে আসা হলো ২ বার। এভাবে মোট ৭ বার যাতায়াত করে মারওয়া পাহাড়ে গিয়ে সায়ি শেষ করতে হবে।

দুই সবুজ বাতি চিহ্নিত নির্দিষ্ট স্থানের মধ্যে পুরুষেরা একটু দ্রুত হাঁটবেন, আর নারীরা স্বাভাবিকভাবে হাঁটবেন।

সম্পূর্ণ মাথার চুল মুণ্ডন করা (হলক) উত্তম; তবে চাইলে সমস্ত মাথা থেকে সমানভাবে ছোট (কসর) করতে পারেন।

নারীরা কখনোই মাথা মুণ্ডন করবেন না; বরং চুলের শেষ প্রান্ত থেকে আনুমানিক এক ইঞ্চি পরিমাণ চুল কেটে ফেলবেন।

এই কাজটি সম্পন্ন করার সঙ্গে সঙ্গেই আপনার ওমরাহ পূর্ণ হয়ে যাবে এবং ইহরামের যাবতীয় নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে। এরপর আপনি স্বাভাবিক পোশাক পরতে পারবেন।

ইহরাম বাঁধার পর থেকে হালাল হওয়া পর্যন্ত কয়েকটি বিষয় থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকতে হবে:

ট্রেন বা বিমানে ভ্রমণের সময় মিকাত অতিক্রম করার আগেই ইহরামের নিয়ত ও প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে।

সাত চক্করের হিসাব সঠিকভাবে রাখতে হবে, সন্দেহ হলে কমটি ধরে হিসাব মেলাতে হবে।

হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করার জন্য অতিরিক্ত ধাক্কাধাক্কি করে অন্যকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।

তাওয়াফ বা সায়ির প্রতিটি চক্করের জন্য কোনো নির্দিষ্ট দোয়া আবশ্যক নয়; নিজের মাতৃভাষায় যেকোনো কল্যাণকর দোয়া করা যায়।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক ও সুন্দরভাবে ওমরাহ পালনের তৌফিক দান করুন।

সকাল-সন্ধ্যার গুরুত্বপূর্ণ জিকির ও আমল

সকাল-সন্ধ্যার গুরুত্বপূর্ণ জিকির ও আমল

সারা দিনের ব্যস্ততা ও ক্লান্তি শেষে শান্তির বার্তা নিয়ে যেমন সন্ধ্যা নেমে আসে, তেমনি আরেকটি নতুন দিনের সূচনা হয় ভোরের আলোয়। মুমিনের জীবনে সকাল ও সন্ধ্যার নির্দিষ্ট কিছু জিকির ও দোয়া আত্মিক প্রশান্তি অর্জনের পাশাপাশি আল্লাহর বিশেষ রহমত ও সুরক্ষা নিশ্চিত করে।

আজকের নামাজের সময়সূচি: ০৮ নভেম্বর ২০২৬

আজকের নামাজের সময়সূচি: ০৮ নভেম্বর ২০২৬

নামাজ আমাদের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।

বৃষ্টি হওয়ার সময় পড়ার দোয়া

বৃষ্টি হওয়ার সময় পড়ার দোয়া

বৃষ্টি আল্লাহ তাআলার বিশেষ নেয়ামত। বৃষ্টির মাধ্যমে শুকনো জমিন প্রাণ ফিরে পায়, ফসল উৎপাদিত হয়, মানুষ ও প্রাণিকুলের পানির চাহিদা পূরণ হয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বৃষ্টিকে তাঁর রহমত ও কুদরতের নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাই বৃষ্টি শুরু হলে মুমিনের উচিত আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা।

জনপ্রিয় টার্গেট

সন্তান না হওয়ার আক্ষেপে ভাঙল ৭ বছরের সংসার

ওমরাহ করার নিয়ম: ইহরাম থেকে তাওয়াফ পর্যন্ত পূর্ণ গাইড

প্রকাশ: ০৫:২৮:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

সঠিক জ্ঞান, প্রস্তুতি ও সুন্নাহসম্মত পন্থায় ওমরাহ সম্পন্ন করলে তা আল্লাহর দরবারে কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়। ওমরাহর প্রস্তুতি থেকে শুরু করে এর রুকনসমূহ এবং জরুরি মাসআলা-মাসায়েল নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ গাইড নিচে তুলে ধরা হলো:

ওমরাহ সফরে যাওয়ার আগে প্রশাসনিক, শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সফর শুরুর পূর্বে নিচের বিষয়গুলো নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত:

পুরুষদের জন্য: দুই সেট সেলাইবিহীন সাদা ইহরামের কাপড় ও ইহরামের উপযোগী ফিতেযুক্ত স্যান্ডেল।

নারীদের জন্য: শালীন ও পর্যাপ্ত আরামদায়ক ঢিলেঢালা পোশাক, হিজাব ও ওড়না।

সাধারণ সামগ্রী: মোবাইল, চার্জার, পাওয়ার ব্যাংক, ছোট ব্যাগ, জুতা রাখার ব্যাগ, সুগন্ধিবিহীন সাবান-শ্যাম্পু, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং একটি নির্ভরযোগ্য দোয়া ও মাসায়েলের বই।

ওমরাহ সম্পন্ন হওয়ার মূল কাজ মূলত চারটি। এই কাজগুলো সঠিক নিয়মে সম্পন্ন করলেই ওমরাহ পূর্ণ হয়:

মিকাত অতিক্রম করার আগেই ইহরামের প্রস্তুতি নিতে হবে।

শরীরের পরিচ্ছন্নতা: ভালো করে গোসল করা, নখ ও অবাঞ্ছিত লোম পরিষ্কার করা এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা (ইহরামের নিয়তের আগে)।

পোশাক পরিধান: পুরুষেরা দুই টুকরা সেলাইবিহীন সাদা চাদর পরবেন (ডান কাঁধ খোলা রেখে)। নারীরা তাঁদের স্বাভাবিক শালীন পোশাক পরিধান করবেন (নিকাব ও হাতমোজা পরা নিষিদ্ধ)।

ওমরাহর নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা মুস্তাহাব।

অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আপনার জন্য ওমরাহর ইচ্ছা করছি, আপনি তা আমার জন্য সহজ করে দিন এবং কবুল করুন।

নিয়তের পর থেকে উচ্চস্বরে (নারীরা নিচু স্বরে) তালবিয়া পড়তে শুরু করবেন এবং মক্কায় পৌঁছে তাওয়াফ শুরুর আগ পর্যন্ত এটি পড়তে থাকবেন।

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি হাজির, আমি হাজির। আপনার কোনো শরিক নেই। আমি হাজির। নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা, নিয়ামত ও রাজত্ব কেবল আপনারই। আপনার কোনো শরিক নেই।’

মক্কায় পৌঁছে হোটেলে বিশ্রামের পর ওমরাহর উদ্দেশ্যে মসজিদুল হারামে প্রবেশ করতে হবে।

ডান পা দিয়ে মসজিদে প্রবেশ করে এই দোয়া পড়বেন:

بِسْمِ اللَّهِ، وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ، اللَّهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ.

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি ওয়াসসালাতু ওয়াসসালামু আলা রাসূলিল্লাহ। আল্লাহুম্মাফতাহলি আবওয়াবা রাহমাতিক।

অর্থ: ‘আল্লাহর নামে শুরু করছি। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক। হে আল্লাহ! আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাগুলো খুলে দিন।’

প্রথমবার কাবা শরিফ দেখার পর আল্লাহর অশেষ প্রশংসা করবেন এবং নিজের ও মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করবেন।

তাওয়াফ হলো পবিত্র কাবা শরিফকে কেন্দ্র করে চারপাশ দিয়ে সাতবার প্রদক্ষিণ করা।

হাজরে আসওয়াদের বরাবর এসে তাওয়াফ শুরু করতে হবে। সম্ভব হলে হাজরে আসওয়াদে চুমা দেবেন, ভিড় থাকলে দূর থেকে হাত দিয়ে ইশারা করে বলবেন: ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার।’

কাবা শরিফকে সব সময় বাম পাশে রেখে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে হাঁটবেন। পুরুষেরা প্রথম তিন চক্করে একটু দ্রুত হাঁটবেন (যাকে রমল বলে) এবং ডান কাঁধ খোলা রাখবেন (যাকে বলে ইজতিবা)। অবশিষ্ট চার চক্কর স্বাভাবিকভাবে হাঁটবেন।

রুকনে ইয়ামানি ও হাজরে আসওয়াদ: রুকনে ইয়ামানি থেকে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত এই বিশেষ দোয়াটি পড়া সুন্নত—

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

উচ্চারণ: ‘রব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাহ। ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাহ। ওয়া কিনা আজাবান নার।’

অর্থ: হে আমাদের রব! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন, আখিরাতেও কল্যাণ দান করুন। আর জাহান্নামের শাস্তি থেকে আমাদের রক্ষা করুন। (সুরা বাকারা: ২০১)

তাওয়াফ শেষ করার পর মাকামে ইব্রাহিমের পেছনে (কিংবা হারামের যেকোনো সুবিধাজনক স্থানে) দুই রাকাত ওয়াজিবুত তাওয়াফ নামাজ আদায় করবেন। প্রথম রাকাতে সুরা কাফিরুন এবং দ্বিতীয় রাকাতে সুরা ইখলাস পড়া সুন্নত।

নামাজ শেষে তৃপ্তি সহকারে জমজমের পানি পান করবেন এবং এই দোয়া পড়বেন:

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا، وَرِزْقًا وَاسِعًا، وَشِفَاءً مِنْ كُلِّ دَاءٍ.

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ইলমান নাফিআ, ওয়া রিজকান ওয়াসিআ, ওয়া শিফাআন মিন কুল্লি দাঈ।

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে উপকারী জ্ঞান, প্রশস্ত রিজিক এবং সব ধরনের রোগ থেকে মুক্তি প্রার্থনা করছি।’

সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে সাতবার যাতায়াত করাকে সায়ি বলা হয়।

সাফা পাহাড় থেকে সায়ি শুরু করতে হবে। সাফার কাছে পৌঁছে পবিত্র কোরআনের এই আয়াতটি পড়া সুন্নত—

إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ.

উচ্চারণ: ‘ইন্নাস সাফা ওয়াল মারওয়াতাম মিন শাআইরিল্লাহ।’

অর্থ: ‘নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনগুলোর অন্তর্ভুক্ত। (সুরা বাকারা: ১৫৮)

সাফা থেকে মারওয়া যাওয়া হলো ১ বার, আর মারওয়া থেকে সাফা ফিরে আসা হলো ২ বার। এভাবে মোট ৭ বার যাতায়াত করে মারওয়া পাহাড়ে গিয়ে সায়ি শেষ করতে হবে।

দুই সবুজ বাতি চিহ্নিত নির্দিষ্ট স্থানের মধ্যে পুরুষেরা একটু দ্রুত হাঁটবেন, আর নারীরা স্বাভাবিকভাবে হাঁটবেন।

সম্পূর্ণ মাথার চুল মুণ্ডন করা (হলক) উত্তম; তবে চাইলে সমস্ত মাথা থেকে সমানভাবে ছোট (কসর) করতে পারেন।

নারীরা কখনোই মাথা মুণ্ডন করবেন না; বরং চুলের শেষ প্রান্ত থেকে আনুমানিক এক ইঞ্চি পরিমাণ চুল কেটে ফেলবেন।

এই কাজটি সম্পন্ন করার সঙ্গে সঙ্গেই আপনার ওমরাহ পূর্ণ হয়ে যাবে এবং ইহরামের যাবতীয় নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে। এরপর আপনি স্বাভাবিক পোশাক পরতে পারবেন।

ইহরাম বাঁধার পর থেকে হালাল হওয়া পর্যন্ত কয়েকটি বিষয় থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকতে হবে:

ট্রেন বা বিমানে ভ্রমণের সময় মিকাত অতিক্রম করার আগেই ইহরামের নিয়ত ও প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে।

সাত চক্করের হিসাব সঠিকভাবে রাখতে হবে, সন্দেহ হলে কমটি ধরে হিসাব মেলাতে হবে।

হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করার জন্য অতিরিক্ত ধাক্কাধাক্কি করে অন্যকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।

তাওয়াফ বা সায়ির প্রতিটি চক্করের জন্য কোনো নির্দিষ্ট দোয়া আবশ্যক নয়; নিজের মাতৃভাষায় যেকোনো কল্যাণকর দোয়া করা যায়।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক ও সুন্দরভাবে ওমরাহ পালনের তৌফিক দান করুন।

সকাল-সন্ধ্যার গুরুত্বপূর্ণ জিকির ও আমল

সকাল-সন্ধ্যার গুরুত্বপূর্ণ জিকির ও আমল

সারা দিনের ব্যস্ততা ও ক্লান্তি শেষে শান্তির বার্তা নিয়ে যেমন সন্ধ্যা নেমে আসে, তেমনি আরেকটি নতুন দিনের সূচনা হয় ভোরের আলোয়। মুমিনের জীবনে সকাল ও সন্ধ্যার নির্দিষ্ট কিছু জিকির ও দোয়া আত্মিক প্রশান্তি অর্জনের পাশাপাশি আল্লাহর বিশেষ রহমত ও সুরক্ষা নিশ্চিত করে।

আজকের নামাজের সময়সূচি: ০৮ নভেম্বর ২০২৬

আজকের নামাজের সময়সূচি: ০৮ নভেম্বর ২০২৬

নামাজ আমাদের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।

বৃষ্টি হওয়ার সময় পড়ার দোয়া

বৃষ্টি হওয়ার সময় পড়ার দোয়া

বৃষ্টি আল্লাহ তাআলার বিশেষ নেয়ামত। বৃষ্টির মাধ্যমে শুকনো জমিন প্রাণ ফিরে পায়, ফসল উৎপাদিত হয়, মানুষ ও প্রাণিকুলের পানির চাহিদা পূরণ হয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বৃষ্টিকে তাঁর রহমত ও কুদরতের নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাই বৃষ্টি শুরু হলে মুমিনের উচিত আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা।