২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা মামলায় হাইকোর্টের খালাস রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানি আগামী বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) অনুষ্ঠিত হবে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ, যার নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ আজ এই শুনানির দিন ধার্য করেন।
এই মামলার দ্রুত শুনানির জন্য আবেদন করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। আদালত রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিল গ্রহণ করে আপিলের অনুমতি দেন এবং বৃহস্পতিবার শুনানির তারিখ নির্ধারণ করে।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় ২৪ জন নিহত ও শতাধিক আহত হন। এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় দুটি মামলা (হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে) দায়ের হয়। ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে সিআইডি তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দেয় এবং বিচার শুরু হয়।
আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এলে আসামির তালিকায় যুক্ত করা হয় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ৩০ জনকে। দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন রায় প্রদান করেন।
১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, এদের মধ্যে ছিলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, এনএসআই ও ডিজিএফআই-এর সাবেক কর্মকর্তারা, ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যাদের মধ্যে ছিলেন- তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হুজি, বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সদস্যরা।
১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়, তাদের মধ্যে ছিলেন- পুলিশের সাবেক আইজি আশরাফুল হুদা, খালেদা জিয়ার ভাগ্নে সাইফুল ইসলাম ডিউক, ডিএমপি, সিআইডি, ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক কর্মকর্তারা ডেথ রেফারেন্সসহ মামলার সব নথি হাইকোর্টে আসে ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর। পরবর্তীতে বিভিন্ন বেঞ্চে শুনানি হয় এবং সর্বশেষ ১ ডিসেম্বর ২০২৩ হাইকোর্ট সব আসামিকে খালাস দেয়। রাষ্ট্রপক্ষ এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে এবং ২০২৪ সালের ২১ এপ্রিল আপিল বিভাগ আপিল গ্রহণ করে।
২১ আগস্টের এই হামলা বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম নৃশংস ও পরিকল্পিত রাজনৈতিক হামলা হিসেবে বিবেচিত হয়। এই মামলার রায়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গন, মানবাধিকার সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও ব্যাপক আগ্রহে পর্যবেক্ষণ করছে।
আগামী বৃহস্পতিবারের শুনানিকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের পরিণতি মামলার ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।














Leave a Reply