লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের খবরে বলা হয়েছে, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ির আয়োজনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিনও বৈঠকে অংশ নেন। আলোচনার মূল বিষয় ছিল ‘আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা।’
বৈঠকের পর সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, বর্তমান সংকটের সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষকে তেহরান সফরের ফলাফল এবং কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় ইতিবাচক ও গঠনমূলক সাড়া দিতে হবে। নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে আলোচনার পথ খুলে দেওয়া এবং সংকটের অবসানে একটি চুক্তিতে পৌঁছনোর ওপর জোর দিয়েছে রিয়াদ।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের নেতৃত্বে সৌদি প্রতিনিধিদল এবং মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিদের তেহরান সফর ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। এই সফর আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় সংলাপের প্রসারে সৌদি আরবের ভূমিকার ধারাবাহিকতা।
মন্ত্রক আরও জানায়, বর্তমান সংকটে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে উত্তেজনা কমানো, সংলাপ এগিয়ে নেওয়া এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি করার প্রচেষ্টার অংশ এই সফর। একই সঙ্গে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতার উদ্যোগকে সমর্থন করাও এর উদ্দেশ্য।
সৌদি আরব আশা প্রকাশ করেছে, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ তেহরান সফরের ফলাফল এবং সংকটের সমাধানে কাতার ও পাকিস্তানের চলমান প্রচেষ্টায় ইতিবাচক ও গঠনমূলক সাড়া দেবে। বিবৃতিতে বলা হয়, সামরিক উত্তেজনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে আলোচনার পথ খুলে দেওয়া জরুরি। এর মাধ্যমে এমন একটি চুক্তিতে পৌঁছনো সম্ভব, যা চলমান সংকটের অবসান ঘটানোর পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদার করবে।
এর আগে সৌদি আরবের জনকূটনীতি বিষয়ক উপমন্ত্রী ও রাষ্ট্রদূত রায়েদ ক্রিমলি জানিয়েছিলেন, প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের নেতৃত্বে সৌদি প্রতিনিধিদল তেহরানের বৈঠকে অংশ নিচ্ছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিনও এতে যোগ দিচ্ছেন।
ক্রিমলি আরও জানান, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিরা ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ির সঙ্গে বৈঠক করবেন। তাঁর মতে, বর্তমান সংকটে উত্তেজনা কমানোর চলমান প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নেওয়া এবং কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতার উদ্যোগকে সমর্থন করাই এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য।
সৌদি এই কর্মকর্তা বর্তমান উত্তেজনা কাটিয়ে উঠতে সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে অঞ্চলের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সহযোগিতা করাও জরুরি।
সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুনর্ব্যক্ত করেছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি নিশ্চিত করতে অন্যান্য দেশের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপরও জোর দিয়েছে রিয়াদ।

দৈনিক টার্গেট 



























