এমটিএ আইনের খসড়া: পরিবহনের সব ক্ষমতা যাচ্ছে এক কর্তৃপক্ষে

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০১:২০:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪ বার পঠিত হয়েছে

• আইনের খসড়া সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে জমা।

• ডিটিসিএ-এর চেয়ে নতুন কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা ব্যাপক বৃদ্ধি হচ্ছে।

• প্রকল্প অনুমোদন, বাসের রুট-ভাড়াসহ সব ক্ষমতা রাখার বিধান।

ফাইল ছবি

নগর পরিবহনের পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) বদলে মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্ট কর্তৃপক্ষ (এমটিএ) করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন এই কর্তৃপক্ষের ক্ষমতার পরিধি ব্যাপকভাবে বাড়ানো হচ্ছে। পরিবহন প্রকল্প গ্রহণের আগে অনুমোদন, বাসের রুট ও রুট পারমিট, ফ্র্যাঞ্চাইজি, ভাড়া নির্ধারণ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বহুতল ভবন ও আবাসন প্রকল্পের ট্রাফিক পরিকল্পনা অনুমোদন, সড়ক নিরাপত্তা অডিট, দুর্ঘটনা তদন্তসহ নগর পরিবহনের সব ক্ষমতা থাকবে এই কর্তৃপক্ষের।

প্রস্তাবিত মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্ট কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৬-এর খসড়া থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। খসড়ায় নগর পরিবহন উন্নয়ন প্রকল্পের ডিপিপি অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়ার আগেও এই কর্তৃপক্ষের অনুমোদন বা ছাড়পত্র নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এই কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া প্রকল্প নিলে শাস্তির বিধানও রাখা হয়েছে। এতে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ার সুযোগ থাকলেও বিদ্যমান সংস্থাগুলোর এখতিয়ারের সঙ্গে নতুন কর্তৃপক্ষের ক্ষমতার সীমা কোথায় থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।

২০১২ সালের ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) আইন পরিবর্তন করে মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্ট কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৬ করতে যাচ্ছে সরকার। নতুন আইনের খসড়া ডিটিসিএ সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে জমা দিয়েছে। নতুন আইন কার্যকর হলে ডিটিসিএ-এর পরিবর্তে মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্ট কর্তৃপক্ষ গঠিত হবে।

জানতে চাইলে ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক (সচিব) মোহাম্মদ মসিউর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্ট কর্তৃপক্ষ আইনের খসড়া প্রায় এক মাস আগে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে জমা দেওয়া হয়েছে। খসড়াটি পর্যালোচনা করে কিছু সংশোধনের বিষয় চিহ্নিত হয়েছে। সংশোধনের পর সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের লিখিত মতামত নেওয়া হবে। এরপর এটি মন্ত্রিসভায় যাবে। সব প্রক্রিয়া ঠিকভাবে এগোলে আইনটি করতে আরও প্রায় ছয় মাস লাগতে পারে।

খসড়া আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিধানগুলোর একটি রয়েছে ১৮ ধারায়। এতে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন বা ছাড়পত্র ছাড়া কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তর বা সংস্থা নগর পরিবহন উন্নয়ন প্রকল্প নিতে পারবে না।

প্রকল্পের ডিপিপি অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়ার আগেও কর্তৃপক্ষের অনুমোদন লাগবে। অর্থাৎ কোনো সরকারি সংস্থা নিজস্ব দায়িত্বের আওতায় পরিবহন-সংশ্লিষ্ট প্রকল্প নিতে চাইলেও নতুন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে। বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের নেওয়া পরিবহন প্রকল্পের চূড়ান্ত নকশা অনুমোদনের ক্ষমতাও থাকছে নতুন কর্তৃপক্ষের হাতে। এতে একই এলাকার একাধিক সংস্থার বিচ্ছিন্ন প্রকল্প কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এর ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থার পাশাপাশি নতুন একটি অনুমোদন স্তর যুক্ত হওয়ার বিষয়টিও সামনে আসছে।

খসড়ায় মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্ট কর্তৃপক্ষকে বাস রুট পরিকল্পনা, রুট অনুমোদন ও রুট পারমিট, বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি পরিকল্পনা, ফ্র্যাঞ্চাইজি চুক্তি, ভাড়া নির্ধারণ ও ভাড়া আদায় ব্যবস্থাপনার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ফলে নতুন আইন কার্যকর হলে নগর পরিবহনে সরাসরি বড় পরিবর্তন আসতে পারে বাস খাতে।

বর্তমানে ঢাকার বাস রুট রেশনালাইজেশনের কাজও ডিটিসিএর মাধ্যমে এগোচ্ছে। নতুন আইনে এসব ক্ষমতাকে আরও বিস্তৃত আইনগত কাঠামোর মধ্যে নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে কোন পথে বাস চলবে, কোন কোম্পানি কোন রুট পাবে এবং যাত্রীকে কত ভাড়া দিতে হবে—এসব বিষয়ে কর্তৃপক্ষের ভূমিকা আরও সরাসরি হবে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) বিদ্যমান দায়িত্বের সঙ্গেও নতুন কর্তৃপক্ষের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। রুট পরিকল্পনা ও অনুমোদন এক সংস্থার এবং যানবাহন ও চালকসংক্রান্ত নিয়ন্ত্রণ অন্য সংস্থার হাতে থাকলে দায়িত্বের সীমা স্পষ্ট না হলে বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

খসড়া আইনে সড়ক নিরাপত্তা অডিট এবং সড়ক দুর্ঘটনা তদন্তের ক্ষমতাও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সড়কের শ্রেণিবিন্যাস, ফুটপাত ও সড়কের মানদণ্ড, যানবাহনের ধরন ও সংখ্যা, গতি সীমা, পার্কিং পরিকল্পনা, ট্রাফিক সিগন্যাল ও ইন্টারসেকশনের নকশা অনুমোদনের মতো দায়িত্ব এই কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছে।

তবে দুর্ঘটনা তদন্তের ফলাফল কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট সড়ক বা অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণকারী সংস্থাকে কীভাবে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

খসড়ায় বলা হয়েছে, বহুতল ভবন বা আবাসন প্রকল্পের কারণে আশপাশের সড়কে যানবাহনের চাপ, প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ এবং পার্কিং ব্যবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ট্রাফিক সার্কুলেশন প্ল্যান অনুমোদন করবে নতুন কর্তৃপক্ষ। এতে নগর উন্নয়ন ও পরিবহন ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

খসড়ায় আইন লঙ্ঘনের জন্য ফৌজদারি শাস্তির পাশাপাশি প্রশাসনিক ব্যবস্থারও প্রস্তাব করা হয়েছে। খসড়ায় বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষ জরিমানা করতে পারবে, লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করতে পারবে এবং প্রয়োজন হলে কার্যক্রম স্থগিত করার ব্যবস্থা নিতে পারবে। খসড়ায় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া পরিবহন প্রকল্প গ্রহণ, ট্রাফিক সার্কুলেশন প্ল্যান ছাড়া নির্দিষ্ট স্থাপনা নির্মাণ এবং অনুমোদন ছাড়া ডিজিটাল টিকিটিং ব্যবস্থার মতো কর্মকাণ্ডকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা প্রয়োগে পরিদর্শক নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে। তাঁরা পরিবহন অবকাঠামোর পরিকল্পনা ও নথিপত্র পরীক্ষা, তথ্য-দলিল সংগ্রহ এবং অপরাধ তদন্তে পুলিশের উপপরিদর্শকের মতো ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন। তবে এসব ক্ষমতার প্রয়োগের শর্ত ও সীমা বিধিমালায় নির্ধারণের সুযোগ রাখা হয়েছে।

নগর এলাকায় পরিবহন অবকাঠামোর বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষসহ একাধিক সরকারি সংস্থা যুক্ত থাকে। নতুন আইনের খসড়ায় নগর পরিবহন প্রকল্পের ক্ষেত্রে এসব সংস্থার প্রকল্প গ্রহণের আগেও কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের বিধান রয়েছে। খসড়ায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন সংস্থার দায়িত্বও নির্ধারণ করতে পারবে।

প্রস্তাবিত আইনের ৫০ ধারায় ২০১২ সালের ডিটিসিএ আইন বিলুপ্তির কথা বলা হয়েছে। ডিটিসিএর সম্পদ, অধিকার, ক্ষমতা, বিনিয়োগ, নথি, দায়, চুক্তি, চলমান মামলা, বিভিন্ন পরিকল্পনা ও কর্মচারীদের নতুন কর্তৃপক্ষের অধীনে নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। অর্থাৎ ডিটিসিএর বিদ্যমান কাঠামো ও কার্যক্রমের ওপর ভিত্তি করেই নতুন কর্তৃপক্ষের যাত্রা শুরু হবে। প্রস্তাবিত আইনের খমড়ায় ডিটিসিএর তুলনায় নতুন কর্তৃপক্ষকে সরাসরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নিয়ন্ত্রণের ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খসড়া অনুযায়ী পরিবহনের বড় অংশের ক্ষমতা এক কর্তৃপক্ষের হাতে থাকবে। এতে বিআরটিএ, সওজ, রাজউক, সিটি করপোরেশন ও পুলিশের সঙ্গে দায়িত্বের সীমা স্পষ্ট না হলে সমন্বয়হীনতার বদলে ক্ষমতার ওভারল্যাপ তৈরি হতে পারে।

দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ক্ষমতা বাড়াতে গিয়ে নতুন কর্তৃপক্ষকে নগর-পরিকল্পনার প্রধান কর্তৃপক্ষ বানানো হলে তা পুনর্বিবেচনা করা দরকার। ভূমি ব্যবহার ও পরিবহন পরিকল্পনা সমন্বিতভাবে করতে হবে। ডিটিসিএ পরিবহন প্রকল্পগুলোর সমন্বয় করবে, তবে নগর-পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার ও অনুমোদিত পরিকল্পনা যেন উপেক্ষিত না হয়। একই সঙ্গে ডিটিসিএর নির্দেশনা উপেক্ষা করে বিভিন্ন সংস্থার নিজস্ব উদ্যোগে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ডিটিসিএর ক্ষমতা ও অন্যান্য সংস্থার দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করা জরুরি।

বাংলাদেশে শিশুদের জন্য জরুরি বিনিয়োগের আহ্বান ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালকের

বাংলাদেশে শিশুদের জন্য জরুরি বিনিয়োগের আহ্বান ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালকের

তিন দিনের বাংলাদেশ সফর শেষে শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জরুরি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল। সফরকালে তিনি ঢাকার কড়াইল বস্তির পরিবারগুলোর পাশাপাশি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ

বাংলাদেশে বসবাসকারী সব ধর্মের মানুষের একমাত্র ও প্রধান পরিচয় বাংলাদেশি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশে বসবাসকারী সব ধর্মের মানুষের একমাত্র ও প্রধান পরিচয় বাংলাদেশি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশে বসবাসকারী সব ধর্মের মানুষের একমাত্র ও প্রধান পরিচয় তাঁরা সবাই এ দেশের গর্বিত নাগরিক ‘বাংলাদেশি’। ধর্মীয় বা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে উপমা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

মাদকের সেই স্পটে এবার পুলিশের অভিযান, গাঁজাসহ আটক ৩

মাদকের সেই স্পটে এবার পুলিশের অভিযান, গাঁজাসহ আটক ৩

দয়াগঞ্জের ঘুন্টিঘরের মাদক স্পটে মঙ্গলবার সকালে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করেছে গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশ। আগের দিনের যৌথ অভিযানের পরও সেখানে মাদক বিক্রি ও সেবন চলছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। পূজার পর বিশেষ অভিযান ও প্রয়োজনে সার্বক্ষণিক নজরদারির পরিকল্পনা রয়েছে।

জনপ্রিয় টার্গেট

এমটিএ আইনের খসড়া: পরিবহনের সব ক্ষমতা যাচ্ছে এক কর্তৃপক্ষে

প্রকাশ: ০১:২০:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

• আইনের খসড়া সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে জমা।

• ডিটিসিএ-এর চেয়ে নতুন কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা ব্যাপক বৃদ্ধি হচ্ছে।

• প্রকল্প অনুমোদন, বাসের রুট-ভাড়াসহ সব ক্ষমতা রাখার বিধান।

ফাইল ছবি

নগর পরিবহনের পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) বদলে মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্ট কর্তৃপক্ষ (এমটিএ) করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন এই কর্তৃপক্ষের ক্ষমতার পরিধি ব্যাপকভাবে বাড়ানো হচ্ছে। পরিবহন প্রকল্প গ্রহণের আগে অনুমোদন, বাসের রুট ও রুট পারমিট, ফ্র্যাঞ্চাইজি, ভাড়া নির্ধারণ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বহুতল ভবন ও আবাসন প্রকল্পের ট্রাফিক পরিকল্পনা অনুমোদন, সড়ক নিরাপত্তা অডিট, দুর্ঘটনা তদন্তসহ নগর পরিবহনের সব ক্ষমতা থাকবে এই কর্তৃপক্ষের।

প্রস্তাবিত মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্ট কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৬-এর খসড়া থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। খসড়ায় নগর পরিবহন উন্নয়ন প্রকল্পের ডিপিপি অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়ার আগেও এই কর্তৃপক্ষের অনুমোদন বা ছাড়পত্র নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এই কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া প্রকল্প নিলে শাস্তির বিধানও রাখা হয়েছে। এতে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ার সুযোগ থাকলেও বিদ্যমান সংস্থাগুলোর এখতিয়ারের সঙ্গে নতুন কর্তৃপক্ষের ক্ষমতার সীমা কোথায় থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।

২০১২ সালের ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) আইন পরিবর্তন করে মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্ট কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৬ করতে যাচ্ছে সরকার। নতুন আইনের খসড়া ডিটিসিএ সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে জমা দিয়েছে। নতুন আইন কার্যকর হলে ডিটিসিএ-এর পরিবর্তে মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্ট কর্তৃপক্ষ গঠিত হবে।

জানতে চাইলে ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক (সচিব) মোহাম্মদ মসিউর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্ট কর্তৃপক্ষ আইনের খসড়া প্রায় এক মাস আগে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে জমা দেওয়া হয়েছে। খসড়াটি পর্যালোচনা করে কিছু সংশোধনের বিষয় চিহ্নিত হয়েছে। সংশোধনের পর সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের লিখিত মতামত নেওয়া হবে। এরপর এটি মন্ত্রিসভায় যাবে। সব প্রক্রিয়া ঠিকভাবে এগোলে আইনটি করতে আরও প্রায় ছয় মাস লাগতে পারে।

খসড়া আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিধানগুলোর একটি রয়েছে ১৮ ধারায়। এতে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন বা ছাড়পত্র ছাড়া কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তর বা সংস্থা নগর পরিবহন উন্নয়ন প্রকল্প নিতে পারবে না।

প্রকল্পের ডিপিপি অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়ার আগেও কর্তৃপক্ষের অনুমোদন লাগবে। অর্থাৎ কোনো সরকারি সংস্থা নিজস্ব দায়িত্বের আওতায় পরিবহন-সংশ্লিষ্ট প্রকল্প নিতে চাইলেও নতুন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে। বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের নেওয়া পরিবহন প্রকল্পের চূড়ান্ত নকশা অনুমোদনের ক্ষমতাও থাকছে নতুন কর্তৃপক্ষের হাতে। এতে একই এলাকার একাধিক সংস্থার বিচ্ছিন্ন প্রকল্প কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এর ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থার পাশাপাশি নতুন একটি অনুমোদন স্তর যুক্ত হওয়ার বিষয়টিও সামনে আসছে।

খসড়ায় মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্ট কর্তৃপক্ষকে বাস রুট পরিকল্পনা, রুট অনুমোদন ও রুট পারমিট, বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি পরিকল্পনা, ফ্র্যাঞ্চাইজি চুক্তি, ভাড়া নির্ধারণ ও ভাড়া আদায় ব্যবস্থাপনার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ফলে নতুন আইন কার্যকর হলে নগর পরিবহনে সরাসরি বড় পরিবর্তন আসতে পারে বাস খাতে।

বর্তমানে ঢাকার বাস রুট রেশনালাইজেশনের কাজও ডিটিসিএর মাধ্যমে এগোচ্ছে। নতুন আইনে এসব ক্ষমতাকে আরও বিস্তৃত আইনগত কাঠামোর মধ্যে নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে কোন পথে বাস চলবে, কোন কোম্পানি কোন রুট পাবে এবং যাত্রীকে কত ভাড়া দিতে হবে—এসব বিষয়ে কর্তৃপক্ষের ভূমিকা আরও সরাসরি হবে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) বিদ্যমান দায়িত্বের সঙ্গেও নতুন কর্তৃপক্ষের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। রুট পরিকল্পনা ও অনুমোদন এক সংস্থার এবং যানবাহন ও চালকসংক্রান্ত নিয়ন্ত্রণ অন্য সংস্থার হাতে থাকলে দায়িত্বের সীমা স্পষ্ট না হলে বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

খসড়া আইনে সড়ক নিরাপত্তা অডিট এবং সড়ক দুর্ঘটনা তদন্তের ক্ষমতাও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সড়কের শ্রেণিবিন্যাস, ফুটপাত ও সড়কের মানদণ্ড, যানবাহনের ধরন ও সংখ্যা, গতি সীমা, পার্কিং পরিকল্পনা, ট্রাফিক সিগন্যাল ও ইন্টারসেকশনের নকশা অনুমোদনের মতো দায়িত্ব এই কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছে।

তবে দুর্ঘটনা তদন্তের ফলাফল কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট সড়ক বা অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণকারী সংস্থাকে কীভাবে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

খসড়ায় বলা হয়েছে, বহুতল ভবন বা আবাসন প্রকল্পের কারণে আশপাশের সড়কে যানবাহনের চাপ, প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ এবং পার্কিং ব্যবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ট্রাফিক সার্কুলেশন প্ল্যান অনুমোদন করবে নতুন কর্তৃপক্ষ। এতে নগর উন্নয়ন ও পরিবহন ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

খসড়ায় আইন লঙ্ঘনের জন্য ফৌজদারি শাস্তির পাশাপাশি প্রশাসনিক ব্যবস্থারও প্রস্তাব করা হয়েছে। খসড়ায় বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষ জরিমানা করতে পারবে, লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করতে পারবে এবং প্রয়োজন হলে কার্যক্রম স্থগিত করার ব্যবস্থা নিতে পারবে। খসড়ায় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া পরিবহন প্রকল্প গ্রহণ, ট্রাফিক সার্কুলেশন প্ল্যান ছাড়া নির্দিষ্ট স্থাপনা নির্মাণ এবং অনুমোদন ছাড়া ডিজিটাল টিকিটিং ব্যবস্থার মতো কর্মকাণ্ডকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা প্রয়োগে পরিদর্শক নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে। তাঁরা পরিবহন অবকাঠামোর পরিকল্পনা ও নথিপত্র পরীক্ষা, তথ্য-দলিল সংগ্রহ এবং অপরাধ তদন্তে পুলিশের উপপরিদর্শকের মতো ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন। তবে এসব ক্ষমতার প্রয়োগের শর্ত ও সীমা বিধিমালায় নির্ধারণের সুযোগ রাখা হয়েছে।

নগর এলাকায় পরিবহন অবকাঠামোর বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষসহ একাধিক সরকারি সংস্থা যুক্ত থাকে। নতুন আইনের খসড়ায় নগর পরিবহন প্রকল্পের ক্ষেত্রে এসব সংস্থার প্রকল্প গ্রহণের আগেও কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের বিধান রয়েছে। খসড়ায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন সংস্থার দায়িত্বও নির্ধারণ করতে পারবে।

প্রস্তাবিত আইনের ৫০ ধারায় ২০১২ সালের ডিটিসিএ আইন বিলুপ্তির কথা বলা হয়েছে। ডিটিসিএর সম্পদ, অধিকার, ক্ষমতা, বিনিয়োগ, নথি, দায়, চুক্তি, চলমান মামলা, বিভিন্ন পরিকল্পনা ও কর্মচারীদের নতুন কর্তৃপক্ষের অধীনে নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। অর্থাৎ ডিটিসিএর বিদ্যমান কাঠামো ও কার্যক্রমের ওপর ভিত্তি করেই নতুন কর্তৃপক্ষের যাত্রা শুরু হবে। প্রস্তাবিত আইনের খমড়ায় ডিটিসিএর তুলনায় নতুন কর্তৃপক্ষকে সরাসরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নিয়ন্ত্রণের ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খসড়া অনুযায়ী পরিবহনের বড় অংশের ক্ষমতা এক কর্তৃপক্ষের হাতে থাকবে। এতে বিআরটিএ, সওজ, রাজউক, সিটি করপোরেশন ও পুলিশের সঙ্গে দায়িত্বের সীমা স্পষ্ট না হলে সমন্বয়হীনতার বদলে ক্ষমতার ওভারল্যাপ তৈরি হতে পারে।

দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ক্ষমতা বাড়াতে গিয়ে নতুন কর্তৃপক্ষকে নগর-পরিকল্পনার প্রধান কর্তৃপক্ষ বানানো হলে তা পুনর্বিবেচনা করা দরকার। ভূমি ব্যবহার ও পরিবহন পরিকল্পনা সমন্বিতভাবে করতে হবে। ডিটিসিএ পরিবহন প্রকল্পগুলোর সমন্বয় করবে, তবে নগর-পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার ও অনুমোদিত পরিকল্পনা যেন উপেক্ষিত না হয়। একই সঙ্গে ডিটিসিএর নির্দেশনা উপেক্ষা করে বিভিন্ন সংস্থার নিজস্ব উদ্যোগে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ডিটিসিএর ক্ষমতা ও অন্যান্য সংস্থার দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করা জরুরি।

বাংলাদেশে শিশুদের জন্য জরুরি বিনিয়োগের আহ্বান ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালকের

বাংলাদেশে শিশুদের জন্য জরুরি বিনিয়োগের আহ্বান ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালকের

তিন দিনের বাংলাদেশ সফর শেষে শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জরুরি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল। সফরকালে তিনি ঢাকার কড়াইল বস্তির পরিবারগুলোর পাশাপাশি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ

বাংলাদেশে বসবাসকারী সব ধর্মের মানুষের একমাত্র ও প্রধান পরিচয় বাংলাদেশি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশে বসবাসকারী সব ধর্মের মানুষের একমাত্র ও প্রধান পরিচয় বাংলাদেশি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশে বসবাসকারী সব ধর্মের মানুষের একমাত্র ও প্রধান পরিচয় তাঁরা সবাই এ দেশের গর্বিত নাগরিক ‘বাংলাদেশি’। ধর্মীয় বা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে উপমা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

মাদকের সেই স্পটে এবার পুলিশের অভিযান, গাঁজাসহ আটক ৩

মাদকের সেই স্পটে এবার পুলিশের অভিযান, গাঁজাসহ আটক ৩

দয়াগঞ্জের ঘুন্টিঘরের মাদক স্পটে মঙ্গলবার সকালে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করেছে গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশ। আগের দিনের যৌথ অভিযানের পরও সেখানে মাদক বিক্রি ও সেবন চলছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। পূজার পর বিশেষ অভিযান ও প্রয়োজনে সার্বক্ষণিক নজরদারির পরিকল্পনা রয়েছে।