মানুষের প্রস্রাবেও গলছে এভারেস্টের হিমবাহ-গবেষণায় সতর্কতা

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৯:১৪:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৬ বার পঠিত হয়েছে

নেপালের এভারেস্টের দক্ষিণ পাশের খুম্বু হিমবাহে অবস্থিত বেস ক্যাম্পকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক একদল গবেষক এই গবেষণা চালান। গবেষণাটির ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে ‘Regional Environmental Change’ জার্নালে।

এই বিষয়ে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়—প্রতি বছর বসন্তে এভারেস্ট অভিযানের মৌসুমে হাজার হাজার পর্বতারোহী, গাইড ও সহায়ক কর্মী বেস ক্যাম্পে জড়ো হন। তখন জায়গাটি রীতিমতো ব্যস্ত এক পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়। সেখানে রয়েছে কফিশপ, বড় পর্দার টেলিভিশন, দ্রুতগতির ইন্টারনেট, গরম পানির গোসল এবং উষ্ণ তাঁবুর ব্যবস্থা।

গবেষকেরা ২০২৩ সালের ৫০ দিনের বসন্ত মৌসুমে ক্যাম্পের প্রায় ১ হাজার ৬০০টি তাঁবু পরিচালনায় ব্যবহৃত জ্বালানির হিসাবও বিশ্লেষণ করেন। ওই সময়ে রান্না, গরম রাখা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ৮২৪টি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ক্যানিস্টার, ১৮ হাজার ৯৩৫ লিটার কেরোসিন এবং ৫ হাজার ১৩০ লিটার পেট্রল ব্যবহার করা হয়।

গবেষণা অনুযায়ী, জ্বালানি পোড়ানো এবং মানুষের প্রস্রাব থেকে উৎপন্ন তাপ মিলিয়ে মোট শক্তি উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৮ লাখ ৪৯ হাজার ১৭৪ মেগাজুল। এই তাপের কারণে আনুমানিক ২ হাজার ৪৯২ টন বরফ ও তুষার গলে যেতে পারে। হিসাবের সম্ভাব্য সীমা ১ হাজার ৯৬৪ থেকে ৩ হাজার ২০ টন।

এমন উচ্চতায় পানিশূন্যতা এড়াতে পর্বতারোহী ও গাইডরা প্রচুর পানি পান করেন। ফলে প্রতিদিন সম্মিলিতভাবে প্রায় ৬ হাজার লিটার প্রস্রাব উৎপন্ন হয়। কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ করে নিচে নামিয়ে আনা হলেও বিপুল পরিমাণ প্রস্রাব সরাসরি হিমবাহে ফেলা হয়। গবেষকদের হিসাবে, শুধু প্রস্রাবের তাপেই একটি মৌসুমে প্রায় ১৫৪ টন বরফ গলতে পারে।

তবে গবেষকেরা বলেছেন, এভারেস্টের হিমবাহ গলে যাওয়ার প্রধান কারণ এখনো জলবায়ু পরিবর্তন। কিন্তু দ্রুত গলে যাওয়া হিমবাহের ওপর প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষের এমন ঘনত্ব দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই নয়।

গবেষকেরা মনে করেন, ভবিষ্যতে বেস ক্যাম্পটি হিমবাহ থেকে সরিয়ে কাছাকাছি কোনো স্থিতিশীল এলাকায় স্থানান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।

ঢাকা, বরিশাল, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় আজ বুধবার অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

সুস্পষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও দেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সে সঙ্গে দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের

রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় আজ অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

জনপ্রিয় টার্গেট

থাইল্যান্ডে নেমেই বারে না ঢুকে শপিংয়ে ব্যস্ত হলেন মার্কিন নাবিকেরা

মানুষের প্রস্রাবেও গলছে এভারেস্টের হিমবাহ-গবেষণায় সতর্কতা

প্রকাশ: ০৯:১৪:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নেপালের এভারেস্টের দক্ষিণ পাশের খুম্বু হিমবাহে অবস্থিত বেস ক্যাম্পকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক একদল গবেষক এই গবেষণা চালান। গবেষণাটির ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে ‘Regional Environmental Change’ জার্নালে।

এই বিষয়ে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়—প্রতি বছর বসন্তে এভারেস্ট অভিযানের মৌসুমে হাজার হাজার পর্বতারোহী, গাইড ও সহায়ক কর্মী বেস ক্যাম্পে জড়ো হন। তখন জায়গাটি রীতিমতো ব্যস্ত এক পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়। সেখানে রয়েছে কফিশপ, বড় পর্দার টেলিভিশন, দ্রুতগতির ইন্টারনেট, গরম পানির গোসল এবং উষ্ণ তাঁবুর ব্যবস্থা।

গবেষকেরা ২০২৩ সালের ৫০ দিনের বসন্ত মৌসুমে ক্যাম্পের প্রায় ১ হাজার ৬০০টি তাঁবু পরিচালনায় ব্যবহৃত জ্বালানির হিসাবও বিশ্লেষণ করেন। ওই সময়ে রান্না, গরম রাখা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ৮২৪টি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ক্যানিস্টার, ১৮ হাজার ৯৩৫ লিটার কেরোসিন এবং ৫ হাজার ১৩০ লিটার পেট্রল ব্যবহার করা হয়।

গবেষণা অনুযায়ী, জ্বালানি পোড়ানো এবং মানুষের প্রস্রাব থেকে উৎপন্ন তাপ মিলিয়ে মোট শক্তি উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৮ লাখ ৪৯ হাজার ১৭৪ মেগাজুল। এই তাপের কারণে আনুমানিক ২ হাজার ৪৯২ টন বরফ ও তুষার গলে যেতে পারে। হিসাবের সম্ভাব্য সীমা ১ হাজার ৯৬৪ থেকে ৩ হাজার ২০ টন।

এমন উচ্চতায় পানিশূন্যতা এড়াতে পর্বতারোহী ও গাইডরা প্রচুর পানি পান করেন। ফলে প্রতিদিন সম্মিলিতভাবে প্রায় ৬ হাজার লিটার প্রস্রাব উৎপন্ন হয়। কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ করে নিচে নামিয়ে আনা হলেও বিপুল পরিমাণ প্রস্রাব সরাসরি হিমবাহে ফেলা হয়। গবেষকদের হিসাবে, শুধু প্রস্রাবের তাপেই একটি মৌসুমে প্রায় ১৫৪ টন বরফ গলতে পারে।

তবে গবেষকেরা বলেছেন, এভারেস্টের হিমবাহ গলে যাওয়ার প্রধান কারণ এখনো জলবায়ু পরিবর্তন। কিন্তু দ্রুত গলে যাওয়া হিমবাহের ওপর প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষের এমন ঘনত্ব দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই নয়।

গবেষকেরা মনে করেন, ভবিষ্যতে বেস ক্যাম্পটি হিমবাহ থেকে সরিয়ে কাছাকাছি কোনো স্থিতিশীল এলাকায় স্থানান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।

ঢাকা, বরিশাল, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় আজ বুধবার অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

সুস্পষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও দেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সে সঙ্গে দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের

রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় আজ অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।