এ দিকে পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী চুয়েটে ক্লাস শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে বিভিন্ন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখা যায়। কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও দাপ্তরিক এবং প্রশাসনিক কাজে অংশগ্রহণ করেছেন।
এদিকে দাপ্তরিক কাজে ঢাকায় অবস্থানের কথা জানিয়ে চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম অধ্যাপক কাউছারকে রুটিন দায়িত্ব দিয়ে ই-মেইল পাঠান মঙ্গলবার।
ই-মেইলে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম বলেন, ‘দাপ্তরিক কাজে আমি ঢাকায় অবস্থান করব। এমতাবস্থায় আমার অনুপস্থিতিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু কাউছার রুটিন দায়িত্ব পালন করবেন।’
তবে এ দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু কাউছার। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাকে জিজ্ঞাসা করে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। উনি (উপাচার্য) নিজে থেকে একটা ই-মেইল লিখলেই কী আমি এ দায়িত্ব পালন করব?’
মুঠোফোনে উপাচার্যকে দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের কথা জানিয়েছেন উল্লেখ করে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু কাউছার আরও বলেন, ‘ক্যাম্পাসে নিজেকে বিপন্ন করে আমি দায়িত্ব নিতে পারি না।’
এর আগে, গত রোববার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে এক ই-মেইল বার্তায় এক দিনের জন্য উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কাজী দেলোয়ার হোসেনকে। সে বার্তায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম উল্লেখ করেন, ২ নভেম্বর ইউজিসির একটি সরকারি সভায় অংশ নিতে তিনি ঢাকায় অবস্থান করবেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে অধ্যাপক ড. কাজী দেলোয়ার হোসেনকে রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ১ নভেম্বর বিকেল থেকে এ দায়িত্ব কার্যকর হয়। ২ নভেম্বর সন্ধ্যায় উপাচার্য কর্মস্থলে ফিরে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তা বহাল থাকার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে না ফিরে অধ্যাপক কাউছারকে এ দায়িত্ব প্রদানের কথা বলা হয়।
উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর সাবেক ভিসি অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের নিয়োগ বাতিল করে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে ভিসির দায়িত্ব দেয় সরকার। এর প্রতিবাদে এবং অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে ২২ সেপ্টেম্বর থেকেই কমপ্লিট শাট ডাউনে যায় শিক্ষার্থীরা। আন্দোলন শুরু হয় ক্যাম্পাসে। এতে যোগ দেন চুয়েটের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। দীর্ঘ অচলাবস্থা চলতে থাকে। শেষে গত ২৮ অক্টোবর থেকে ক্লাসে ফেরে শিক্ষার্থীরা।
ক্লাসে উপস্থিত হওয়া প্রসঙ্গে চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী গোলাম মুর্শেদ রাতুল জানান, ‘দাবি একটাই—ড. সায়েম স্যারকে পুনর্বহাল। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও একই দাবিতে আন্দোলন করছেন। এই দাবি আদায়ে আমরা সবপক্ষ এক কাতারে আছি।’
এই বিষয়ে চুয়েট শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক সামিউন বাসির বলেন, ‘আমরা সাবেক উপাচার্যের পুনর্বহালের দাবিতে অটল আছি। আশা করি, সরকার দ্রুত সমাধান দেবে। তবে শিক্ষার্থীদের বৃহত্তর স্বার্থের কথা চিন্তা করে আমরা ক্লাস চালিয়ে যাচ্ছি।’
চুয়েট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা ক্লাসে যোগ দিয়েছেন। আমরাও আমাদের কার্যক্রমে যোগ দিয়েছি। কিন্তু আমাদের দাবি পূরণ হওয়ার আগ পর্যন্ত চুয়েটে অচলাবস্থা কাটবে না।’

দৈনিক টার্গেট 






















