নতুন কর্মস্থলে অভিজ্ঞ সহকর্মীদের মধ্যে অপ্রস্তুত লাগা স্বাভাবিক। টার্নাসের পরামর্শ, ‘সব সময় ধরে নেবেন, ঘরে উপস্থিত অন্য সবার মতো আপনিও মেধাবী। কিন্তু কখনোই ধরে নেবেন না, অন্যদের মতো আপনিও সবকিছু জানেন।’ নিজের সামর্থ্যে আস্থা রাখলে নতুন দায়িত্ব নেওয়া সহজ হয়। আর সবকিছু জানি ভাবলে শেখার সুযোগ কমে যায়।
দ্রুত পদোন্নতি, বড় পদবি বা বেশি বেতনের আকাঙ্ক্ষা স্বাভাবিক। তবে শুধু এসবের দিকে তাকিয়ে পেশা বেছে না নিয়ে নিজের আগ্রহ ও মূল্যবোধের সঙ্গে মেলে—এমন কাজ বেছে নিতে বলেন টার্নাস। তাঁর পরামর্শ, ‘কাজের প্রতি আপনি যে যত্ন ও মনোযোগ দেন, তা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ।’ কাজের মান বাড়ানো, নতুন কিছু শেখা ও সমস্যার সমাধানে মনোযোগী হওয়াও এর অংশ।
টার্নাসের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের বড় শিক্ষা হলো কীভাবে শিখতে হয়, তা
শেখা। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা শেষ হলেও শেখার প্রয়োজন ফুরোয় না। প্রযুক্তি
ও কর্মক্ষেত্রের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে নতুন জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন
ভুল করলে বা না জানলে অন্যরা অযোগ্য ভাববেন—এই আশঙ্কায় অনেকে দুর্বলতা লুকান। টার্নাস বলেন, ‘যখন আমার সাহায্যের প্রয়োজন হয়েছে, তখন সাহায্য চাইতে ভয় পাইনি—এ জন্য আমি সব সময় কৃতজ্ঞ থাকব।’ অভিজ্ঞদের কাছ থেকে শেখা, ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং নিজের সীমাবদ্ধতা চেনা এগিয়ে যাওয়ার জন্য জরুরি। কাজের প্রতি নিবেদিত মানুষের সঙ্গে থাকলে নিজেকে বাড়ানোর অনুপ্রেরণাও মেলে। শুরুতেই সবকিছু জানার চাপ নেওয়ার দরকার নেই। যেসব বিষয় অজানা রয়েছে, তা বুঝে শেখার উদ্যোগ নেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বক্তৃতার শেষে স্টিভ জবসের আহ্বান স্মরণ করে টার্নাস বলেন, ‘এটাই আপনাদের সময়, এটাই আপনাদের মুহূর্ত। তাই স্টিভ জবসের কথামতো এগিয়ে যান এবং পৃথিবীতে এমন কিছু করে দেখান, যা পৃথিবীকে বদলে দেবে।’ সাফল্য মানে শুধু বড় প্রতিষ্ঠানে চাকরি বা উচ্চ পদ নয়। নতুন কিছু তৈরি করা, মানুষের সমস্যা সমাধান করা ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনাও এর অংশ।

দৈনিক টার্গেট 


























