সংকটে সরকারি-বেসরকারি ১৫ ব্যাংক: খেলাপির চাপে নড়বড়ে ব্যাংকের সুরক্ষা

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৩:২৮:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫ বার পঠিত হয়েছে

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর অবস্থাও উদ্বেগজনক। পাঁচটি সরকারি ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭৮ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা। এর মধ্যে জনতা ব্যাংকের ঘাটতি সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ১৬০ কোটি টাকা। অগ্রণী ব্যাংকের ১২ হাজার ৩৩৮ কোটি, রূপালী ব্যাংকের ১০ হাজার ৭৫৩ কোটি, বেসিক ব্যাংকের ৫ হাজার ৪৭ কোটি এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের প্রায় ৩৩ কোটি টাকা ঘাটতি রয়েছে।

বেসরকারি খাতের ১০ ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের ঘাটতি সর্বোচ্চ ৮২ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা। ন্যাশনাল ব্যাংকের ২৩ হাজার ৩২৬ কোটি, আইএফআইসি ব্যাংকের ২১ হাজার ৮৯৪ কোটি, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ৬৪৫ কোটি, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ২ হাজার ৯৫ কোটি, এনআরবি ব্যাংকের ১৩০ কোটি, এনআরবিসি ব্যাংকের ৮২০ কোটি, প্রিমিয়ার ব্যাংকের ১১ হাজার ৯৭১ কোটি, ইউনিয়ন ব্যাংকের ৫ হাজার ৫ কোটি এবং স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ২ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী, ঋণের মান বিবেচনায় ব্যাংককে নির্দিষ্ট হারে প্রভিশন রাখতে হয়। নিয়মিত ঋণের বিপরীতে দশমিক ২৫ থেকে ৫ শতাংশ, সাব-স্ট্যান্ডার্ড ঋণে ২০ শতাংশ, সন্দেহজনক ঋণে ৫০ শতাংশ এবং মন্দ বা কুঋণের বিপরীতে ১০০ শতাংশ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়। কোনো ঋণ শেষ পর্যন্ত মন্দ ঋণে পরিণত হলে ব্যাংক যাতে বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে না পড়ে, সে জন্যই এই সুরক্ষা ব্যবস্থা; যা ১৫ ব্যাংক ব্যাংক করতে ব্যর্থ হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, এই ব্যাংকিং খাতে প্রভিশনের প্রয়োজনীয়তা ছিল ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা। এর বিপরীতে সংরক্ষণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৩৯ কোটি টাকা। এই ক্ষেত্রে শুধু সমস্যাগ্রস্ত ১৫ ব্যাংকের হিসাবে নিরাপত্তা সঞ্চিতির ঘাটতি ২ লাখ ২৯ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা দাঁড়ালেও কিছু ব্যাংক আবার লক্ষ্যের চেয়ে বেশি প্রভিশন রাখতে সমর্থ হয়েছে। এতে ব্যাংকিং খাতে সার্বিক হিসাবে প্রভিশন ঘাটতি কিছু কমেছে, দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকায়।

দেশে শহরকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ড সচল রাখার পাশাপাশি ব্যাংকগুলো এখন গ্রামমুখীও হচ্ছে। তবে সেখানে বেশি খরচে শাখা খোলার পরিবর্তে ব্যাংকিং সেবার দ্রুত বিস্তার ঘটাচ্ছে কম খরচে ছোট পরিসরের উপশাখায় ভর করে। স্থানীয় আমানত সংগ্রহে ব্যাংকগুলোর এ বিকল্প কৌশলের সুফলও আসছে।

৭, ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর পর্যায়ক্রমে এই অর্থ পরিশোধ করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। প্রতিদিনই আগের দিনের তুলনায় অর্থ উত্তোলনের পরিমাণ বেড়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকে অর্থের প্রবাহ ও স্বাভাবিক লেনদেন কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবেদুর রহমান সিকদার…

বাংলাদেশের এলিভেটর শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে রিম ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড এলিভেটরস লিমিটেড। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত দুই এলিভেটর ব্র্যান্ড ওটিস এলিভেটর এবং সাংহাই ফুজির অনুমোদিত পরিবেশক হিসেবে কাজ করবে প্রতিষ্ঠানটি।

জনপ্রিয় টার্গেট

সংকটে সরকারি-বেসরকারি ১৫ ব্যাংক: খেলাপির চাপে নড়বড়ে ব্যাংকের সুরক্ষা

প্রকাশ: ০৩:২৮:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর অবস্থাও উদ্বেগজনক। পাঁচটি সরকারি ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭৮ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা। এর মধ্যে জনতা ব্যাংকের ঘাটতি সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ১৬০ কোটি টাকা। অগ্রণী ব্যাংকের ১২ হাজার ৩৩৮ কোটি, রূপালী ব্যাংকের ১০ হাজার ৭৫৩ কোটি, বেসিক ব্যাংকের ৫ হাজার ৪৭ কোটি এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের প্রায় ৩৩ কোটি টাকা ঘাটতি রয়েছে।

বেসরকারি খাতের ১০ ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের ঘাটতি সর্বোচ্চ ৮২ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা। ন্যাশনাল ব্যাংকের ২৩ হাজার ৩২৬ কোটি, আইএফআইসি ব্যাংকের ২১ হাজার ৮৯৪ কোটি, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ৬৪৫ কোটি, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ২ হাজার ৯৫ কোটি, এনআরবি ব্যাংকের ১৩০ কোটি, এনআরবিসি ব্যাংকের ৮২০ কোটি, প্রিমিয়ার ব্যাংকের ১১ হাজার ৯৭১ কোটি, ইউনিয়ন ব্যাংকের ৫ হাজার ৫ কোটি এবং স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ২ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী, ঋণের মান বিবেচনায় ব্যাংককে নির্দিষ্ট হারে প্রভিশন রাখতে হয়। নিয়মিত ঋণের বিপরীতে দশমিক ২৫ থেকে ৫ শতাংশ, সাব-স্ট্যান্ডার্ড ঋণে ২০ শতাংশ, সন্দেহজনক ঋণে ৫০ শতাংশ এবং মন্দ বা কুঋণের বিপরীতে ১০০ শতাংশ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়। কোনো ঋণ শেষ পর্যন্ত মন্দ ঋণে পরিণত হলে ব্যাংক যাতে বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে না পড়ে, সে জন্যই এই সুরক্ষা ব্যবস্থা; যা ১৫ ব্যাংক ব্যাংক করতে ব্যর্থ হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, এই ব্যাংকিং খাতে প্রভিশনের প্রয়োজনীয়তা ছিল ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা। এর বিপরীতে সংরক্ষণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৩৯ কোটি টাকা। এই ক্ষেত্রে শুধু সমস্যাগ্রস্ত ১৫ ব্যাংকের হিসাবে নিরাপত্তা সঞ্চিতির ঘাটতি ২ লাখ ২৯ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা দাঁড়ালেও কিছু ব্যাংক আবার লক্ষ্যের চেয়ে বেশি প্রভিশন রাখতে সমর্থ হয়েছে। এতে ব্যাংকিং খাতে সার্বিক হিসাবে প্রভিশন ঘাটতি কিছু কমেছে, দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকায়।

দেশে শহরকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ড সচল রাখার পাশাপাশি ব্যাংকগুলো এখন গ্রামমুখীও হচ্ছে। তবে সেখানে বেশি খরচে শাখা খোলার পরিবর্তে ব্যাংকিং সেবার দ্রুত বিস্তার ঘটাচ্ছে কম খরচে ছোট পরিসরের উপশাখায় ভর করে। স্থানীয় আমানত সংগ্রহে ব্যাংকগুলোর এ বিকল্প কৌশলের সুফলও আসছে।

৭, ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর পর্যায়ক্রমে এই অর্থ পরিশোধ করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। প্রতিদিনই আগের দিনের তুলনায় অর্থ উত্তোলনের পরিমাণ বেড়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকে অর্থের প্রবাহ ও স্বাভাবিক লেনদেন কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবেদুর রহমান সিকদার…

বাংলাদেশের এলিভেটর শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে রিম ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড এলিভেটরস লিমিটেড। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত দুই এলিভেটর ব্র্যান্ড ওটিস এলিভেটর এবং সাংহাই ফুজির অনুমোদিত পরিবেশক হিসেবে কাজ করবে প্রতিষ্ঠানটি।