কোমল পানীয় কি অ্যাসিডিটি দূর করে জেনে নিন আসল সত্য

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১০:৩৮:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫১ বার পঠিত হয়েছে

সফট ড্রিংকস খাওয়ার পর যে বড় ঢেকুরটি ওঠে, তা কিন্তু অ্যাসিডিটি কমার লক্ষণ নয়। আসল বিষয় হলো, এই পানীয়গুলোতে প্রচুর কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস মেশানো থাকে। পান করার সঙ্গে সঙ্গে সেই গ্যাস পেটে চলে যায়। শরীর তখন বাড়তি বাতাস বের করে দেয় ঢেকুর হিসেবে। অর্থাৎ যে গ্যাস পানীয়ের সঙ্গে পেটে ঢুকল, সেটাই বাইরে এল। কিন্তু পেটের অ্যাসিড কমল না!

গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় কোমল পানীয় পান আদতে ক্ষতি ডেকে আনে। যেসব ক্ষতি হতে পারে—

অ্যাসিডের মাত্রা বাড়ে: এসব পানীয়তে সাইট্রিক ও ফসফরিক অ্যাসিড থাকে। এমনিতেই গ্যাস্ট্রিকের কারণে পেটে অ্যাসিড বেশি হয়। তার ওপর এই টক তরল অ্যাসিডিটি আরও বাড়িয়ে দেয়।

বুক জ্বালাপোড়া: কোমল পানীয়ের গ্যাস ও ক্যাফেইন পেটের অ্যাসিডকে খাদ্যনালিতে ঠেলে দেয়। ফলে বুক জ্বালা ও অস্বস্তি বাড়ে।

ভুল আরামের অনুভূতি: ঠান্ডা পানীয় পেটে গেলে সাময়িক আরাম লাগে। এই ঠান্ডা ভাবটাকে অনেকে গ্যাস্ট্রিক কমার লক্ষণ ভেবে ভুল করেন।

গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি গবেষণা ও বিজ্ঞানসম্মত প্রমাণের ভিত্তিতে অ্যাসিডিটি স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখার কিছু সহজ উপায় আছে। সেগুলো হলো—

হালকা গরম পানি পান করুন: ভারী খাবার খাওয়ার ২০-৩০ মিনিট পর এক গ্লাস হালকা গরম পানি পান করুন। এটি পরিপাকতন্ত্রকে সক্রিয় করে এবং পাকস্থলীর ক্ষতিকর অ্যাসিড পাতলা করে দ্রুত নিচে নামিয়ে দেয়।

ডাবের পানি ও আদা-চা পান: অ্যাসিডিটি বা বুক জ্বালা শুরু হলে ডাবের পানি অথবা চিনি ছাড়া আদা-চা পান করুন। ডাব ও আদার ক্ষারীয় উপাদান পেটের অ্যাসিড প্রশমিত করে দ্রুত আরাম দেয়।

খাদ্যাভ্যাসে টক দই রাখুন: দুপুরের খাবারের পর প্রতিদিন এক বাটি টক দই খাওয়ার অভ্যাস করুন। এতে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া পাকস্থলীর স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনে এবং খাবার দ্রুত হজম হতে সাহায্য করে।

খাবার খাওয়ার পরপরই না শোয়া: খাবার খাওয়ার ২-৩ ঘণ্টা পর ঘুমাতে যান। খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়লে পেটের অ্যাসিড সহজে খাদ্যনালিতে উঠে বুক জ্বালা তৈরি করে।

কোমল পানীয় বা সফট ড্রিংকস অ্যাসিডিটি কমায় না, বরং বাড়ায়। তাই পেট শান্ত রাখতে বোতলজাত ক্ষতিকর গ্যাসের বদলে সহজ ও প্রাকৃতিক উপায়ের ওপর ভরসা রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।

আলু বোখারাগুলো পরিষ্কার পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে কয়েক ঘণ্টা অথবা সারা রাত ভিজিয়ে রাখুন। একটি কড়াইতে ভেজানো আলু বোখারা ও সামান্য পানি দিয়ে মাঝারি আঁচে ফুটিয়ে নিন। আলু বোখারা নরম হয়ে ফুলে উঠলে এতে চিনি, লবণ, জিরা ও মরিচ গুঁড়া দিন। অনবরত নাড়তে থাকুন, যাতে চিনি গলে ঘন…

কথায় বলে, দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা বুঝতে হয়। দাঁত ভালো রাখার জন্য কি শুধু দাঁতের যত্ন নিয়ে থেমে গেলে চলবে? আমাদের মুখে প্রায় ৭০০ প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ফাঙ্গাস নিয়ে একটি জটিল অণুজীবের সমাজ বা ওরাল মাইক্রোবায়োম আছে। তাই শুধু দাঁত পরিষ্কার রাখাই যথেষ্ট নয়।

বাইরে থেকে এসে অনেকে স্যালাইন খাওয়া পছন্দ করেন। কিন্তু প্রচণ্ড গরমে বাইরে থেকে এসে স্যালাইন খাওয়া উচিত নয়। কারণ, স্যালাইনের পানি মূলত ডায়রিয়া রোগীদের জন্য। আপনি পিপাসা মেটাতে স্যালাইন খেলে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হবে।

জনপ্রিয় টার্গেট

কোমল পানীয় কি অ্যাসিডিটি দূর করে জেনে নিন আসল সত্য

প্রকাশ: ১০:৩৮:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সফট ড্রিংকস খাওয়ার পর যে বড় ঢেকুরটি ওঠে, তা কিন্তু অ্যাসিডিটি কমার লক্ষণ নয়। আসল বিষয় হলো, এই পানীয়গুলোতে প্রচুর কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস মেশানো থাকে। পান করার সঙ্গে সঙ্গে সেই গ্যাস পেটে চলে যায়। শরীর তখন বাড়তি বাতাস বের করে দেয় ঢেকুর হিসেবে। অর্থাৎ যে গ্যাস পানীয়ের সঙ্গে পেটে ঢুকল, সেটাই বাইরে এল। কিন্তু পেটের অ্যাসিড কমল না!

গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় কোমল পানীয় পান আদতে ক্ষতি ডেকে আনে। যেসব ক্ষতি হতে পারে—

অ্যাসিডের মাত্রা বাড়ে: এসব পানীয়তে সাইট্রিক ও ফসফরিক অ্যাসিড থাকে। এমনিতেই গ্যাস্ট্রিকের কারণে পেটে অ্যাসিড বেশি হয়। তার ওপর এই টক তরল অ্যাসিডিটি আরও বাড়িয়ে দেয়।

বুক জ্বালাপোড়া: কোমল পানীয়ের গ্যাস ও ক্যাফেইন পেটের অ্যাসিডকে খাদ্যনালিতে ঠেলে দেয়। ফলে বুক জ্বালা ও অস্বস্তি বাড়ে।

ভুল আরামের অনুভূতি: ঠান্ডা পানীয় পেটে গেলে সাময়িক আরাম লাগে। এই ঠান্ডা ভাবটাকে অনেকে গ্যাস্ট্রিক কমার লক্ষণ ভেবে ভুল করেন।

গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি গবেষণা ও বিজ্ঞানসম্মত প্রমাণের ভিত্তিতে অ্যাসিডিটি স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখার কিছু সহজ উপায় আছে। সেগুলো হলো—

হালকা গরম পানি পান করুন: ভারী খাবার খাওয়ার ২০-৩০ মিনিট পর এক গ্লাস হালকা গরম পানি পান করুন। এটি পরিপাকতন্ত্রকে সক্রিয় করে এবং পাকস্থলীর ক্ষতিকর অ্যাসিড পাতলা করে দ্রুত নিচে নামিয়ে দেয়।

ডাবের পানি ও আদা-চা পান: অ্যাসিডিটি বা বুক জ্বালা শুরু হলে ডাবের পানি অথবা চিনি ছাড়া আদা-চা পান করুন। ডাব ও আদার ক্ষারীয় উপাদান পেটের অ্যাসিড প্রশমিত করে দ্রুত আরাম দেয়।

খাদ্যাভ্যাসে টক দই রাখুন: দুপুরের খাবারের পর প্রতিদিন এক বাটি টক দই খাওয়ার অভ্যাস করুন। এতে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া পাকস্থলীর স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনে এবং খাবার দ্রুত হজম হতে সাহায্য করে।

খাবার খাওয়ার পরপরই না শোয়া: খাবার খাওয়ার ২-৩ ঘণ্টা পর ঘুমাতে যান। খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়লে পেটের অ্যাসিড সহজে খাদ্যনালিতে উঠে বুক জ্বালা তৈরি করে।

কোমল পানীয় বা সফট ড্রিংকস অ্যাসিডিটি কমায় না, বরং বাড়ায়। তাই পেট শান্ত রাখতে বোতলজাত ক্ষতিকর গ্যাসের বদলে সহজ ও প্রাকৃতিক উপায়ের ওপর ভরসা রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।

আলু বোখারাগুলো পরিষ্কার পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে কয়েক ঘণ্টা অথবা সারা রাত ভিজিয়ে রাখুন। একটি কড়াইতে ভেজানো আলু বোখারা ও সামান্য পানি দিয়ে মাঝারি আঁচে ফুটিয়ে নিন। আলু বোখারা নরম হয়ে ফুলে উঠলে এতে চিনি, লবণ, জিরা ও মরিচ গুঁড়া দিন। অনবরত নাড়তে থাকুন, যাতে চিনি গলে ঘন…

কথায় বলে, দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা বুঝতে হয়। দাঁত ভালো রাখার জন্য কি শুধু দাঁতের যত্ন নিয়ে থেমে গেলে চলবে? আমাদের মুখে প্রায় ৭০০ প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ফাঙ্গাস নিয়ে একটি জটিল অণুজীবের সমাজ বা ওরাল মাইক্রোবায়োম আছে। তাই শুধু দাঁত পরিষ্কার রাখাই যথেষ্ট নয়।

বাইরে থেকে এসে অনেকে স্যালাইন খাওয়া পছন্দ করেন। কিন্তু প্রচণ্ড গরমে বাইরে থেকে এসে স্যালাইন খাওয়া উচিত নয়। কারণ, স্যালাইনের পানি মূলত ডায়রিয়া রোগীদের জন্য। আপনি পিপাসা মেটাতে স্যালাইন খেলে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হবে।