প্রত্যক্ষদর্শী ও হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৯টায় লরির ধাক্কায় মাইশা, তাঁর এক সহপাঠী এবং একটি মিনিবাসের কয়েকজন যাত্রী আহত হন। আহত মাইশাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে তাঁর মৃত্যু হয়।
মাইশার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে আইআইইউসির শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থান নেন। পরে শিক্ষার্থীরা বড় গাছের গুঁড়ি ফেলে রেলপথও অবরোধ করেন।
অবরোধের শুরুতে ঢাকামুখী সড়কে দূরপাল্লার শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। পরে চট্টগ্রামমুখী সড়কেও যানজট ছড়িয়ে পড়ে। এতে চালক ও দূরদূরান্তের যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।
শিক্ষার্থীরা জানান, জেলা প্রশাসক ঘটনাস্থলে না আসা পর্যন্ত তাঁরা অবরোধ প্রত্যাহার করবেন না। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনার পর পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস পেলে তবেই কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হবে।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো—২৪ ঘণ্টার মধ্যে লরিচালককে গ্রেপ্তার করে চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া, কেডিএস ডিপোর অবৈধ পার্কিং বন্ধ করা, ক্যাম্পাস গেটের উভয় সড়কে পদচারী সেতু স্থাপন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে লরির মালিকপক্ষের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং রাস্তা পারাপারের সুবিধার্থে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা বাড়ানো।
আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোস্তফা মনির চৌধুরী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাইশা মুশফিরাতের মৃত্যুর ঘটনায় পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট শফিউল ইসলাম শুভ জানান, শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও রেলপথে যানবাহন ও ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। পুলিশ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে অবরোধ প্রত্যাহারের চেষ্টা করছে। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে চালকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা চলছে।

দৈনিক টার্গেট 






















