এবার কি পর্যটন অর্থনীতির পথে হাঁটবে বাংলাদেশ

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৯:০৭:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪৬ বার পঠিত হয়েছে

উদ্যোগগুলো নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। তবে একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে—বাংলাদেশ কি আরেকটি পরিকল্পনা তৈরি করছে, নাকি অবশেষে পর্যটনকে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক খাতে রূপান্তরের পথে হাঁটতে যাচ্ছে?

বাংলাদেশের পর্যটন উন্নয়নের ইতিহাস নতুন নয়। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এর যাত্রা শুরু হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে নীতিমালা প্রণয়ন, পর্যটন বোর্ড প্রতিষ্ঠা, বিশেষ পর্যটন অঞ্চল ঘোষণা এবং সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে খাতটি এগিয়ে গেছে। কক্সবাজার, সুন্দরবন, সিলেট, সাজেক, বান্দরবান, কুয়াকাটা ও সেন্ট মার্টিন আজ দেশের পরিচিত পর্যটন গন্তব্য। অভ্যন্তরীণ পর্যটনেরও উল্লেখযোগ্য বিস্তার ঘটেছে।

তবুও প্রশ্ন রয়ে গেছে—এত সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কেন পর্যটন এখনো বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারেনি?

বাস্তবতা হলো, আমাদের প্রধান সংকট কখনোই পরিকল্পনার অভাব ছিল না; সংকট ছিল বাস্তবায়নে। বর্তমানে আলোচিত ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটনকেন্দ্রের ধারণাটিও নতুন নয়। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আইপিই গ্লোবাল ২০১৯ সালে যে দীর্ঘমেয়াদি পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছিল, সেখানে ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন স্থানের মূল্যায়ন, ৫১টি পর্যটন ক্লাস্টার, ১৪টি থিম, দুই শর বেশি প্রকল্প এবং এক বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগ পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত ছিল।

পরিকল্পনার লক্ষ্য ছিল ২০৪১ সালের মধ্যে বিদেশি পর্যটক বৃদ্ধি, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পর্যটনকে অর্থনীতির অন্যতম প্রধান খাতে উন্নীত করা। কিন্তু ছয় বছর পরও সেই মহাপরিকল্পনা কাঙ্ক্ষিত বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। প্রশাসনিক জটিলতা, দীর্ঘ অনুমোদন প্রক্রিয়া, নেতৃত্বের পরিবর্তন এবং সমন্বয়ের অভাবে পরিকল্পনার বড় অংশ কাগজেই সীমাবদ্ধ থেকেছে।

এই অভিজ্ঞতা আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। কোনো পরিকল্পনা কেবল পর্যটনকেন্দ্রের সংখ্যা বা প্রকল্পের আকারের কারণে সফল হয় না। সফলতা নির্ভর করে বাস্তবায়ন কাঠামো, নেতৃত্ব, জবাবদিহি এবং সমন্বয়ের ওপর।

বর্তমানে পর্যটন খাতের সঙ্গে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, পর্যটন করপোরেশন, ট্যুরিজম বোর্ড, স্থানীয় সরকার বিভাগ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়সহ বহু সংস্থা জড়িত। কিন্তু পুরো মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, তদারকি ও মূল্যায়নের জন্য একক কোনো কর্তৃত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান নেই। ফলে বিভিন্ন সংস্থা নিজ নিজ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলেও জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত ফলাফল তৈরি হয় না।

একইভাবে নিরাপত্তা এখন পর্যটনশিল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলোর একটি। একজন পর্যটক তখনই ভ্রমণ করেন, যখন তিনি নিজেকে নিরাপদ মনে করেন। সড়ক নিরাপত্তা, পর্যটন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা, জরুরি চিকিৎসাসেবা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, নারী ও বিদেশি পর্যটকের নিরাপত্তা এবং প্রতারণামুক্ত সেবা নিশ্চিত করা না গেলে আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে না। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি পর্যটন পরিবেশ গড়ে তোলা, যেখানে একজন পর্যটক দেশের যেকোনো প্রান্তে ভ্রমণের সময় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও আস্থার অনুভূতি পান।

এখানেই পর্যটনকেন্দ্র উন্নয়ন এবং পর্যটন অর্থনীতির মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হয়। একটি নতুন রিসোর্ট নির্মাণ বা সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তা নিজে নিজে পর্যটন অর্থনীতি সৃষ্টি করে না। প্রকৃত প্রশ্ন হলো—কত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলো, কত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হলো, কত নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হলো, স্থানীয় জনগণের আয় কত বাড়ল এবং কত বিদেশি পর্যটক বাংলাদেশকে ভ্রমণ গন্তব্য হিসেবে বেছে নিল—এসব।

এই কারণেই আমি আমার গ্রন্থ ‘পর্যটন অর্থনীতি: বদলে যেতে পারে বাংলাদেশ’ এবং বিভিন্ন কলামে দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছি যে বাংলাদেশের প্রয়োজন শুধু নতুন প্রকল্প নয়; একটি নতুন পর্যটন শাসনব্যবস্থা।

প্রথমত, একটি স্বাধীন ও ক্ষমতাসম্পন্ন ‘ট্যুরিজম মাস্টার প্ল্যান অথরিটি’ প্রতিষ্ঠা করা জরুরি, যা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন, সমন্বয়, বিনিয়োগ সহায়তা, অগ্রগতি মূল্যায়ন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করবে।

দ্বিতীয়ত, একটি স্বতন্ত্র পর্যটন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। পর্যটন কেবল পরিবহন খাত নয়; এটি অর্থনীতি, সংস্কৃতি, পরিবেশ, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং আন্তর্জাতিক বিপণনের সমন্বিত ক্ষেত্র।

তৃতীয়ত, বিওএসটি (বাংলাদেশ অর্গানাইজেশন ফর সাসটেইনেবল ট্যুরিজম) নামে একটি গবেষণা ও নীতিসহায়ক প্রতিষ্ঠান গঠন করা দরকার, যা পর্যটন গবেষণা, তথ্য বিশ্লেষণ, আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যায়ন এবং নীতিগত সুপারিশ প্রদান করবে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬-এ বাংলাদেশের সামনে মূল প্রশ্ন তাই একটাই—আমরা কি শুধু ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটনকেন্দ্রের তালিকা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকব, নাকি ১ হাজার ৪৯৮টি অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে বাস্তব সম্পদে রূপান্তর করতে চাইব?

অতএব, আজ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নতুন পর্যটনকেন্দ্র নির্মাণ নয়; একটি কার্যকর, নিরাপদ ও অর্থনৈতিকভাবে ফলপ্রসূ পর্যটনব্যবস্থা গড়ে তোলা। সময় এসেছে পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়নে, অবকাঠামো থেকে অর্থনীতিতে এবং সম্ভাবনা থেকে ফলাফলের পথে যাত্রা শুরু করার।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যাপক প্রসার, বিশেষত সাম্প্রতিককালে বৃহৎ ভাষা মডেল বা লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম) এবং এই প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত চ্যাটবট ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার বিরুদ্ধে নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তাই এ প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক যে আমাদের ব্যক্তিগত…

আজ ২০২৬ সালের এমন এক বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে প্রযুক্তির অন্ধ অনুকরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার এক নীরব কিন্তু শক্তিশালী আন্দোলন শুরু হয়েছে। ২০২০-২১ সালের কোভিড-১৯ মহামারির সেই অবরুদ্ধ দিনগুলোতে বিশ্বজুড়ে শিক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তির এক অভূতপূর্ব প্রবেশ ঘটেছিল। তখন মনে করা হয়েছিল ডিজিটাল ডিভাইস ছাড়া

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) জানিয়েছে, আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জুলাইয়ে তা ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। সংখ্যাটি দেখলে মনে হতে পারে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। বাস্তবতা তা বলে না। গত ১২ মাসের গড় মূল্যস্ফীতি এখনো ৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

জনপ্রিয় টার্গেট

এবার কি পর্যটন অর্থনীতির পথে হাঁটবে বাংলাদেশ

প্রকাশ: ০৯:০৭:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উদ্যোগগুলো নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। তবে একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে—বাংলাদেশ কি আরেকটি পরিকল্পনা তৈরি করছে, নাকি অবশেষে পর্যটনকে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক খাতে রূপান্তরের পথে হাঁটতে যাচ্ছে?

বাংলাদেশের পর্যটন উন্নয়নের ইতিহাস নতুন নয়। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এর যাত্রা শুরু হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে নীতিমালা প্রণয়ন, পর্যটন বোর্ড প্রতিষ্ঠা, বিশেষ পর্যটন অঞ্চল ঘোষণা এবং সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে খাতটি এগিয়ে গেছে। কক্সবাজার, সুন্দরবন, সিলেট, সাজেক, বান্দরবান, কুয়াকাটা ও সেন্ট মার্টিন আজ দেশের পরিচিত পর্যটন গন্তব্য। অভ্যন্তরীণ পর্যটনেরও উল্লেখযোগ্য বিস্তার ঘটেছে।

তবুও প্রশ্ন রয়ে গেছে—এত সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কেন পর্যটন এখনো বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারেনি?

বাস্তবতা হলো, আমাদের প্রধান সংকট কখনোই পরিকল্পনার অভাব ছিল না; সংকট ছিল বাস্তবায়নে। বর্তমানে আলোচিত ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটনকেন্দ্রের ধারণাটিও নতুন নয়। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আইপিই গ্লোবাল ২০১৯ সালে যে দীর্ঘমেয়াদি পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছিল, সেখানে ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন স্থানের মূল্যায়ন, ৫১টি পর্যটন ক্লাস্টার, ১৪টি থিম, দুই শর বেশি প্রকল্প এবং এক বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগ পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত ছিল।

পরিকল্পনার লক্ষ্য ছিল ২০৪১ সালের মধ্যে বিদেশি পর্যটক বৃদ্ধি, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পর্যটনকে অর্থনীতির অন্যতম প্রধান খাতে উন্নীত করা। কিন্তু ছয় বছর পরও সেই মহাপরিকল্পনা কাঙ্ক্ষিত বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। প্রশাসনিক জটিলতা, দীর্ঘ অনুমোদন প্রক্রিয়া, নেতৃত্বের পরিবর্তন এবং সমন্বয়ের অভাবে পরিকল্পনার বড় অংশ কাগজেই সীমাবদ্ধ থেকেছে।

এই অভিজ্ঞতা আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। কোনো পরিকল্পনা কেবল পর্যটনকেন্দ্রের সংখ্যা বা প্রকল্পের আকারের কারণে সফল হয় না। সফলতা নির্ভর করে বাস্তবায়ন কাঠামো, নেতৃত্ব, জবাবদিহি এবং সমন্বয়ের ওপর।

বর্তমানে পর্যটন খাতের সঙ্গে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, পর্যটন করপোরেশন, ট্যুরিজম বোর্ড, স্থানীয় সরকার বিভাগ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়সহ বহু সংস্থা জড়িত। কিন্তু পুরো মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, তদারকি ও মূল্যায়নের জন্য একক কোনো কর্তৃত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান নেই। ফলে বিভিন্ন সংস্থা নিজ নিজ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলেও জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত ফলাফল তৈরি হয় না।

একইভাবে নিরাপত্তা এখন পর্যটনশিল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলোর একটি। একজন পর্যটক তখনই ভ্রমণ করেন, যখন তিনি নিজেকে নিরাপদ মনে করেন। সড়ক নিরাপত্তা, পর্যটন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা, জরুরি চিকিৎসাসেবা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, নারী ও বিদেশি পর্যটকের নিরাপত্তা এবং প্রতারণামুক্ত সেবা নিশ্চিত করা না গেলে আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে না। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি পর্যটন পরিবেশ গড়ে তোলা, যেখানে একজন পর্যটক দেশের যেকোনো প্রান্তে ভ্রমণের সময় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও আস্থার অনুভূতি পান।

এখানেই পর্যটনকেন্দ্র উন্নয়ন এবং পর্যটন অর্থনীতির মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হয়। একটি নতুন রিসোর্ট নির্মাণ বা সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তা নিজে নিজে পর্যটন অর্থনীতি সৃষ্টি করে না। প্রকৃত প্রশ্ন হলো—কত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলো, কত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হলো, কত নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হলো, স্থানীয় জনগণের আয় কত বাড়ল এবং কত বিদেশি পর্যটক বাংলাদেশকে ভ্রমণ গন্তব্য হিসেবে বেছে নিল—এসব।

এই কারণেই আমি আমার গ্রন্থ ‘পর্যটন অর্থনীতি: বদলে যেতে পারে বাংলাদেশ’ এবং বিভিন্ন কলামে দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছি যে বাংলাদেশের প্রয়োজন শুধু নতুন প্রকল্প নয়; একটি নতুন পর্যটন শাসনব্যবস্থা।

প্রথমত, একটি স্বাধীন ও ক্ষমতাসম্পন্ন ‘ট্যুরিজম মাস্টার প্ল্যান অথরিটি’ প্রতিষ্ঠা করা জরুরি, যা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন, সমন্বয়, বিনিয়োগ সহায়তা, অগ্রগতি মূল্যায়ন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করবে।

দ্বিতীয়ত, একটি স্বতন্ত্র পর্যটন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। পর্যটন কেবল পরিবহন খাত নয়; এটি অর্থনীতি, সংস্কৃতি, পরিবেশ, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং আন্তর্জাতিক বিপণনের সমন্বিত ক্ষেত্র।

তৃতীয়ত, বিওএসটি (বাংলাদেশ অর্গানাইজেশন ফর সাসটেইনেবল ট্যুরিজম) নামে একটি গবেষণা ও নীতিসহায়ক প্রতিষ্ঠান গঠন করা দরকার, যা পর্যটন গবেষণা, তথ্য বিশ্লেষণ, আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যায়ন এবং নীতিগত সুপারিশ প্রদান করবে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬-এ বাংলাদেশের সামনে মূল প্রশ্ন তাই একটাই—আমরা কি শুধু ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটনকেন্দ্রের তালিকা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকব, নাকি ১ হাজার ৪৯৮টি অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে বাস্তব সম্পদে রূপান্তর করতে চাইব?

অতএব, আজ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নতুন পর্যটনকেন্দ্র নির্মাণ নয়; একটি কার্যকর, নিরাপদ ও অর্থনৈতিকভাবে ফলপ্রসূ পর্যটনব্যবস্থা গড়ে তোলা। সময় এসেছে পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়নে, অবকাঠামো থেকে অর্থনীতিতে এবং সম্ভাবনা থেকে ফলাফলের পথে যাত্রা শুরু করার।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যাপক প্রসার, বিশেষত সাম্প্রতিককালে বৃহৎ ভাষা মডেল বা লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম) এবং এই প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত চ্যাটবট ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার বিরুদ্ধে নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তাই এ প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক যে আমাদের ব্যক্তিগত…

আজ ২০২৬ সালের এমন এক বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে প্রযুক্তির অন্ধ অনুকরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার এক নীরব কিন্তু শক্তিশালী আন্দোলন শুরু হয়েছে। ২০২০-২১ সালের কোভিড-১৯ মহামারির সেই অবরুদ্ধ দিনগুলোতে বিশ্বজুড়ে শিক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তির এক অভূতপূর্ব প্রবেশ ঘটেছিল। তখন মনে করা হয়েছিল ডিজিটাল ডিভাইস ছাড়া

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) জানিয়েছে, আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জুলাইয়ে তা ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। সংখ্যাটি দেখলে মনে হতে পারে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। বাস্তবতা তা বলে না। গত ১২ মাসের গড় মূল্যস্ফীতি এখনো ৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ।