আজ ৫ আগস্ট, ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস। দিবসটি উপলক্ষে সারা দেশে সরকারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দিনটি পালনের অংশ হিসেবে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং পেশাজীবী সংগঠনগুলোও নিজস্ব উদ্যোগে বিভিন্ন আয়োজন করেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। ওই সময়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করে ভারতে চলে যান। দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে দিনটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হয়।
দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম) এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। একই সঙ্গে দেশের জনগণকে ঐক্য, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি তাঁর বার্তায় বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মূল্যায়ন করতে হলে একটি জবাবদিহিমূলক, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে। তিনি শহীদ পরিবারগুলোর কল্যাণ, আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্দোলন ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক সংকটের অবসান ঘটিয়ে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তিনি জাতীয় ঐক্য অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে দেশে যেন স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, উগ্রবাদ কিংবা চরমপন্থার পুনরুত্থান না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
দিবসটি উপলক্ষে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানও শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন এবং সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন পৃথক বিবৃতিতে দিনটির তাৎপর্য তুলে ধরেন।
সরকারের ঘোষিত জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের ৬৪ জেলায় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের আয়োজন করা হয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক জাতীয় পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন ও বর্ণিল সাজসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে।
আজ সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধন করবেন। এরপর বেলা ১১টায় রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও আন্দোলনে অংশ নেওয়া জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
জাতীয় কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও পৃথক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। বিএনপি দিবসটি উপলক্ষে আগের দিন রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট আজ সকালে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে গণসমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট, সিপিবি, বাসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণফোরামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন দিনব্যাপী আলোচনা, শ্রদ্ধা নিবেদন এবং অন্যান্য কর্মসূচি পালন করছে।
ঐতিহাসিক এই দিনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে স্মরণ, শ্রদ্ধা এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রগঠনের প্রত্যাশা নিয়ে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস।
দৈনিক টার্গেট 

















