যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে অবস্থানরত ৩৯ জন বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। শনিবার (২ আগস্ট) সকালে একটি বিশেষ সামরিক বিমানে তারা হজরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান।
বিশ্বজুড়ে অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি আরোপের ধারাবাহিকতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অবৈধ অভিবাসীদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া জোরদার হয়। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই বাংলাদেশি নাগরিকদের ফিরিয়ে পাঠানো হয়েছে।
সূত্র অনুযায়ী, শুরুতে ৬১ জনকে ফেরত পাঠানোর কথা থাকলেও, বাস্তবে দেশে ফেরত এসেছেন ৩৯ জন। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অবস্থায় এসব অভিবাসী অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন বলে জানা গেছে। তবে, ফেরত পাঠানোর সময় তাদের প্রতি কোনো প্রকার অমানবিকতা দেখানো হয়নি। মানবিক আচরণের বিষয়টি শুরু থেকেই গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এবার চার্টার্ড ফ্লাইটে প্রায় ৩০ জনকে পাঠানো হয়, যদিও প্রাথমিকভাবে সংখ্যা আরও বেশি বলা হয়েছিল। ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় হাতকড়া পরানো হয়নি কাউকেই, যা যুক্তরাষ্ট্রের অনেক অন্য দেশের ক্ষেত্রে বিরল।
বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসন সংক্রান্ত নীতিমালায় পরিবর্তনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন বিভাগ এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করছে। এর আগে ভারত, ব্রাজিলসহ অন্যান্য দেশের নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর সময় কড়াকড়ি আরোপ দেখা গেলেও, বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয়তা বজায় রাখা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত আরও অনেক বাংলাদেশির বিরুদ্ধে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত রয়েছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে ১১৮ জন বাংলাদেশিকে একইভাবে দেশে ফিরিয়ে পাঠানো হয়েছিল।
এ প্রসঙ্গে এক পররাষ্ট্র কর্মকর্তা বলেন, “বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সব সময় অনুরোধ ছিল, ফেরত পাঠানোর সময় যেন মানবিকতা বজায় রাখা হয়। যুক্তরাষ্ট্র সে অনুরোধে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।”
বর্তমানে প্রতি মাসে এ ধরনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং বাংলাদেশের অভিবাসন সংস্থাগুলো এসব ফেরত আসা নাগরিকদের পুনরায় সমাজে সম্পৃক্ত করতে সহযোগিতা করছে।















Leave a Reply