পি কে হালদার-সংশ্লিষ্ট আরেক অভিযুক্তের কারাদণ্ড

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৩:০২:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
  • ১৪৭ বার পঠিত হয়েছে

ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত

বহুল আলোচিত আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় পি কে হালদারের সহযোগী হিসেবে পরিচিত এবং সুখাদা প্রোপার্টিজ লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) অভিজিৎ অধিকারী তীর্থ দুর্নীতি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। সম্পদের তথ্য গোপন এবং বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন সম্পদ অর্জনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন।

সোমবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১ এর বিচারক মুহা. হাসানুজ্জামানের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের রায়ে বলা হয়, সম্পদ বিবরণীতে তথ্য গোপনের দায়ে অভিজিৎ অধিকারীকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জ্ঞাত আয়ের উৎসের বাইরে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তাকে আরও পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এ ছাড়া অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের দায়ে এক কোটি ৩৫ লাখ ৫ হাজার ২৮৪ টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়েছে। নির্ধারিত অর্থদণ্ড পরিশোধে ব্যর্থ হলে অতিরিক্ত ৩০ দিন কারাভোগ করতে হবে বলেও আদালত নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে অবৈধ সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, দুটি ধারায় সাজা দেওয়া হলেও সেগুলো একসঙ্গে কার্যকর হবে। ফলে আইন অনুযায়ী তাকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাভোগ করতে হবে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৬ মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক মানসী বিশ্বাস বাদী হয়ে অভিজিৎ অধিকারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, তিনি বৈধ আয়ের উৎসের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিপুল পরিমাণ সম্পদ ভোগদখলে রেখেছেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি।

পরবর্তীতে তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৫ মে দুদকের উপপরিচালক নাজমুল হুসাইন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। তদন্তে তার বিরুদ্ধে এক কোটি ৩৫ লাখ টাকার বেশি মূল্যের অবৈধ সম্পদের তথ্য উঠে আসে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

২০২৫ সালের ১৩ মার্চ আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচারকাজ শুরু করেন। বিচার চলাকালে মোট পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। তবে মামলার শুরু থেকেই অভিযুক্ত পলাতক থাকায় তিনি আদালতে হাজির হয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নেননি।

রায়ের পর আদালত অভিজিৎ অধিকারীর বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে তাকে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, দেশের আর্থিক খাতে আলোচিত বিভিন্ন অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় পি কে হালদারের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা তদন্ত ও বিচারাধীন রয়েছে। অভিজিৎ অধিকারীর বিরুদ্ধে দেওয়া এ রায় সেই ধারাবাহিকতায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পি কে হালদার-সংশ্লিষ্ট আরেক অভিযুক্তের কারাদণ্ড

প্রকাশ: ০৩:০২:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

বহুল আলোচিত আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় পি কে হালদারের সহযোগী হিসেবে পরিচিত এবং সুখাদা প্রোপার্টিজ লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) অভিজিৎ অধিকারী তীর্থ দুর্নীতি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। সম্পদের তথ্য গোপন এবং বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন সম্পদ অর্জনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন।

সোমবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১ এর বিচারক মুহা. হাসানুজ্জামানের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের রায়ে বলা হয়, সম্পদ বিবরণীতে তথ্য গোপনের দায়ে অভিজিৎ অধিকারীকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জ্ঞাত আয়ের উৎসের বাইরে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তাকে আরও পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এ ছাড়া অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের দায়ে এক কোটি ৩৫ লাখ ৫ হাজার ২৮৪ টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়েছে। নির্ধারিত অর্থদণ্ড পরিশোধে ব্যর্থ হলে অতিরিক্ত ৩০ দিন কারাভোগ করতে হবে বলেও আদালত নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে অবৈধ সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, দুটি ধারায় সাজা দেওয়া হলেও সেগুলো একসঙ্গে কার্যকর হবে। ফলে আইন অনুযায়ী তাকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাভোগ করতে হবে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৬ মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক মানসী বিশ্বাস বাদী হয়ে অভিজিৎ অধিকারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, তিনি বৈধ আয়ের উৎসের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিপুল পরিমাণ সম্পদ ভোগদখলে রেখেছেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি।

পরবর্তীতে তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৫ মে দুদকের উপপরিচালক নাজমুল হুসাইন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। তদন্তে তার বিরুদ্ধে এক কোটি ৩৫ লাখ টাকার বেশি মূল্যের অবৈধ সম্পদের তথ্য উঠে আসে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

২০২৫ সালের ১৩ মার্চ আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচারকাজ শুরু করেন। বিচার চলাকালে মোট পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। তবে মামলার শুরু থেকেই অভিযুক্ত পলাতক থাকায় তিনি আদালতে হাজির হয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নেননি।

রায়ের পর আদালত অভিজিৎ অধিকারীর বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে তাকে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, দেশের আর্থিক খাতে আলোচিত বিভিন্ন অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় পি কে হালদারের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা তদন্ত ও বিচারাধীন রয়েছে। অভিজিৎ অধিকারীর বিরুদ্ধে দেওয়া এ রায় সেই ধারাবাহিকতায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।