বিবৃতিতে বলা হয়, প্রথম দফায় পুলিশ শামীমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করার পরও তাঁর জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়নি। হাসপাতাল যদি একজন আহত মানুষের জন্য নিরাপদ আশ্রয় না হয়, তাহলে সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা কোথায়—এ প্রশ্নের জবাব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দিতে হবে। হাসপাতালে হামলা প্রতিরোধে ব্যর্থতার কারণও তদন্ত করতে হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ গুরুতর হলে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ বিচার হতে পারে। কিন্তু অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়ার আগেই কাউকে পিটিয়ে হত্যা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা প্রতিষ্ঠার নামে আইন ভাঙা, হত্যা সংঘটিত করা কিংবা বিচারব্যবস্থাকে অকার্যকর করে দেওয়ার অধিকার কারও নেই। উপরন্তু এটি পবিত্র ইসলামের ধর্মের মূলগত মর্মবিরোধী কর্মকাণ্ড। সব প্রাণের নিরাপত্তা ও হক আদায় ইসলামের মৌলিক শিক্ষা। ধর্মীয় অনুভূতির সুরক্ষা এবং মানুষের জীবন ও আইনি অধিকার রক্ষা—দুটিই রাষ্ট্রের দায়িত্ব; আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে বিচার করবার অধিকার কারোর নেই।
এনসিপি এ ঘটনায় নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো দাবি করছে:
১. হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার: প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ভিডিও ফুটেজ এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে প্রথম ও দ্বিতীয় দফার হামলায় অংশগ্রহণকারীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। হামলায় উসকানি, জনতাকে সংগঠিত করা কিংবা সহিংসতা সংঘটনে ভূমিকার অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের ভূমিকা তদন্ত করতে হবে।
২. হাসপাতালে দ্বিতীয় দফার হামলার জবাবদিহি: চিকিৎসাধীন একজন ব্যক্তির ওপর হামলা ঠেকাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, নিরাপত্তাব্যবস্থা কেন ব্যর্থ হলো এবং কারও দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না—তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। দায়িত্বে অবহেলা বা যোগসাজশ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
৪. পরিবারের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা: নিহতের পরিবারের সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীরা যেন ভয়ভীতি বা প্রতিশোধের আশঙ্কা ছাড়াই বক্তব্য দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। পরিবারকে আইনি সহায়তা এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার কার্যকর সুযোগ দিতে হবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি মনে করে, সাম্প্রদায়িক উসকানি এবং ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের অবস্থান হতে হবে দ্ব্যর্থহীন। অপরাধের অভিযোগ উঠলেই হঠাৎ সংগঠিত উত্তেজিত জনতার শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা ছেড়ে দিলে আইন ও বিচারব্যবস্থার অস্তিত্ব অর্থহীন হয়ে পড়ে।
আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে যার যার ধর্ম সে নির্বিঘ্নে পালন করবে। পূজা এলেই নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে আসে। আমরা এমন একটি দিন চাই, যেদিন নিরাপত্তা নিয়ে আমাদের আলাদাভাবে ভাবতে হবে না। আশঙ্কামুক্ত পরিবেশে বাংলাদেশের সব ধর্মের মানুষ তাঁদের ধর্মীয় উৎসব পালন করবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। রাজনৈতিক দল
রাজনৈতিক অঙ্গনকে আবারও অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলের লংমার্চের উদ্দেশ্য কী? সরকারি দল তাদের কোনো রকম গ্রেপ্তার-নিপীড়ন করেনি, যা হাসিনার আমলে করা হতো।’
ইচ্ছাকৃতভাবে বিরোধী দলকে সংবিধান সংস্কারপ্রক্রিয়া থেকে বাইরে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
দৈনিক টার্গেট 

























