গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের বাদ দিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রতিবাদ

জাতীয় প্রেসক্লাবে একদলীয় নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ, সতর্কবার্তা জুলাই ঐক্যের

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১১:১০:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫
  • ২৬১ বার পঠিত হয়েছে

জাতীয় প্রেসক্লাবকে কেন্দ্র করে আবারও একদলীয় নিয়ন্ত্রণ ও স্বৈরাচারী আচরণের অভিযোগ তুলেছে জুলাই গণঅভ্যুত্থনের অন্যতম সংগঠন ‘জুলাই ঐক্য’। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রেসক্লাব গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতীক হলেও সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা সেই ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে মোস্তফা হোসাইন এক বিবৃতিতে জানান, স্বাধীনতার পর থেকে দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক দখলদারিত্ব ও পক্ষপাতমূলক আচরণের শিকার হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে দুই হাজারের বেশি নাগরিক প্রাণ হারান। সেই রক্তের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি মিলেছিল এমনটাই ধারণা ছিল সাধারণ মানুষের। কিন্তু বাস্তবে এখনো অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান সংস্কারবঞ্চিত থেকে গেছে।

বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রেসক্লাবের দখল পরিবর্তনের পরও সেখানে এখনো ফ্যাসিবাদ কায়েমকারী ও হত্যা মামলার আসামি হিসেবে অভিযুক্ত সাংবাদিকদের অবস্থান রয়েছে। প্রেসক্লাবের দায়িত্বে থাকা নেতাদের মধ্যে অনেকে আবার একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন বলে অভিযোগ সংগঠনটির।

জুলাই ঐক্য জানায়, বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের প্রধান ও বিশেষ অতিথি করা হয়েছে। অথচ যারা সেই গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বে ছিলেন, যারা শহিদ হয়েছেন, কিংবা যারা সংগঠক হিসেবে যুক্ত ছিলেন তাদের কাউকেই দাওয়াত জানানো হয়নি।

মোস্তফা হোসাইন বলেন, “একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান যদি আবারও একদলীয় দখলে চলে যায়, তাহলে সেখানে স্বৈরাচারের জন্ম নতুন করে হবে এবং দেশ আবার পথ হারাবে। ৫ আগস্টের পরেও আমরা দেখেছি প্রেসক্লাবের হলরুমে মুজিববাদের স্লোগান দেওয়া হয়েছে, আবার বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনায় গণমাধ্যমের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।”

জুলাই ঐক্য এর পক্ষ থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষকে হুঁশিয়ার করে বলা হয়েছে, “অবিলম্বে ব্যানারে একদলীয় রাজনৈতিক অনুষ্ঠান বন্ধ করতে হবে। অথবা অন্তত গণঅভ্যুত্থানের সকল অংশীজনদের দাওয়াত দিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যালান্স নিশ্চিত করতে হবে।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের একতরফা রাজনৈতিক প্রভাব জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর গ্রহণযোগ্যতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের বাদ দিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রতিবাদ

জাতীয় প্রেসক্লাবে একদলীয় নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ, সতর্কবার্তা জুলাই ঐক্যের

প্রকাশ: ১১:১০:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫

জাতীয় প্রেসক্লাবকে কেন্দ্র করে আবারও একদলীয় নিয়ন্ত্রণ ও স্বৈরাচারী আচরণের অভিযোগ তুলেছে জুলাই গণঅভ্যুত্থনের অন্যতম সংগঠন ‘জুলাই ঐক্য’। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রেসক্লাব গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতীক হলেও সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা সেই ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে মোস্তফা হোসাইন এক বিবৃতিতে জানান, স্বাধীনতার পর থেকে দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক দখলদারিত্ব ও পক্ষপাতমূলক আচরণের শিকার হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে দুই হাজারের বেশি নাগরিক প্রাণ হারান। সেই রক্তের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি মিলেছিল এমনটাই ধারণা ছিল সাধারণ মানুষের। কিন্তু বাস্তবে এখনো অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান সংস্কারবঞ্চিত থেকে গেছে।

বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রেসক্লাবের দখল পরিবর্তনের পরও সেখানে এখনো ফ্যাসিবাদ কায়েমকারী ও হত্যা মামলার আসামি হিসেবে অভিযুক্ত সাংবাদিকদের অবস্থান রয়েছে। প্রেসক্লাবের দায়িত্বে থাকা নেতাদের মধ্যে অনেকে আবার একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন বলে অভিযোগ সংগঠনটির।

জুলাই ঐক্য জানায়, বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের প্রধান ও বিশেষ অতিথি করা হয়েছে। অথচ যারা সেই গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বে ছিলেন, যারা শহিদ হয়েছেন, কিংবা যারা সংগঠক হিসেবে যুক্ত ছিলেন তাদের কাউকেই দাওয়াত জানানো হয়নি।

মোস্তফা হোসাইন বলেন, “একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান যদি আবারও একদলীয় দখলে চলে যায়, তাহলে সেখানে স্বৈরাচারের জন্ম নতুন করে হবে এবং দেশ আবার পথ হারাবে। ৫ আগস্টের পরেও আমরা দেখেছি প্রেসক্লাবের হলরুমে মুজিববাদের স্লোগান দেওয়া হয়েছে, আবার বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনায় গণমাধ্যমের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।”

জুলাই ঐক্য এর পক্ষ থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষকে হুঁশিয়ার করে বলা হয়েছে, “অবিলম্বে ব্যানারে একদলীয় রাজনৈতিক অনুষ্ঠান বন্ধ করতে হবে। অথবা অন্তত গণঅভ্যুত্থানের সকল অংশীজনদের দাওয়াত দিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যালান্স নিশ্চিত করতে হবে।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের একতরফা রাজনৈতিক প্রভাব জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর গ্রহণযোগ্যতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।