যাঁরা এই যৌন নির্যাতন ঘটাচ্ছেন, তাঁরা ঘটনা প্রকাশ করা হলে শিশুদের হত্যার ভয়ও দেখাচ্ছেন। ধরা পড়লে এমন আজগুবি কথা বলছেন, যাতে বোঝা যায় ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার মতো যোগ্যতা তাঁদের নেই। কথা না বাড়িয়ে কয়েকটি উদাহরণ দিলে বোঝা যাবে, কীভাবে এসব যৌন নির্যাতক তাঁদের অপরাধ লুকানোর চেষ্টা করেন।
অনেকের মনে পড়বে, ২০২১ সালের জুন মাসে চাঁদপুরে ১৪ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল এক মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। আটকের পর ওই শিক্ষক বলেছিলেন, ‘শয়তান বলাতে কিশোরীর সঙ্গে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়েছি।’ ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে আবাসিক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে যে শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়, তিনিও বলেছিলেন, ‘এই কাজ শয়তান করিয়েছে।’ ২০২৫ সালের মার্চে গাজীপুরের শ্রীপুরে এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক এক শিক্ষক বলেছিলেন, ‘আমি শয়তানের ধোঁকায় পড়ে করে ফেলেছি।’ তিনি ভবিষ্যতে এমন কাজ আর করবেন না বলেও দাবি করেছিলেন। মাত্র কয়েকটি উদাহরণ থেকে দেখা যাচ্ছে, যেসব শিক্ষকের নামে ধর্ষণ বা ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠছে, তাঁরা এমনভাবে ঘটনাটির ব্যাখ্যা করছেন, যাতে মনে হতে পারে যে তাঁরা একেকজন ধোয়া তুলসী পাতা এবং শয়তান এসে তাঁদের অনৈতিক কাজ করতে প্রলুব্ধ করছে। প্রশ্ন হচ্ছে, যে শিক্ষকদের সহজে শয়তান এসে প্রভাবিত করতে পারে, তাঁরা কি শিক্ষক হওয়ার যোগ্য? ধরা পড়ার পরই কেবল তাঁদের অনুশোচনা হয়। ধরা না পড়লে কি এই অনুতাপ হতো?
এ বছরের আগস্ট মাসে বাংলাদেশের মাদ্রাসায় যৌন নির্যাতন নিয়ে ডয়চে ভেলেতে যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, তাতে এমন কিছু তথ্য উপস্থাপিত হয়েছে, যা শুনলে বিস্ময়ে পাথর হয়ে যেতে হয়। এই অক্টোবর মাসেও এমন কিছু দুঃসংবাদ শুনতে হয়েছে, তাতে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করা শিশুদের অভিভাবকেরা শঙ্কিত হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। গলদ কোথায়, সেটা সবাই বুঝতে পারছে; কিন্তু ধর্মীয় গুরুরা এই অন্যায়ের ব্যাপারে কেন নিশ্চুপ, তা আরও বড় বিস্ময়ের জন্ম দেয়। এই অভিশাপ থেকে মুক্তি পাক শিশুরা।
দৈনিক টার্গেট 




















