চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সূচনা বেশ আশাব্যঞ্জক এক রেমিট্যান্স প্রবাহ দিয়ে শুরু করেছে বাংলাদেশ। জুলাই মাসের প্রথম ১৩ দিনেই বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে এসেছে ১১৯ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স।
বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২১ টাকা ধরে) এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৪ হাজার ৪৪৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
সোমবার (১৪ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
আগের বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের একই সময় অর্থাৎ ২০২৪ সালের জুলাইয়ের প্রথম ১৩ দিনে দেশে এসেছিল ৯৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। সে তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ের মধ্যে রেমিট্যান্স বেড়েছে ২১ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা টাকায় প্রায় ২ হাজার ৬০১ কোটি টাকা।
বিশ্লেষকদের মতে, হুন্ডি বা অবৈধ পন্থা বাদ দিয়ে বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি এবং প্রণোদনা কার্যক্রম এই বৃদ্ধির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।
একক মাসে রেকর্ড
এর আগে সদ্য সমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ২৮১ কোটি ৮০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স, যা একক মাস হিসেবে দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ। মে মাসে এসেছিল ২৯৭ কোটি ডলার, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
পুরো অর্থবছরে বড় অগ্রগতি
২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত পুরো সময়ে দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছর ২০২৩-২৪ সালে এই পরিমাণ ছিল ২৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে প্রায় ২৬ দশমিক ৮ শতাংশ।
মাসভিত্তিক রেমিট্যান্স পরিসংখ্যান (২০২৪-২৫):
জুলাই: ১৯১.৩৭ কোটি ডলার
আগস্ট: ২২২.১৩ কোটি ডলার
সেপ্টেম্বর: ২৪০.৪১ কোটি ডলার
অক্টোবর: ২৩৯.৫০ কোটি ডলার
নভেম্বর: ২২০.০০ কোটি ডলার
ডিসেম্বর: ২৬৪.০০ কোটি ডলার
জানুয়ারি: ২১৯.০০ কোটি ডলার
ফেব্রুয়ারি: ২৫৩.০০ কোটি ডলার
মার্চ: ৩২৯.০০ কোটি ডলার
এপ্রিল: ২৭৫.০০ কোটি ডলার
মে: ২৯৭.০০ কোটি ডলার
জুন: ২৮২.০০ কোটি ডলার
বিশ্লেষকদের মতে, বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি বৈদেশিক ব্যালান্স ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায়ও এটি ভূমিকা রাখবে।
















Leave a Reply