উরুমকি বৈঠকে আফগানিস্তানের সামনে পাকিস্তানের ৩ শর্ত

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১২:১৪:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ১১২ বার পঠিত হয়েছে

চীনকে মধ্যস্থতাকারী রেখে উরুমকিতে চলমান পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের প্রতিনিধিদের বৈঠক নতুন করে আঞ্চলিক রাজনীতিতে গুরুত্ব পাচ্ছে। কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই আলোচনায় ইসলামাবাদ শুরুতেই কাবুলের সামনে কয়েকটি কঠোর শর্ত তুলে ধরেছে, যা মূলত নিরাপত্তা ইস্যুকে কেন্দ্র করে।

পাকিস্তানের পক্ষ থেকে যে তিনটি প্রধান দাবি জানানো হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-কে আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করা, তাদের সকল অবকাঠামো ধ্বংস করা এবং এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের স্পষ্ট ও যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রদান করা। সীমান্তপারের হামলা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় ইসলামাবাদের অবস্থান আগের তুলনায় আরও কঠোর হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে, আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর খুব সংক্ষিপ্ত তথ্য দিলেও আলোচনার গভীরতা নিয়ে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা হয়নি। সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি জানান, এই বৈঠককে কোনো নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে দেখা উচিত নয়। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতার ক্ষেত্রেও কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে তিনি স্পষ্ট করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘অপারেশন গাজাব লিল হক’ আগের মতোই অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে, আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি জানিয়েছেন, তারা আলোচনার পথেই দ্বিপক্ষীয় সমস্যা সমাধানে আগ্রহী। তার মতে, সংলাপই বর্তমান পরিস্থিতিতে উত্তরণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এই পুরো প্রক্রিয়ায় চীন নীরব থাকলেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। দেশটির বিশেষ দূত ইউয়ে শিয়াওইয়ং কয়েক মাস ধরে ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে দূরত্ব কমাতে ধারাবাহিক যোগাযোগ রক্ষা করছেন। বেইজিং চাইছে, উভয় পক্ষ একটি পাঁচ দফা কাঠামোর ভিত্তিতে সমঝোতায় পৌঁছাক।

তবে পাকিস্তান স্পষ্ট করে দিয়েছে, আপাতত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু থাকবে সন্ত্রাস দমন ও সীমান্ত নিরাপত্তা। বৃহত্তর রাজনৈতিক ইস্যুতে এখনই যেতে আগ্রহী নয় তারা। ইসলামাবাদের প্রধান লক্ষ্য হলো আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পরিচালিত সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ করা এবং সীমান্তে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।

আলোচনায় সম্ভাব্য একটি রোডম্যাপ নিয়েও কথা হচ্ছে। এতে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা, সন্ত্রাসবিরোধী নিশ্চয়তা, জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস এবং নিরাপদ বাণিজ্যপথ চালুর বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য একটি নিয়মিত সংলাপ কাঠামো তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

দুই দেশই কারিগরি পর্যায়ের প্রতিনিধি পাঠিয়েছে, যা আলোচনাকে বাস্তবমুখী করার ইঙ্গিত দেয়। পাকিস্তান প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন সাইয়েদ আলী আসাদ গিলানি এবং আফগান পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মোহিবুল্লাহ ওয়াসেক।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈঠকের স্থান হিসেবে চীনের শিনজিয়াং অঞ্চলের উরুমকিকে বেছে নেওয়ার পেছনে কৌশলগত কারণ রয়েছে। এই অঞ্চলে সক্রিয় বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন নিয়ে বেইজিং দীর্ঘদিন ধরে উদ্বিগ্ন, বিশেষ করে যাদের সঙ্গে আফগানিস্তানের সংযোগ থাকার আশঙ্কা করা হয়।

সামগ্রিকভাবে, এই সংলাপকে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একটি সতর্ক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এর বাস্তব সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে কাবুল কতটা কার্যকরভাবে ইসলামাবাদের নিরাপত্তা উদ্বেগ মোকাবিলা করতে পারে তার ওপর।

জনপ্রিয় টার্গেট

ফুটপাত ও সড়কে কোনো হকার বসতে দেওয়া হবে না: সিডিএ চেয়ারম্যান

উরুমকি বৈঠকে আফগানিস্তানের সামনে পাকিস্তানের ৩ শর্ত

প্রকাশ: ১২:১৪:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

চীনকে মধ্যস্থতাকারী রেখে উরুমকিতে চলমান পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের প্রতিনিধিদের বৈঠক নতুন করে আঞ্চলিক রাজনীতিতে গুরুত্ব পাচ্ছে। কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই আলোচনায় ইসলামাবাদ শুরুতেই কাবুলের সামনে কয়েকটি কঠোর শর্ত তুলে ধরেছে, যা মূলত নিরাপত্তা ইস্যুকে কেন্দ্র করে।

পাকিস্তানের পক্ষ থেকে যে তিনটি প্রধান দাবি জানানো হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-কে আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করা, তাদের সকল অবকাঠামো ধ্বংস করা এবং এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের স্পষ্ট ও যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রদান করা। সীমান্তপারের হামলা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় ইসলামাবাদের অবস্থান আগের তুলনায় আরও কঠোর হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে, আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর খুব সংক্ষিপ্ত তথ্য দিলেও আলোচনার গভীরতা নিয়ে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা হয়নি। সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি জানান, এই বৈঠককে কোনো নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে দেখা উচিত নয়। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতার ক্ষেত্রেও কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে তিনি স্পষ্ট করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘অপারেশন গাজাব লিল হক’ আগের মতোই অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে, আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি জানিয়েছেন, তারা আলোচনার পথেই দ্বিপক্ষীয় সমস্যা সমাধানে আগ্রহী। তার মতে, সংলাপই বর্তমান পরিস্থিতিতে উত্তরণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এই পুরো প্রক্রিয়ায় চীন নীরব থাকলেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। দেশটির বিশেষ দূত ইউয়ে শিয়াওইয়ং কয়েক মাস ধরে ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে দূরত্ব কমাতে ধারাবাহিক যোগাযোগ রক্ষা করছেন। বেইজিং চাইছে, উভয় পক্ষ একটি পাঁচ দফা কাঠামোর ভিত্তিতে সমঝোতায় পৌঁছাক।

তবে পাকিস্তান স্পষ্ট করে দিয়েছে, আপাতত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু থাকবে সন্ত্রাস দমন ও সীমান্ত নিরাপত্তা। বৃহত্তর রাজনৈতিক ইস্যুতে এখনই যেতে আগ্রহী নয় তারা। ইসলামাবাদের প্রধান লক্ষ্য হলো আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পরিচালিত সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ করা এবং সীমান্তে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।

আলোচনায় সম্ভাব্য একটি রোডম্যাপ নিয়েও কথা হচ্ছে। এতে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা, সন্ত্রাসবিরোধী নিশ্চয়তা, জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস এবং নিরাপদ বাণিজ্যপথ চালুর বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য একটি নিয়মিত সংলাপ কাঠামো তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

দুই দেশই কারিগরি পর্যায়ের প্রতিনিধি পাঠিয়েছে, যা আলোচনাকে বাস্তবমুখী করার ইঙ্গিত দেয়। পাকিস্তান প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন সাইয়েদ আলী আসাদ গিলানি এবং আফগান পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মোহিবুল্লাহ ওয়াসেক।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈঠকের স্থান হিসেবে চীনের শিনজিয়াং অঞ্চলের উরুমকিকে বেছে নেওয়ার পেছনে কৌশলগত কারণ রয়েছে। এই অঞ্চলে সক্রিয় বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন নিয়ে বেইজিং দীর্ঘদিন ধরে উদ্বিগ্ন, বিশেষ করে যাদের সঙ্গে আফগানিস্তানের সংযোগ থাকার আশঙ্কা করা হয়।

সামগ্রিকভাবে, এই সংলাপকে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একটি সতর্ক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এর বাস্তব সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে কাবুল কতটা কার্যকরভাবে ইসলামাবাদের নিরাপত্তা উদ্বেগ মোকাবিলা করতে পারে তার ওপর।