পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) হাত ধরে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পালাবদলের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করল বিজেপি।
গত ৪ মে ঘোষিত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে বিজেপি বড় ধরনের জয় পায়। ২৯৪ আসনের বিধানসভায় দলটি ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। প্রায় দেড় দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসকে সরিয়ে এই জয়কে বিজেপির জন্য ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শুক্রবার কলকাতায় অনুষ্ঠিত বিজেপি বিধায়ক দলের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত হন শুভেন্দু অধিকারী। পরে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা শেষে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে মুখ্যমন্ত্রী পদে মনোনীত করার ঘোষণা দেন। দলীয় সূত্র জানায়, নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে অন্য কোনো নাম সামনে আসেনি।
শনিবার কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড-এ বর্ণাঢ্য আয়োজনে শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা এবং বিভিন্ন বিজেপি-শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা।
রাজ্যপাল আর এন রবি নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ শেষে প্রধানমন্ত্রী মোদি শুভেন্দু অধিকারীকে অভিনন্দন জানান এবং নতুন সরকারের সফলতা কামনা করেন।
এদিন নতুন মন্ত্রিসভার কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্যও শপথ গ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, নিশীথ প্রামাণিক এবং ক্ষুদিরাম টুডু। মুখ্যমন্ত্রীর পর একে একে তারা মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এই বিজয় শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, বরং রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নির্বাচনের আগ থেকেই শুভেন্দু অধিকারীকে সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখা হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্তে সেই জল্পনাই বাস্তবে রূপ নিল।
নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন নজর থাকবে প্রশাসনিক পরিবর্তন, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশে কী ধরনের প্রভাব পড়ে তার দিকে।
দৈনিক টার্গেট 
























