বাংলাদেশেও দিবসটি নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালন করা হচ্ছে। সাংবাদিক সমাজ তাদের পেশাগত অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার দাবি তুলে ধরছেন। একইসঙ্গে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিবেশ জোরদারের আহ্বান জানানো হচ্ছে বিভিন্ন মহল থেকে।
দিবসটি উপলক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার। সকাল ৯টায় রাজধানীর অফিসার্স ক্লাব প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রা তথ্য ভবন কমপ্লেক্সে গিয়ে শেষ হয়। পরে সার্কিট হাউস রোডে অবস্থিত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা, যেখানে গণমাধ্যমের বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।
বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের সূচনা ঘটে নব্বইয়ের দশকের শুরুতে। ১৯৯১ সালে ইউনেসকোর সাধারণ অধিবেশনে এ বিষয়ে সুপারিশ করা হয় এবং পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে ৩ মে-কে দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। তখন থেকেই বিশ্বজুড়ে দিনটি পালিত হয়ে আসছে।
এই দিবসে মূলত তিনটি বিষয় গুরুত্ব পায়- গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা রক্ষা করা এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চা জোরদার করা। পাশাপাশি যারা সত্য প্রকাশে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন কিংবা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের স্মরণেও নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে স্বাধীন গণমাধ্যম অপরিহার্য। কারণ, তথ্যপ্রবাহের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংবাদমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বাস্তব ক্ষেত্রেও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সময়ের দাবি।
বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস তাই কেবল একটি প্রতীকী দিন নয়; এটি স্বাধীনতার মূল্য উপলব্ধি, দায়িত্বের প্রতিশ্রুতি এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি সুসংহত গণমাধ্যম ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান।