নতুন অধ্যাদেশে কর্মবিরতি ও আন্দোলনের দায়ে সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বাধ্যতামূলক অবসরের বিধান; প্রতিবাদে কর্মচারী সংগঠনের কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা।

সরকারি কর্মচারীদের আন্দোলনে বাধ্যতামূলক অবসরের বিধান

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৬:০৩:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫
  • ৩০১ বার পঠিত হয়েছে

সরকারি চাকরি সংশোধন করে নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার, যেখানে কর্মচারীদের আন্দোলন ও কর্মবিরতির মতো কর্মকাণ্ডের জন্য বাধ্যতামূলক অবসরসহ তিন ধরনের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

২৩ জুলাই আইন মন্ত্রণালয় থেকে জারি হওয়া ‘সরকারি চাকরি (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’–এ বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারী যদি নিয়ম লঙ্ঘন করে সমবেত আন্দোলন, কর্মবিরতি বা সহকর্মীদের কাজে বাধা দেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে নিম্নপদে অবনমিতকরণ, বাধ্যতামূলক অবসর বা চাকরি থেকে বরখাস্ত–এই তিনটি শাস্তির যে কোনো একটি প্রয়োগ করা যাবে।

অধ্যাদেশটি জারি হতেই বিভিন্ন সংগঠন এর প্রতিবাদে সোচ্চার হয়। ‘বৈষম্য বিরোধী কর্মচারী ঐক্য ফোরাম’ একে “কালো আইন” আখ্যা দিয়ে ঈদের পর কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে।

এদিকে, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মীরা রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে টানা ছয় দিন ধরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। তারা বরখাস্ত হওয়া ২৯ জন কর্মীর পুনর্বহালের দাবিতে ২১ মে থেকে “মার্চ টু ঢাকা” কর্মসূচি চালিয়ে আসছেন।

সরকারি পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত ১৭ অক্টোবর পল্লী বিদ্যুৎ কর্মীরা সারা দেশে বিদ্যুৎ সেবা বন্ধ করে যে আন্দোলন করেন, তা রাষ্ট্রদ্রোহী কার্যক্রম হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এর ফলে নেত্রকোনায় এক রোগীর মৃত্যু হয় বলেও জানানো হয়েছে।

তবে, সরকার ইতিবাচক কিছু পদক্ষেপও নিয়েছে। যেমন সাপ্তাহিক ছুটি ১ থেকে ২ দিন করা, ৫ শতাংশ বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা এবং প্রায় পাঁচ হাজার লাইনম্যানকে নিয়মিত করার সিদ্ধান্ত।

আন্দোলনের সমাধানে আইন বিশেষজ্ঞ আসিফ নজরুলের নেতৃত্বে একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে জাতীয় অর্থনীতিতে প্রায় ৪০ কোটি ডলার ক্ষতি হতে পারে। ইতোমধ্যে নেত্রকোনা, সাতক্ষীরা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিদ্যুৎ সেবা বিঘ্নিত হয়েছে।

অন্যদিকে, অধ্যাদেশে মাত্র ৭ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দেওয়ার বাধ্যবাধকতা এবং ই-মেইল নোটিশের বিধান নিয়ে সমালোচনা উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, নারী কর্মচারীদের বিরুদ্ধেও হয়রানির আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন হলে দেশের প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারীর চাকরি নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠবে। এখন সব কিছু নির্ভর করছে উভয় পক্ষের আলোচনার সদিচ্ছা ও উপদেষ্টা কমিটির সুপারিশের ওপর।

জনপ্রিয় টার্গেট

বগুড়ার শেরপুর: হাজারো মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে চক্র

নতুন অধ্যাদেশে কর্মবিরতি ও আন্দোলনের দায়ে সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বাধ্যতামূলক অবসরের বিধান; প্রতিবাদে কর্মচারী সংগঠনের কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা।

সরকারি কর্মচারীদের আন্দোলনে বাধ্যতামূলক অবসরের বিধান

প্রকাশ: ০৬:০৩:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫

সরকারি চাকরি সংশোধন করে নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার, যেখানে কর্মচারীদের আন্দোলন ও কর্মবিরতির মতো কর্মকাণ্ডের জন্য বাধ্যতামূলক অবসরসহ তিন ধরনের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

২৩ জুলাই আইন মন্ত্রণালয় থেকে জারি হওয়া ‘সরকারি চাকরি (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’–এ বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারী যদি নিয়ম লঙ্ঘন করে সমবেত আন্দোলন, কর্মবিরতি বা সহকর্মীদের কাজে বাধা দেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে নিম্নপদে অবনমিতকরণ, বাধ্যতামূলক অবসর বা চাকরি থেকে বরখাস্ত–এই তিনটি শাস্তির যে কোনো একটি প্রয়োগ করা যাবে।

অধ্যাদেশটি জারি হতেই বিভিন্ন সংগঠন এর প্রতিবাদে সোচ্চার হয়। ‘বৈষম্য বিরোধী কর্মচারী ঐক্য ফোরাম’ একে “কালো আইন” আখ্যা দিয়ে ঈদের পর কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে।

এদিকে, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মীরা রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে টানা ছয় দিন ধরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। তারা বরখাস্ত হওয়া ২৯ জন কর্মীর পুনর্বহালের দাবিতে ২১ মে থেকে “মার্চ টু ঢাকা” কর্মসূচি চালিয়ে আসছেন।

সরকারি পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত ১৭ অক্টোবর পল্লী বিদ্যুৎ কর্মীরা সারা দেশে বিদ্যুৎ সেবা বন্ধ করে যে আন্দোলন করেন, তা রাষ্ট্রদ্রোহী কার্যক্রম হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এর ফলে নেত্রকোনায় এক রোগীর মৃত্যু হয় বলেও জানানো হয়েছে।

তবে, সরকার ইতিবাচক কিছু পদক্ষেপও নিয়েছে। যেমন সাপ্তাহিক ছুটি ১ থেকে ২ দিন করা, ৫ শতাংশ বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা এবং প্রায় পাঁচ হাজার লাইনম্যানকে নিয়মিত করার সিদ্ধান্ত।

আন্দোলনের সমাধানে আইন বিশেষজ্ঞ আসিফ নজরুলের নেতৃত্বে একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে জাতীয় অর্থনীতিতে প্রায় ৪০ কোটি ডলার ক্ষতি হতে পারে। ইতোমধ্যে নেত্রকোনা, সাতক্ষীরা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিদ্যুৎ সেবা বিঘ্নিত হয়েছে।

অন্যদিকে, অধ্যাদেশে মাত্র ৭ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দেওয়ার বাধ্যবাধকতা এবং ই-মেইল নোটিশের বিধান নিয়ে সমালোচনা উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, নারী কর্মচারীদের বিরুদ্ধেও হয়রানির আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন হলে দেশের প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারীর চাকরি নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠবে। এখন সব কিছু নির্ভর করছে উভয় পক্ষের আলোচনার সদিচ্ছা ও উপদেষ্টা কমিটির সুপারিশের ওপর।