বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অমর নাম বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানী। তাঁর নেতৃত্ব, সাহসিকতা এবং দেশপ্রেমের প্রেরণায় ১৯৭১ সালে মুক্তিকামী বাঙালি জাতি সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করে।
এই মহান বীর সেনানায়কের ১০৭তম সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে রাজধানীতে “মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ওসমানী” শীর্ষক এক আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৫টায় শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেন ওসমানী শিল্প গোষ্ঠী সংগঠনের সভানেত্রী সাংবাদিক সালমা আক্তার লিজার। অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও জেনারেল ওসমানীর জীবনাদর্শ নিয়ে আলোচনা করেন বিভিন্ন খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব।
প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক জায়েদ-এ-রেজা, যিনি জেনারেল ওসমানী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান। তাঁর বক্তব্যে তিনি বলেন, “জেনারেল ওসমানী শুধু মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়কই নন, তিনি ছিলেন জাতির জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম। তাঁর দূরদর্শিতা ও অটল নেতৃত্ব ছাড়া স্বাধীনতার সংগ্রাম এতো সুসংগঠিতভাবে পরিচালিত হতো না। তরুণ প্রজন্মকে ওসমানীর আদর্শ জানতে হবে, তাহলেই দেশপ্রেম আরও শক্তিশালী হবে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ডিভিশনাল প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ মতিউর রহমান। তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের প্রতিটি মুহূর্তে জেনারেল ওসমানীর ভূমিকা অনন্য। আমাদের দায়িত্ব হলো তাঁর আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা। সাংবাদিক সমাজ ও সংস্কৃতিকর্মীরা একসাথে কাজ করলে এই কাজ আরও সহজ হবে।”
এছাড়াও সাংবাদিক দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, “জেনারেল ওসমানী ছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য এক দৃঢ় ভিত্তি। তিনি যুদ্ধের সময় কৌশল, সংগঠন ও সাহসের যে নজির স্থাপন করেছিলেন তা আজও আমাদের অনুপ্রাণিত করে।”
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আমিনুল হক ভূঁইয়া আল ওসমানী, যিনি একইসঙ্গে ওসমানী শিল্প গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা। তিনি বলেন, বঙ্গবীর জেনারেল ওসমানীর জীবন সংগ্রাম ও দেশপ্রেমের ইতিহাস শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। সাংস্কৃতিক কর্মসূচি ও আলোচনা সভার মাধ্যমে আমাদের যুব সমাজকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা জেনারেল ওসমানীর দেশপ্রেম, সততা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় তাঁর অসামান্য ভূমিকার নানা দিক তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তিত্ব আজও তাঁর নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
সাংস্কৃতিক পর্বে সংগীত, আবৃত্তি ও নাটকের মাধ্যমে ওসমানীর বর্ণাঢ্য জীবন ও মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ভূমিকার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। তরুণ শিল্পীদের পরিবেশনা দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।
অনুষ্ঠান শেষে ওসমানী শিল্প গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও তাঁরা এ ধরনের আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন, যাতে তরুণ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানীর অবদান সম্পর্কে গভীরভাবে জানতে পারে।
বক্তারা বলেন, জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে জেনারেল ওসমানীর নাম সর্বদা উজ্জ্বল অক্ষরে লেখা থাকবে। মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক হিসেবে তাঁর নেতৃত্ব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি আলোকবর্তিকা।














