বৃহস্পতিবার বিকেলে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানায়, নিথিয়া রমনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচনে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট রমন পেয়েছেন ৫২ দশমিক ১ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে, বর্তমান মেয়র ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কারেন বাস পেয়েছেন ৪৭ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট। এ সময় পর্যন্ত মোট ভোটের ৭৬ শতাংশ গণনা করা হয়েছিল।
সিটি কাউন্সিলের সদস্য এবং ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার (ডিএসএ) সদস্য রমন হবেন ক্যালিফোর্নিয়ার সবচেয়ে জনবহুল শহরটির নেতৃত্ব দেওয়া প্রথম এশীয়-আমেরিকান।
লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র নির্বাচনের দৌড়ে তুলনামূলক দেরিতে যোগ দিয়েছিলেন রমন। তাঁর প্রার্থিতা ঘোষণাও অনেকের কাছে ছিল বিস্ময়কর। কারণ, এর আগে তিনি কারেন বাসের পুনর্নির্বাচন প্রচারণায় সমর্থন জানিয়েছিলেন। জুনে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক রিয়েলিটি টেলিভিশন তারকা স্পেন্সার প্র্যাটকে পরাজিত করে সাধারণ নির্বাচনে জায়গা করে নেন রমন। প্র্যাটের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনী প্রচারণায় রমন বারবার এমন একটি শহর গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরেছেন, ‘যা সবার জন্য কার্যকরভাবে কাজ করবে’।
অন্যদিকে, অঙ্গরাজ্যের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সমর্থন পাওয়া সত্ত্বেও পরাজিত হয়েছেন কারেন বাস। তাঁর প্রচারণায় সমর্থন জানিয়েছিলেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস এবং ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম।
প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সমর্থন পেলেও শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে বাসের জনপ্রিয়তা ছিল কম। গত বছর দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ দাবানলের সময় তাঁর ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা করেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে। বিশেষ করে, দাবানল মোকাবিলায় তাঁর প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।
বৃহস্পতিবার বিকেলে নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করেন বাস। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, রমনকে অভিনন্দন জানাতে ফোন করেছিলেন। বাস বলেন, ‘আমরা যে ফলাফল আশা করেছিলাম, এটি তা নয়। তবে লস অ্যাঞ্জেলেসের মানুষ তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন। ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া যাতে নির্বিঘ্ন ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি আমি দিয়েছি। এই শহরকে এগিয়ে নিতে আমাদের সবার কাছ থেকেই লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রত্যাশা রয়েছে।’
এপ্রিলে এলএবিসি ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীরা গৃহহীন মানুষের সমস্যা, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সাশ্রয়ী আবাসনের সংকটকে শহরের প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে স্থান দিয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনেরও প্রকাশ্য সমালোচক রমন। বিশেষ করে, লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী অভিযান নিয়ে তিনি সরব ছিলেন। রমন বলেছেন, ‘লস অ্যাঞ্জেলেসের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা বাসিন্দাদের সুরক্ষায় সেই ভূমিকা পালন করতে পারেননি, যে সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার আমাদের সবার রয়েছে।’
তবে নিউইয়র্কের মামদানির মতো তিনিও জানিয়েছেন, শহরের বাসিন্দাদের স্বার্থ ও কল্যাণে প্রয়োজন হলে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করবেন।
গত বছর নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর উচ্চাভিলাষী প্রতিশ্রুতি দিয়ে জয়ী হন মামদানি। তাঁর বিজয় ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এরপর থেকে তিনি দলটির উদীয়মান রাজনৈতিক তারকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
নিউইয়র্কের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রথম বছরেই প্রগতিশীল নীতির কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছেন মামদানি। নির্বাচনী প্রচারণায় দেওয়া একাধিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তিনি শহরে বিনা মূল্যে শিশু পরিচর্যা সুবিধা সম্প্রসারণের কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি উচ্চমূল্যের দ্বিতীয় বাড়ির ওপর কর আরোপ করেছেন এবং ভাড়া নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্টগুলোর ভাড়া অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাবে অনুমোদন আদায় করেছেন। এ ছাড়া আরও বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি।
এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে মেয়র নির্বাচনের প্রচারণায় জেনিস লুইস জর্জও সাশ্রয়ী আবাসনের সম্প্রসারণ এবং সর্বজনীন শিশু পরিচর্যা ব্যবস্থাকে তাঁর নির্বাচনী অঙ্গীকারের অন্যতম প্রধান বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।
ডিসির পরবর্তী মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাওয়া লুইস জর্জ ট্রাম্প প্রশাসনের ওয়াশিংটন ডিসিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপের বিরোধিতা করার অঙ্গীকার করেছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘ডিসির বাসিন্দাদের জীবনমান উন্নত করতে প্রশাসনসহ যে কারও সঙ্গে কাজ করতে আমি প্রস্তুত।’ মঙ্গলবার রাতে বিজয়ী ভাষণে লুইস জর্জ বলেন, ‘আমি পাড়ার ছোট দোকানের মেয়রও হব, আবার করপোরেট প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কার্যালয়ের মেয়রও হব।’
মঙ্গলবারের নির্বাচনে এই আন্দোলনের আরও কয়েকটি সাফল্য যুক্ত হয়েছে। রোড আইল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের প্রভিডেন্স শহরের মেয়র হিসেবেও নির্বাচিত হয়েছেন একজন ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট। পাশাপাশি নিউইয়র্ক থেকে মিশিগান হয়ে ক্যালিফোর্নিয়া পর্যন্ত বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট আন্দোলনের আরও কয়েকজন প্রার্থী।
বুধবার দেওয়া এক বিবৃতিতে নিজেদের নির্বাচনী সাফল্যের কথা তুলে ধরে ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত ভোটাররা ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের দুর্নীতি এবং বর্বরতার বিরুদ্ধে সমাজতন্ত্রের প্রতি জোরালো সমর্থন জানিয়েছেন।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এই মধ্যবর্তী নির্বাচনী চক্রে ডিএসএ ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।’

দৈনিক টার্গেট 
























