ঢাকা মহানগরীর ব্যস্ত এলাকায় আবারও প্রতারণার শিকার হলেন এক সংবাদপত্র সম্পাদক। ঢাকা ডিভিশনাল প্রেসক্লাবের সভাপতি, দৈনিক রুদ্র বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ও উপকূল মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান মোঃ মতিউর রহমান গতকাল সন্ধ্যা আনুমানিক ছয়টার দিকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ কার্যালয় থেকে তার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মুগদার বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, দিনভর বৃষ্টির কারণে সড়কে পানি জমে থাকায় তারা মূল সড়কে ওঠার পর কিছুটা সমস্যার সম্মুখীন হন। পানি জমে থাকার কারণে নিরাপদে রাস্তা পারাপারের জন্য তারা বিকল্প পথ নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় হঠাৎ এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবক তাদের কাছে এসে সহযোগিতার প্রস্তাব দেয় এবং নিজেকে সহানুভূতিশীল পথচারী হিসেবে উপস্থাপন করে।
প্রথমে কোনো সন্দেহ না করেই তারা ওই যুবকের সহায়তা গ্রহণ করেন। রাস্তার পানি পার হওয়ার সময় মতিউর রহমানের স্ত্রীর হাতে থাকা একটি ব্যাগ বহনে সহায়তা করার কথা বলে যুবকটি সেটি নিজের হাতে নেয়। ব্যাগটির ভিতরে চারটি টাচ মোবাইল ফোন, আনুমানিক ১০ হাজার টাকা নগদ অর্থ, গুরুত্বপূর্ণ অফিসিয়াল কাগজপত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী ছিল।
রাস্তা পার হওয়ার পর মুহূর্তের মধ্যেই ওই যুবক জনসমাগমের ভিড়ে মিশে গিয়ে ব্যাগটি নিয়ে দ্রুত সরে পড়ে। বিষয়টি বুঝতে পেরে মতিউর রহমান ও তার স্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে চারপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতা নেন। তবে দীর্ঘ সময় অনুসন্ধান করেও ব্যাগটি বা ওই যুবকের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর মতিউর রহমান গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এটি শুধুমাত্র একটি ছিনতাই নয়, বরং পরিকল্পিত প্রতারণা। তিনি জানান, সাধারণ মানুষের সহানুভূতি ও বিশ্বাসকে পুঁজি করে এ ধরনের অপরাধীরা সহজেই সুযোগ নিচ্ছে। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে ঢাকা ডিভিশনাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহ আলম খান বলেন, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে এ ধরনের প্রতারণা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সাংবাদিক ও সাধারণ নাগরিক কেউই নিরাপদ নন। প্রশাসনের উচিত দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।
অন্যদিকে, উপকূল মানবাধিকার সংস্থার মহাসচিব মোঃ সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক বলেন, “এটি একটি সুপরিকল্পিত অপরাধচক্রের কাজ বলে আমরা মনে করি। মানুষের মানবিক দুর্বলতা ও বিপদের মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে তারা প্রতারণা করছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাই।”
এ ঘটনায় আশপাশের এলাকাবাসীর মাঝেও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। তারা মনে করছেন, পানি জমে থাকা বা সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে সংঘবদ্ধ চক্র এ ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে রাজধানীর ব্যস্ত এলাকাগুলোতে এ ধরনের প্রতারণা বৃদ্ধি পাওয়ায় জননিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
জাতীয় প্রেস কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক শেখ শহিদুর রহমান পাভেল বলেন, এ ধরনের ঘটনায় নাগরিকদের আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। অপরিচিত কারও সাহায্য নেওয়ার ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই করা এবং মূল্যবান জিনিস নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। পাশাপাশি প্রশাসনের নিয়মিত টহল ও নজরদারি বাড়ানো হলে এ ধরনের অপরাধ কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
মোঃ মতিউর রহমানের জীবনে আরও একটি দুর্ঘটনা এক গভীর বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে আছে। ৩১শে ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে যাওয়ার পথে গুলিস্তান মার্কেটের পাশে এক বেপরোয়া যাত্রীবাহী উৎসব বাসের চাপায় তিনি গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনায় তার বাম পা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে চিকিৎসকদের কঠিন সিদ্ধান্তে সেটি অপসারণ করতে হয়। শারীরিক এই অপূরণীয় ক্ষতির পরও তিনি দৃঢ় মনোবল নিয়ে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন, যা মানবিক শক্তি ও সাহসের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো মামলা দায়েরের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ভুক্তভোগী পরিবার শিগগিরই আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।















Leave a Reply