পারমাণবিক গবেষণায় লিজ মাইটনারের অবদান যুগান্তকারী। ১৯১৭ সালে অটো হানের সঙ্গে প্রোটেক্টিনিয়াম আইসোটোপ এবং ১৯২২ সালে ‘অগার ইফেক্ট’-এর কারণ আবিষ্কার করেন তিনি। পরবর্তীতে ১৯৩৮ সালে হিটলারের শাসনামলে জার্মানি ছেড়ে সুইডেন পালিয়ে যেতে বাধ্য হলেও তাঁর গবেষণা থেমে থাকেনি। ঐ বছরই ভাগনে অটো ফ্রিশের সঙ্গে মিলে তিনি ইতিহাসের প্রথম পারমাণবিক ফিশন প্রক্রিয়ার পদার্থবিজ্ঞানগত ব্যাখ্যা প্রদান করেন এবং এর বিস্ফোরণ ক্ষমতা উপলব্ধি করেন। ১৯৪৪ সালে এই ফিশন আবিষ্কারের জন্য অটো হান নোবেল পুরস্কার পেলেও মাইটনার বঞ্চিত হন। তবে বিজ্ঞানের ধ্বংসাত্মক ব্যবহারে তাঁর তীব্র অনীহা ছিল। ম্যানহাটন প্রজেক্টে পারমাণবিক বোমা তৈরিতে যোগদানের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেছিলেন, “বোমার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক থাকবে না!”
১৯৬৮ সালের ২৭ অক্টোবর কেমব্রিজে মৃত্যুবরণ করা এই বিজ্ঞানীর স্মরণে ১০৯ নম্বর মৌলের নাম রাখা হয় ‘মেইটনারিয়াম’। জীবনদশায় ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক মেডেল ও এনরিকো ফার্মি অ্যাওয়ার্ড পাওয়া এই বিজ্ঞানীর সমাধিলিপিতে যথার্থই লেখা আছে, “একজন পদার্থবিজ্ঞানী, যিনি কখনো তাঁর মানবতা হারাননি।”
সূত্র: এটমিক হেরিটেজ ফাউন্ডেশন

দৈনিক টার্গেট 


























