মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বড়াইগ্রাম উপজেলার সরকারপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালীর কুয়াকাটা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী আরপি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে কুড়িগ্রাম থেকে পাবনাগামী বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ৯ জন নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুজনের মৃত্যু হয়।
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার কাজীরহাট গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে সোহাগ হোসেন (৩০)। অন্য নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দুর্ঘটনায় আহত অন্তত ৩০ জনকে উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নাটোর সদর হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ আলমগীর হোসেন এবং নাটোর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন উপপরিচালক আক্তার হামিদ খান জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। ঘটনাস্থল থেকে ৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
দুর্ঘটনাকবলিত বাসের যাত্রী আব্দুস সালাম জানান, বাসটি কুয়াকাটা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ যাচ্ছিল। তিনি মাদারীপুরের মোস্তাকপুর থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ যাওয়ার জন্য রাত ৯টার দিকে বাসে ওঠেন। তাঁর আসন ছিল বাসের পেছনের দিকে।
আব্দুস সালাম বলেন, বাসে অতিরিক্ত যাত্রী ছিল। সব আসন পূর্ণ থাকার পাশাপাশি অনেক যাত্রী দাঁড়িয়ে ছিলেন। যাত্রীর চাপে বাসের ভেতরে পা ফেলারও জায়গা ছিল না। তাঁর অভিযোগ, বাসটি অতিরিক্ত গতিতে চলছিল এবং চালক মাঝেমধ্যে জোরে ব্রেক করছিলেন। এতে যাত্রীরা আসন থেকে ছিটকে পড়ছিলেন।
নাটোরের জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার বলেন, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাচ্ছেন। পরিদর্শন শেষে তদন্ত কমিটি গঠনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দৈনিক টার্গেট 
























