কাজের চেয়ে আত্মবিশ্বাস বেশি: এই আচরণ কতটা স্বাভাবিক

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০১:১২:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১১৪ বার পঠিত হয়েছে

প্রকৃতিতে ময়ূরের বিশাল ও রঙিন পেখম কিন্তু তার বেঁচে থাকার জন্য একধরনের বোঝা। এটি ভারী, ওড়ার সময় শক্তি খরচ হয় বেশি এবং সহজে শিকারি প্রাণীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তবু ময়ূর এই পেখম বহন করে। কারণ, এটি তার সুস্থতা ও যোগ্যতার শক্ত প্রমাণ—সবচেয়ে শক্তিশালী ময়ূরই এমন ভারী পেখম বহন করেও টিকে থাকতে পারে। গবেষকেরা এই বিষয়কে মানুষের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মিলিয়েছেন। গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব বাথ-এর স্কুল অব ম্যানেজমেন্টের আচরণগত অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ক্রিস ডসন এবং লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্সের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রফেসর ডেভিড ডি মেজা। গবেষক ক্রিস ডসন ও ডেভিড ডি মেজা জানান, মানুষের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসও ঠিক একইভাবে কাজ করে। নিজের যোগ্যতাকে বাড়িয়ে দেখার কারণে মানুষ প্রায়ই ভুল সিদ্ধান্ত নেয় বা অতিরিক্ত ঝুঁকি নিয়ে ফেলে, যা বেশ ব্যয়বহুল। কিন্তু যোগ্য মানুষদের জন্য এই ভুলের ক্ষতি কম হয় বা তারা ভুল সামলে নেওয়ার ক্ষমতা রাখে। ফলে, সমাজ বা অন্যদের কাছে এই আত্মবিশ্বাস নিজের ভেতরে থাকা অদেখা যোগ্যতার এক বিশ্বস্ত ইঙ্গিত বা সিগন্যাল হিসেবে পৌঁছায়।

বিখ্যাত বিবর্তনবাদী জীববিজ্ঞানী রবার্ট ত্রিভার্স একসময় বলেছিলেন, মানুষ অন্যকে সহজে প্রতারিত বা প্রভাবিত করার জন্যই নিজেকে ধোঁকা দেয় বা আত্মপ্রতারণা চর্চা করে। কারণ, বানানো কথা বা অভিনয় করার সময় মুখে বা গলার স্বরে দ্বিধা ধরা পড়ে। কিন্তু নিজের ওপর শতভাগ বিশ্বাস থাকলে তা আর বোঝা যায় না। তবে প্রফেসর ডি মেজা এই তত্ত্বের একটি অসংগতি তুলে ধরে বলেন, মানুষ যদি জানে যে আত্মবিশ্বাসের পেছনে অতিরঞ্জন থাকে, তবে তারা কেন অন্যের মুখের কথায় বিশ্বাস করবে? বাথ ও এলএসইর এই নতুন গবেষণা বলছে, অতিরঞ্জিত আত্মবিশ্বাসের কারণে যে ভুল বা ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়, তা বহন করার সক্ষমতা সবার থাকে না। শুধু যার প্রকৃত যোগ্যতা রয়েছে, তিনি এই খরচের ঝুঁকি বহন করে বড় দাবি করতে পারেন। ফলে সমাজে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করলেও মানুষ শেষ পর্যন্ত সত্যিকারের দক্ষদের চিনতে পারে।

অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে আরও একটি বিপরীতমুখী মানসিক প্রবণতা কাজ করে। যাকে বলা হয় লস এভারশন বা লাভের চেয়ে ক্ষতিকে বেশি ভয় পাওয়ার মানসিকতা। একদিকে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস আমাদের বড় বড় ঝুঁকি নিতে উসকানি দেয়, অন্যদিকে লস এভারশন আমাদের ভেতরের অদৃশ্য ব্রেক বা হ্যান্ডব্রেকের মতো থামিয়ে দেয়। প্রফেসর ডি মেজা ব্যাখ্যা করেছেন, মানুষ প্রকাশ্যে আত্মবিশ্বাসের কথা বললেও কাজ করার সময় কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করে। এই সতর্কতা তাদের পুরোপুরি বড় ধরনের ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে। চার হাজারের বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা দেখেছেন, যাঁরা নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন, পরীক্ষায় তাঁদের মূল ফলাফলও তুলনামূলক ভালো ছিল।

সূত্র: দ্য কনভারসেশন, ইউনিভার্সিটি অব বাথ

একসময় ইরাক মানেই ছিল যুদ্ধ, ধ্বংস আর নিরাপত্তাহীনতার ছবি। কিন্তু ২০২৫-২৬ সালে দেশটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক পর্যটনভূমি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। শিয়া মুসলিমদের কারবালা ও নাজাফের পাশাপাশি খ্রিষ্টান তীর্থযাত্রীদের জন্যও ইরাক নতুন করে নিজেকে তুলে ধরছে। ইরাকের সবচেয়ে প্রতীকী…

উনিশ শতকের সেই অদ্ভুত ও কিছুটা বিকৃত কৌতূহল কিন্তু ইতিহাস থেকে মুছে যায়নি। আধুনিক যুগে এসে সেই আগ্রহই জন্ম দিয়েছে এক নতুন আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ধারা, যাকে বলা হচ্ছে ডার্ক ট্যুরিজম। অ্যাডভেঞ্চার ও থ্রিল-সন্ধানী একদল ভিন্নধর্মী পর্যটক এখন আর সমুদ্রসৈকত বা কোনো বিখ্যাত শহরের রাস্তায় ঘোরে না। তাদের…

একজন মানুষ দৈনন্দিন নানা বিষয় নিয়ে স্বাভাবিকভাবে কথা বললেও নিজের অনুভূতি নিয়ে কথা বলতে চান না। সম্পর্কের কোনো জটিল বিষয় উঠলে তিনি এড়িয়ে যান। অন্যজন কষ্টের কথা বললে সেটি গুরুত্বের সঙ্গে না নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেন। আবার কখনো সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার সময় তিনি নিজেই দূরত্ব তৈরি শুরু করেন। এ ধরনের…

জনপ্রিয় টার্গেট

পুলিশ সদর দপ্তরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন আইজিপির

কাজের চেয়ে আত্মবিশ্বাস বেশি: এই আচরণ কতটা স্বাভাবিক

প্রকাশ: ০১:১২:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রকৃতিতে ময়ূরের বিশাল ও রঙিন পেখম কিন্তু তার বেঁচে থাকার জন্য একধরনের বোঝা। এটি ভারী, ওড়ার সময় শক্তি খরচ হয় বেশি এবং সহজে শিকারি প্রাণীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তবু ময়ূর এই পেখম বহন করে। কারণ, এটি তার সুস্থতা ও যোগ্যতার শক্ত প্রমাণ—সবচেয়ে শক্তিশালী ময়ূরই এমন ভারী পেখম বহন করেও টিকে থাকতে পারে। গবেষকেরা এই বিষয়কে মানুষের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মিলিয়েছেন। গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব বাথ-এর স্কুল অব ম্যানেজমেন্টের আচরণগত অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ক্রিস ডসন এবং লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্সের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রফেসর ডেভিড ডি মেজা। গবেষক ক্রিস ডসন ও ডেভিড ডি মেজা জানান, মানুষের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসও ঠিক একইভাবে কাজ করে। নিজের যোগ্যতাকে বাড়িয়ে দেখার কারণে মানুষ প্রায়ই ভুল সিদ্ধান্ত নেয় বা অতিরিক্ত ঝুঁকি নিয়ে ফেলে, যা বেশ ব্যয়বহুল। কিন্তু যোগ্য মানুষদের জন্য এই ভুলের ক্ষতি কম হয় বা তারা ভুল সামলে নেওয়ার ক্ষমতা রাখে। ফলে, সমাজ বা অন্যদের কাছে এই আত্মবিশ্বাস নিজের ভেতরে থাকা অদেখা যোগ্যতার এক বিশ্বস্ত ইঙ্গিত বা সিগন্যাল হিসেবে পৌঁছায়।

বিখ্যাত বিবর্তনবাদী জীববিজ্ঞানী রবার্ট ত্রিভার্স একসময় বলেছিলেন, মানুষ অন্যকে সহজে প্রতারিত বা প্রভাবিত করার জন্যই নিজেকে ধোঁকা দেয় বা আত্মপ্রতারণা চর্চা করে। কারণ, বানানো কথা বা অভিনয় করার সময় মুখে বা গলার স্বরে দ্বিধা ধরা পড়ে। কিন্তু নিজের ওপর শতভাগ বিশ্বাস থাকলে তা আর বোঝা যায় না। তবে প্রফেসর ডি মেজা এই তত্ত্বের একটি অসংগতি তুলে ধরে বলেন, মানুষ যদি জানে যে আত্মবিশ্বাসের পেছনে অতিরঞ্জন থাকে, তবে তারা কেন অন্যের মুখের কথায় বিশ্বাস করবে? বাথ ও এলএসইর এই নতুন গবেষণা বলছে, অতিরঞ্জিত আত্মবিশ্বাসের কারণে যে ভুল বা ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়, তা বহন করার সক্ষমতা সবার থাকে না। শুধু যার প্রকৃত যোগ্যতা রয়েছে, তিনি এই খরচের ঝুঁকি বহন করে বড় দাবি করতে পারেন। ফলে সমাজে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করলেও মানুষ শেষ পর্যন্ত সত্যিকারের দক্ষদের চিনতে পারে।

অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে আরও একটি বিপরীতমুখী মানসিক প্রবণতা কাজ করে। যাকে বলা হয় লস এভারশন বা লাভের চেয়ে ক্ষতিকে বেশি ভয় পাওয়ার মানসিকতা। একদিকে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস আমাদের বড় বড় ঝুঁকি নিতে উসকানি দেয়, অন্যদিকে লস এভারশন আমাদের ভেতরের অদৃশ্য ব্রেক বা হ্যান্ডব্রেকের মতো থামিয়ে দেয়। প্রফেসর ডি মেজা ব্যাখ্যা করেছেন, মানুষ প্রকাশ্যে আত্মবিশ্বাসের কথা বললেও কাজ করার সময় কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করে। এই সতর্কতা তাদের পুরোপুরি বড় ধরনের ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে। চার হাজারের বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা দেখেছেন, যাঁরা নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন, পরীক্ষায় তাঁদের মূল ফলাফলও তুলনামূলক ভালো ছিল।

সূত্র: দ্য কনভারসেশন, ইউনিভার্সিটি অব বাথ

একসময় ইরাক মানেই ছিল যুদ্ধ, ধ্বংস আর নিরাপত্তাহীনতার ছবি। কিন্তু ২০২৫-২৬ সালে দেশটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক পর্যটনভূমি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। শিয়া মুসলিমদের কারবালা ও নাজাফের পাশাপাশি খ্রিষ্টান তীর্থযাত্রীদের জন্যও ইরাক নতুন করে নিজেকে তুলে ধরছে। ইরাকের সবচেয়ে প্রতীকী…

উনিশ শতকের সেই অদ্ভুত ও কিছুটা বিকৃত কৌতূহল কিন্তু ইতিহাস থেকে মুছে যায়নি। আধুনিক যুগে এসে সেই আগ্রহই জন্ম দিয়েছে এক নতুন আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ধারা, যাকে বলা হচ্ছে ডার্ক ট্যুরিজম। অ্যাডভেঞ্চার ও থ্রিল-সন্ধানী একদল ভিন্নধর্মী পর্যটক এখন আর সমুদ্রসৈকত বা কোনো বিখ্যাত শহরের রাস্তায় ঘোরে না। তাদের…

একজন মানুষ দৈনন্দিন নানা বিষয় নিয়ে স্বাভাবিকভাবে কথা বললেও নিজের অনুভূতি নিয়ে কথা বলতে চান না। সম্পর্কের কোনো জটিল বিষয় উঠলে তিনি এড়িয়ে যান। অন্যজন কষ্টের কথা বললে সেটি গুরুত্বের সঙ্গে না নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেন। আবার কখনো সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার সময় তিনি নিজেই দূরত্ব তৈরি শুরু করেন। এ ধরনের…