বর্তমান বিশ্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নির্ধারণে গবেষণা ও উদ্ভাবনের গুরুত্ব বাড়ছে। তাই ইউআইইউ এগুলোকে উচ্চশিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করে। আমাদের শিক্ষক ও গবেষকেরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস, জলবায়ু পরিবর্তন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অর্থনীতি, টেকসই উন্নয়নসহ সমকালীন নানা বিষয়ে গবেষণা করছেন। আন্তর্জাতিক মানের জার্নালে গবেষণা প্রকাশের পাশাপাশি দেশ-বিদেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ গবেষণা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরিতে আমরা ধারাবাহিকভাবে জোর দিচ্ছি। গবেষণা শুধু জার্নালে প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। এর ফল যেন সরকার, ইন্ডাস্ট্রি ও সমাজের বাস্তব সমস্যা সমাধানে কাজে লাগে, সে বিষয়েও আমরা সমান মনোযোগ দিচ্ছি।
প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে ইউআইইউ নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। আন্তর্জাতিক রোবোটিকস, রোভার ও আন্ডারওয়াটার রোবট প্রতিযোগিতায় আমাদের শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক সাফল্য বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের মেধা ও সক্ষমতা তুলে ধরছে। এটি শুধু প্রতিযোগিতার জয় নয়, তরুণ প্রজন্মের মেধা, সৃজনশীলতা, পরিশ্রম ও প্রযুক্তিগত দক্ষতারও প্রতিফলন। সঠিক শিক্ষা, দিকনির্দেশনা, গবেষণার সুযোগ এবং অনুকূল পরিবেশ পেলে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা বিশ্বমানের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারবে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা তৈরির সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী করা উচিত।
ইউআইইউতে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শেখানো হয় কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে গবেষণা, তথ্য বিশ্লেষণ, সমস্যা সমাধান ও সৃজনশীল কাজ আরও কার্যকর করা যায়। একই সঙ্গে ভুল তথ্য, নকল বা অনৈতিক ব্যবহার, পক্ষপাত এবং শিক্ষাগত সততার ঝুঁকি কীভাবে সামলাতে হয়, সে বিষয়েও বাস্তব ধারণা দেওয়া হয়।
আমার মতে, উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় ও ইন্ডাস্ট্রির শক্তিশালী অংশীদারত্ব জরুরি। ইন্ডাস্ট্রি জানে, তার কী দক্ষতা দরকার, আর বিশ্ববিদ্যালয় সেই জ্ঞান ও দক্ষতা গড়ার পরিবেশ দিতে পারে। যৌথ গবেষণা, শিল্প খাতভিত্তিক প্রকল্প, ইন্টার্নশিপ, দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি আর প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাস্তব অভিজ্ঞতা পাবে, শিল্প খাতও পাবে নতুন জ্ঞান, প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবল। এতে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও উদ্ভাবনের ভিত্তিও মজবুত হবে।

দৈনিক টার্গেট 
























