দৈনিক টার্গেট

দেশের চেতনায়

উত্তরায় যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তে মৃত্যু ৩১, আহত ১৬৫

ঢাকার উত্তরায় মর্মান্তিকভাবে এক দুর্ঘটনায় থমকে গেছে গোটা জাতি। মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবনে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১৬৫ জন। এই ঘটনায় দেশজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দুপুরে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে জানানো হয়, বিধ্বস্ত হওয়া যুদ্ধবিমানটি ছিল এফটি-৭ বিজিআই মডেলের, যা বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকাজে নামে সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা।

এর আগে সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক বিশেষ সহকারী সায়েদুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭ জনে, তবে গুরুতর আহত অন্তত ৭৮ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ১টা ১৮ মিনিটের জন্য দিকে বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ চত্বর। এরপর আগুন আর ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় চারপাশ। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হয় আতঙ্ক ও কান্নার রোল।

আইএসপিআরের তথ্যমতে, দুর্ঘটনার পর ফ্লাইট সেফটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং এরইমধ্যে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সময় লাগবে বলে জানানো হয়েছে।

জাতীয়ভাবে এই দুর্ঘটনায় আজ মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে। সকল সরকারি-বেসরকারি অফিসে পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। প্রধাণ উপদেষ্টা ও রাষ্ট্রপতি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের পরিবারকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।

এই দুর্ঘটনা শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রাণহানির ঘটনা নয়, এটি দেশের সামগ্রিক বিমান নিরাপত্তা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার দিকেও দৃষ্টি ফেরানোর তাগিদ দিচ্ছেন। নিহতদের বেশিরভাগই ছিলেন শিক্ষার্থী, যাদের জীবনের শুরুতেই এমন নির্মম পরিণতি মেনে নেওয়া সত্যিই হৃদয়বিদারক।

বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শহরের মধ্যে বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণের ঝুঁকি পুনর্মূল্যায়ন করা এবং সর্বোপরি ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা রোধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।