এর আগে গতকাল বুধবার কক্সবাজার-সেন্ট মার্টিন নৌ রুটে তিনটি জাহাজ চলাচলের অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। অনুমোদনপ্রাপ্ত তিন জাহাজের মধ্যে এমভি বার আউলিয়া ছাড়াও রয়েছে এমভি কর্ণফুলী ও এমভি টেকনাফ। জাহাজ তিনটির মোট যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮ জন। এর মধ্যে এমভি বার আউলিয়ার ধারণক্ষমতা ৮৫০, এমভি কর্ণফুলির ৭৩২ এবং এমভি টেকনাফের ৭১৬ জন।
গত ২৫ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে ১ নভেম্বর থেকে সেন্ট মার্টিনে পর্যটক যাতায়াতের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা দ্বীপে যাতায়াত করতে পারবেন। এ সময় প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
আজ প্রথমবার জাহাজ ছাড়ার আগে পর্যটকদের ট্রাভেল পাস যাচাই করার পাশাপাশি দ্বীপে ভ্রমণের সময় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ সময় জাহাজের ফিটনেস, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন করেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, নানা জটিলতা কাটিয়ে আট শতাধিক যাত্রী নিয়ে এমভি বার আউলিয়া সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা করেছে। যাঁরা টিকিট কেটেছেন, তাঁরাই আজ যাচ্ছেন। সকাল সাড়ে সাতটায় কক্সবাজার ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া এমভি বার আউলিয়া বিকেল আড়াইটায় সেন্টমার্টিন ঘাট থেকে ফিরবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার আরও দুটি জাহাজ চলাচলের অনুমোদন দিয়েছে। যাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে সেগুলোও চালু করা হবে। এ ছাড়া আরও ছয়টি জাহাজ চলাচলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে। সেগুলো সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সেন্টমার্টিনের পর্যটন নিয়ে বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক বলে জানান তিনি।
কক্সবাজার সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আতাউর রহমান বলেন, ‘জাহাজ চলাচলে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে নজরদারি করা হচ্ছে। কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করেছেন। প্রাথমিকভাবে সবকিছু ঠিকঠাক পাওয়া গেছে। পর্যায়ক্রমে জাহাজ চলাচল বাড়লে প্রতিটি বিষয় আরও নিবিড়ভাবে তদারকি করা হবে।’
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, জাহাজের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পরিদর্শন করে সার্বিক বিষয় দেখা হয়েছে। এসব সরঞ্জাম বিআইডব্লিউটিএ পরীক্ষা করে থাকে। পরিদর্শনে সবকিছু নিয়মানুযায়ী পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।
এর আগে গতকাল বুধবার তিনটি জাহাজ দ্বীপে যাওয়ার ঘোষণা থাকলেও যাত্রী সংকটের কারণে একটি জাহাজ গেছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান জানান, ইতিমধ্যে অনেক পর্যটক টিকিট সংগ্রহ করেছেন। তাঁদের কথা বিবেচনা করে বৃহস্পতিবার একটি জাহাজ সেন্টমার্টিন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দৈনিক টার্গেট 






















