ভারতের একাধিক রাজ্য অন্তর্ভুক্ত মানচিত্র ঘিরে আলোচনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রদর্শনী, নয়াদিল্লির দাবি নজরদারিতে রয়েছে বাংলাদেশ

গ্রেটার বাংলাদেশ মানচিত্রে ভারতের উদ্বেগ

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৯:২১:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ আগস্ট ২০২৫
  • ৩২১ বার পঠিত হয়েছে

গ্রেটার বাংলাদেশ মানচিত্র

নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক। সম্প্রতি ভারতের সংসদে ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ নামে একটি মানচিত্র নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর। তিনি জানান, এ ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে নয়াদিল্লি, পাশাপাশি ভারতের স্বার্থ ও নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে ঢাকা সম্পর্কে নিবিড় নজরদারি চালানো হচ্ছে।

লোকসভার এক অধিবেশনে বিজেপির একজন সংসদ সদস্য অভিযোগ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সালতানাত-ই-বাংলা’ নামে একটি ইসলামপন্থি গোষ্ঠী একটি বিতর্কিত মানচিত্র প্রকাশ করেছে, যেখানে ভারতের কয়েকটি রাজ্যকে বাংলাদেশের ভূখণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এমপির দাবি অনুযায়ী, তুরস্কভিত্তিক একটি এনজিও ‘টার্কিশ ইউথ ফেডারেশন’ এ কর্মকাণ্ডে অর্থ ও পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে।

জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর স্পষ্ট করেন, ভারতের উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারের নজরে আনা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২৫ সালের বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ইতিহাসভিত্তিক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। প্রদর্শনীতে মধ্যযুগীয় বাংলার একটি মানচিত্র প্রদর্শিত হয়, যেখানে তৎকালীন ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে একটি বৃহত্তর বাংলা উপস্থাপিত হয়েছিল।

বাংলাদেশ সরকার আরো জানিয়েছে, ‘সালতানাত-ই-বাংলা’ নামে দেশে কোনো নিবন্ধিত সংগঠন বা গোষ্ঠীর অস্তিত্ব নেই। এছাড়া এই আয়োজনে কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার সংশ্লিষ্টতা ছিল না বলেও নিশ্চিত করেছে ঢাকার কর্তৃপক্ষ।

জয়শঙ্কর বলেন, “আমরা আমাদের জাতীয় স্বার্থ এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে অত্যন্ত সচেতন। এসব ইস্যুতে বাংলাদেশের ওপর নিবিড় নজর রাখছি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছি।”

এমন অবস্থায় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভুল ব্যাখ্যা বা বিভ্রান্তিকর উপস্থাপন থেকে বিরত থাকতে উভয় দেশেরই পারস্পরিক বোঝাপড়া ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি।

জনপ্রিয় টার্গেট

জার্মান পর্যটকের সেই ল্যাপটপ নাটোর থেকে উদ্ধার

ভারতের একাধিক রাজ্য অন্তর্ভুক্ত মানচিত্র ঘিরে আলোচনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রদর্শনী, নয়াদিল্লির দাবি নজরদারিতে রয়েছে বাংলাদেশ

গ্রেটার বাংলাদেশ মানচিত্রে ভারতের উদ্বেগ

প্রকাশ: ০৯:২১:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ আগস্ট ২০২৫

নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক। সম্প্রতি ভারতের সংসদে ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ নামে একটি মানচিত্র নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর। তিনি জানান, এ ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে নয়াদিল্লি, পাশাপাশি ভারতের স্বার্থ ও নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে ঢাকা সম্পর্কে নিবিড় নজরদারি চালানো হচ্ছে।

লোকসভার এক অধিবেশনে বিজেপির একজন সংসদ সদস্য অভিযোগ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সালতানাত-ই-বাংলা’ নামে একটি ইসলামপন্থি গোষ্ঠী একটি বিতর্কিত মানচিত্র প্রকাশ করেছে, যেখানে ভারতের কয়েকটি রাজ্যকে বাংলাদেশের ভূখণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এমপির দাবি অনুযায়ী, তুরস্কভিত্তিক একটি এনজিও ‘টার্কিশ ইউথ ফেডারেশন’ এ কর্মকাণ্ডে অর্থ ও পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে।

জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর স্পষ্ট করেন, ভারতের উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারের নজরে আনা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২৫ সালের বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ইতিহাসভিত্তিক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। প্রদর্শনীতে মধ্যযুগীয় বাংলার একটি মানচিত্র প্রদর্শিত হয়, যেখানে তৎকালীন ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে একটি বৃহত্তর বাংলা উপস্থাপিত হয়েছিল।

বাংলাদেশ সরকার আরো জানিয়েছে, ‘সালতানাত-ই-বাংলা’ নামে দেশে কোনো নিবন্ধিত সংগঠন বা গোষ্ঠীর অস্তিত্ব নেই। এছাড়া এই আয়োজনে কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার সংশ্লিষ্টতা ছিল না বলেও নিশ্চিত করেছে ঢাকার কর্তৃপক্ষ।

জয়শঙ্কর বলেন, “আমরা আমাদের জাতীয় স্বার্থ এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে অত্যন্ত সচেতন। এসব ইস্যুতে বাংলাদেশের ওপর নিবিড় নজর রাখছি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছি।”

এমন অবস্থায় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভুল ব্যাখ্যা বা বিভ্রান্তিকর উপস্থাপন থেকে বিরত থাকতে উভয় দেশেরই পারস্পরিক বোঝাপড়া ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি।