র‍্যাবের পরিবর্তে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ গঠনের প্রস্তাব; জনমতের জন্য প্রকাশিত খসড়া আইনে বাহিনীর কাঠামো, ক্ষমতা ও জবাবদিহির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

র‍্যাবের বদলে আসছে এসআরবি

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৬:৩৫:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬
  • ২৬ বার পঠিত হয়েছে

বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নতুন কাঠামোর একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকারের উদ্যোগে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’ শীর্ষক একটি খসড়া বিল প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইন কার্যকর হলে বর্তমানে বিদ্যমান র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) পরিবর্তে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে নতুন ইউনিট কাজ করবে।

জনসাধারণের মতামত গ্রহণের জন্য খসড়া আইনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বাহিনীর সাংগঠনিক কাঠামো, দায়িত্ব, প্রশাসনিক ব্যবস্থা, ক্ষমতা এবং জবাবদিহির বিভিন্ন দিক বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

খসড়া অনুযায়ী, এসআরবির প্রধান কার্যালয় ঢাকায় স্থাপন করা হবে। প্রয়োজনে সরকারের অনুমোদন নিয়ে দেশের অন্যান্য এলাকায়ও ইউনিট গঠন করা যাবে। বাহিনীর নেতৃত্বে থাকবেন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা, যিনি মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করবেন।

নতুন ইউনিটের প্রধান কাজ হবে সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ, সংঘবদ্ধ অপরাধ, মাদক পাচার, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক-সংক্রান্ত অপরাধ দমন এবং এসব বিষয়ে তদন্ত পরিচালনা। এছাড়া আদালত, সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশে বিশেষ ধরনের মামলার তদন্ত ও অভিযান পরিচালনার ক্ষমতাও থাকবে বাহিনীটির।

এসআরবিতে শুধু পুলিশ সদস্য নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও প্রেষণে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। খসড়া আইনে বলা হয়েছে, প্রেষণে নিয়োগের মেয়াদ কমপক্ষে দুই বছর হবে।

প্রস্তাবিত আইনে এসআরবির সদস্যদের আইন অনুযায়ী অস্ত্র বহন, তল্লাশি, আলামত জব্দ এবং গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি ইউনিটের নিজস্ব হেফাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ স্থাপনের বিধানও রাখা হয়েছে। যেসব বিষয়ে নতুন আইনে আলাদা নির্দেশনা থাকবে না, সেসব ক্ষেত্রে প্রচলিত ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করা হবে।

বাহিনীর সদস্যদের জন্য পৃথক আচরণবিধি ও শৃঙ্খলা নীতিমালা প্রণয়নের প্রস্তাবও রয়েছে। কর্তব্যে অবহেলা, অসদাচরণ কিংবা আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে সংশ্লিষ্ট সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

খসড়া আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। অতীতে র‍্যাবকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষাপটে নতুন বাহিনীর কার্যক্রমে জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই এই কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন এসআরবির একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক। সদস্য হিসেবে থাকবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের প্রতিনিধি, পরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া) এবং মানবাধিকার বা আইন-বিচার প্রশাসনে অন্তত ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সরকার মনোনীত একজন ব্যক্তি।

কমিটি নাগরিকদের অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত এবং প্রয়োজনে পৃথক অনুসন্ধান দল গঠন করতে পারবে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে। এছাড়া বাহিনীর কার্যক্রমে অবৈধ প্রভাব, হয়রানি, পদায়ন, পদোন্নতি বা বিভাগীয় শাস্তি-সংক্রান্ত অভিযোগও কমিটির পর্যালোচনার আওতায় থাকবে।

খসড়া আইনে আরও বলা হয়েছে, কোনো সদস্য শৃঙ্খলা ভঙ্গ বা অন্য কোনো ফৌজদারি অপরাধ করে পলাতক হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে গ্রেপ্তারের অনুরোধ জানাতে পারবেন। সেই অনুরোধকে ম্যাজিস্ট্রেটের জারি করা পরোয়ানার সমমান হিসেবে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট থানাকে ব্যবস্থা নিতে হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জনমত গ্রহণের পর সংশোধিত খসড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামতের জন্য পাঠানো হবে। এরপর মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেলে এটি জাতীয় সংসদে উত্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে তৎকালীন সরকারের উদ্যোগে র‍্যাব গঠন করা হয়। সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ইউনিটটি দায়িত্ব পালন করে আসছে। নতুন আইন পাস হলে সেই কাঠামোর পরিবর্তে এসআরবি নামে নতুন বিশেষায়িত ইউনিট কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

র‍্যাবের পরিবর্তে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ গঠনের প্রস্তাব; জনমতের জন্য প্রকাশিত খসড়া আইনে বাহিনীর কাঠামো, ক্ষমতা ও জবাবদিহির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

র‍্যাবের বদলে আসছে এসআরবি

প্রকাশ: ০৬:৩৫:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬

বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নতুন কাঠামোর একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকারের উদ্যোগে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’ শীর্ষক একটি খসড়া বিল প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইন কার্যকর হলে বর্তমানে বিদ্যমান র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) পরিবর্তে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে নতুন ইউনিট কাজ করবে।

জনসাধারণের মতামত গ্রহণের জন্য খসড়া আইনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বাহিনীর সাংগঠনিক কাঠামো, দায়িত্ব, প্রশাসনিক ব্যবস্থা, ক্ষমতা এবং জবাবদিহির বিভিন্ন দিক বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

খসড়া অনুযায়ী, এসআরবির প্রধান কার্যালয় ঢাকায় স্থাপন করা হবে। প্রয়োজনে সরকারের অনুমোদন নিয়ে দেশের অন্যান্য এলাকায়ও ইউনিট গঠন করা যাবে। বাহিনীর নেতৃত্বে থাকবেন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা, যিনি মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করবেন।

নতুন ইউনিটের প্রধান কাজ হবে সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ, সংঘবদ্ধ অপরাধ, মাদক পাচার, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক-সংক্রান্ত অপরাধ দমন এবং এসব বিষয়ে তদন্ত পরিচালনা। এছাড়া আদালত, সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশে বিশেষ ধরনের মামলার তদন্ত ও অভিযান পরিচালনার ক্ষমতাও থাকবে বাহিনীটির।

এসআরবিতে শুধু পুলিশ সদস্য নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও প্রেষণে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। খসড়া আইনে বলা হয়েছে, প্রেষণে নিয়োগের মেয়াদ কমপক্ষে দুই বছর হবে।

প্রস্তাবিত আইনে এসআরবির সদস্যদের আইন অনুযায়ী অস্ত্র বহন, তল্লাশি, আলামত জব্দ এবং গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি ইউনিটের নিজস্ব হেফাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ স্থাপনের বিধানও রাখা হয়েছে। যেসব বিষয়ে নতুন আইনে আলাদা নির্দেশনা থাকবে না, সেসব ক্ষেত্রে প্রচলিত ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করা হবে।

বাহিনীর সদস্যদের জন্য পৃথক আচরণবিধি ও শৃঙ্খলা নীতিমালা প্রণয়নের প্রস্তাবও রয়েছে। কর্তব্যে অবহেলা, অসদাচরণ কিংবা আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে সংশ্লিষ্ট সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

খসড়া আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। অতীতে র‍্যাবকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষাপটে নতুন বাহিনীর কার্যক্রমে জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই এই কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন এসআরবির একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক। সদস্য হিসেবে থাকবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের প্রতিনিধি, পরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া) এবং মানবাধিকার বা আইন-বিচার প্রশাসনে অন্তত ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সরকার মনোনীত একজন ব্যক্তি।

কমিটি নাগরিকদের অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত এবং প্রয়োজনে পৃথক অনুসন্ধান দল গঠন করতে পারবে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে। এছাড়া বাহিনীর কার্যক্রমে অবৈধ প্রভাব, হয়রানি, পদায়ন, পদোন্নতি বা বিভাগীয় শাস্তি-সংক্রান্ত অভিযোগও কমিটির পর্যালোচনার আওতায় থাকবে।

খসড়া আইনে আরও বলা হয়েছে, কোনো সদস্য শৃঙ্খলা ভঙ্গ বা অন্য কোনো ফৌজদারি অপরাধ করে পলাতক হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে গ্রেপ্তারের অনুরোধ জানাতে পারবেন। সেই অনুরোধকে ম্যাজিস্ট্রেটের জারি করা পরোয়ানার সমমান হিসেবে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট থানাকে ব্যবস্থা নিতে হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জনমত গ্রহণের পর সংশোধিত খসড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামতের জন্য পাঠানো হবে। এরপর মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেলে এটি জাতীয় সংসদে উত্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে তৎকালীন সরকারের উদ্যোগে র‍্যাব গঠন করা হয়। সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ইউনিটটি দায়িত্ব পালন করে আসছে। নতুন আইন পাস হলে সেই কাঠামোর পরিবর্তে এসআরবি নামে নতুন বিশেষায়িত ইউনিট কার্যক্রম পরিচালনা করবে।