উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম রাফিউল ইসলাম নোটিশ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাঁদের নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব না পেলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, এর আগে ডিলার গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে সার পাচার এবং সিদ্দিকুর রহমান শাহর প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। সে সময় জরিমানা পরিশোধ ও মুচলেকা দিয়ে তাঁরা পার পেয়েছিলেন। এবার তাঁদের বিরুদ্ধে পাশের উপজেলায় সার পাচারের অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার ডিলার গিয়াস উদ্দিন সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের এক কৃষকের কাছে ১০ বস্তা ইউরিয়া সার বিক্রি করেন। অন্যদিকে ডিলার সিদ্দিকুর রহমান শাহর প্রতিষ্ঠান থেকে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার এক ব্যবসায়ীর কাছে ২০ বস্তা ইউরিয়া সার বিক্রি করা হয়।
পৃথক তিনটি অটোভ্যানে করে সারগুলো নিয়ে যাওয়ার সময় গুরুদাসপুর ও তাড়াশ উপজেলার সীমান্তবর্তী বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের বিলবিয়াসপুর এলাকায় ভ্যানগুলো আটক করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ। পরে ৩০ বস্তা সার এবং তিনটি অটোভ্যান জব্দ করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ বলেন, সার আটকের সময় ঘটনাস্থলে সংশ্লিষ্ট কাউকে পাওয়া যায়নি। এ কারণে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে আটক ভ্যানচালকদের বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট ডিলারদের ক্যাশ মেমো পর্যালোচনা করে তাঁদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সার কারসাজি রোধে প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে চলনবিলজুড়ে ছিটিয়ে বোনা সরিষা, বিনা হালে রসুন, ভুট্টাসহ বিভিন্ন রবিশস্যের আবাদ শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় গুরুদাসপুর উপজেলায় সারসংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন সার পেতে ডিলারদের বিক্রয়কেন্দ্রে কৃষকদের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। তারপরও চাহিদা অনুযায়ী সার পাচ্ছেন না তাঁরা। এতে চলতি মৌসুমের চাষাবাদ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকেরা।

দৈনিক টার্গেট 






















