• ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় স্থানীয়দের বাধার মুখে বন্ধ রয়েছে নির্মাণকাজ
জমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত জটিলতায় স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধার মুখে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে মাদারীপুরের চরমুগরিয়া ইকোপার্কের নির্মাণকাজ। এই পরিস্থিতিতে রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকি না থাকায় কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বানানো ইকোপার্কের বিভিন্ন স্থাপনা বেহাল হয়ে পড়ছে এবং বেশির ভাগ মাল চুরি হয়ে গেছে। পুরো ইকোপার্ক ঝোপজঙ্গলে ভরে গেছে। নিরিবিলি ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ পেয়ে নেশাখোররা সেখানে আড্ডা জমাচ্ছে।
স্থানীয় ও মাদারীপুর বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার চরমুগরিয়ার কুমড়াখালী মৌজার কুমার নদের তীরে নয়াচর এলাকায় ইকোপার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয় ফরিদপুর সামাজিক বন বিভাগ। ইকোপার্কটি নির্মাণের জন্য প্রথম পর্যায়ে ৩১ কোটি ৭৩ লাখ ৮২ হাজার টাকার অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে প্রথম সংশোধনে তা ৩২ কোটি ২৪ লাখ টাকা করা হয়। ২০২০ সালে ইকোপার্কের নির্মাণকাজ শুরু হয়। এটি শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে।
পরবর্তী সময়ে প্রকল্পটি আধুনিকীকরণে দ্বিতীয় সংশোধন করা হয়। দ্বিতীয় সংশোধনে নির্মাণ খরচ বেড়ে ৩৬ কোটি ৭৯ লাখ ৮৫ হাজার টাকা হয়। ১০.৩৬ একর জায়গার ওপর নির্মিত ইকোপার্কটির দ্বিতীয় সংশোধনের কাজ ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে শুরু হয়। ২০২৫ সালের জুন মাসে কাজটি শেষ হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধায় ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে ইকোপার্কের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ২০২৫ সালের শেষের দিকে নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করতে গেলে বাধা দেয় স্থানীয় লোকজন।
মাদারীপুর বন বিভাগ সূত্রে আরও জানা গেছে, ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আশ্বাসে নয়াচর এলাকার ২৪টি পরিবার ইকোপার্ক নির্মাণের জন্য তাদের জায়গা ছেড়ে দেয়। কিন্তু মাত্র একটি পরিবার ক্ষতিপূরণের টাকা পায়। অন্যরা এখনো টাকা পায়নি। তাদের বাধায় ইকোপার্কটির নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। এ ছাড়া বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলাও রয়েছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, ইকোপার্কের ভেতরের বিভিন্ন রাস্তার ইট উধাও হয়ে গেছে। এ ছাড়া কাজের জন্য স্তূপ করে রাখা ইট, বালু, রড কোনো কিছুই নেই। ইকোপার্কের ভেতরে ঢুকতেই ঘাট বাঁধানো বিশাল বড় একটি পুকুর, চারটি পিকনিক স্পট, পানির ট্যাংক, অর্কিড হাউস, দুটি টয়লেট জোন, স্টাফ জোন, তিনতলা অফিস ভবন, বানরদের জন্য চিকিৎসাকেন্দ্র, চিলড্রেন কর্নারসহ অন্যান্য স্থাপনা রয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এসব স্থাপনা অপরিচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। চারপাশ ঘন জঙ্গলে ভরে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ইকোপার্কের কাজ বন্ধ রয়েছে। কোনো ধরনের তদারকি না থাকায় চারপাশ ঝোপজঙ্গলে ভরে গেছে।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বলেন, ‘আমাদের কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি। তাই নির্মাণকাজে বাধা দিয়েছি। কারণ, একবার কাজ শেষ হয়ে গেলে আর কোনো টাকা পাব না।’
মাদারীপুর বন বিভাগের কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের তালিকা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পরে ক্ষতিপূরণের জন্য ২ কোটি ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। সেই ক্ষতিপূরণের টাকা ২০২৩ সালের জুন মাসে তৎকালীন জেলা প্রশাসকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একজনকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও তৎকালীন জেলা প্রশাসকের বদলিসহ নানা জটিলতায় অন্য ব্যক্তিরা এখনো ক্ষতিপূরণের টাকা পাননি। নির্মাণকাজ প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ হলেও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের দুই দফা বাধার মুখে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি।

দৈনিক টার্গেট 
























