১০:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তদন্ত ঘুরপাক খাচ্ছে ১৫ মিনিটে, কী ঘটেছিল তখন তাহসিফের সঙ্গে

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৯:৫৩:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
  • ২ বার পঠিত হয়েছে

তাহসিফের মৃত্যুর আগের শেষ সাত ঘণ্টার গতিপথের অনেকটাই উঠে এসেছে অর্ধশতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণে। মায়ের সঙ্গে কেনাকাটা, জুনিয়র ও বন্ধু দীপকে নিয়ে মোটরসাইকেল মেরামত, এক তরুণীর সঙ্গে রেস্তোরাঁয় খাওয়া, এরপর বন্ধুকে নিয়ে বারে যাওয়া—এক রাতেই একের পর এক জায়গায় গিয়েছিলেন তিনি। সবশেষে গেছেন মাদক কেনাবেচার আখড়া হিসেবে পরিচিত টঙ্গীর মাজার বস্তিতে। কিন্তু এত ফুটেজ বিশ্লেষণের পরও তাঁর মৃত্যুর আগের গুরুত্বপূর্ণ সময়ের হিসাব মেলাতে পারছেন না তদন্তকারীরা।

তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার হয় গত ২৮ অক্টোবর বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে। তাঁর বাবা কে এম এনায়েতুল করিম এ ঘটনায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় বন্ধুস্থানীয় দীপ ও ওই তরুণীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কয়েক দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করেছে নৌ-পুলিশ।

তদন্তকারীরা বলছেন, জিজ্ঞাসাবাদে তাহসিফের শেষ রাতের অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। কিন্তু কীভাবে তাঁর মৃত্যু হলো, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নৌ-পুলিশ ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘রিমান্ডে আসামিরা যে বক্তব্যগুলো দিয়েছে, তার কোন অংশ কতটুকু সঠিক, আমরা সেগুলো যাচাই-বাছাই ও পর্যবেক্ষণে রেখেছি। সময় যেহেতু আছে, তাই বাকি কাজগুলো করে দেখি, কী ফলাফল পাওয়া যায়।’

তদন্তকারীরা এই ঘটনার পেছনে এখন কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ দেখছেন। পূর্বশত্রুতা, আর্থিক লেনদেন কিংবা ব্যক্তিগত বিরোধ থেকে তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি পুলিশের উপস্থিতিতে পালানোর সময় দুর্ঘটনাবশত নদে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে কি না, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে এখন পর্যন্ত কোনো কারণই নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

তৃতীয় দফা রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, তাহসিফকে কেন হত্যা করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। পূর্বশত্রুতা, আর্থিক লেনদেন নাকি ব্যক্তিগত বিরোধ—এর কোনোটি হত্যার কারণ কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার, মূল পরিকল্পনাকারী ও সহযোগীদের শনাক্ত এবং কোনো ভাড়াটে খুনি বা অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা জানার জন্য দীপকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য ও আসামির বক্তব্য মিলিয়ে দেখার কথাও বলা হয়েছে রিমান্ড আবেদনে।

তাহসিফের মৃত্যুর আগের রাতের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে দীপের দেওয়া বক্তব্যে বেশ কিছু প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে দীপ জানান, গত ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৮ মিনিটে তাহসিফ, ওই তরুণী ও তিনি উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের একটি বারে যান। এর আগে ওই তরুণীর সঙ্গে অন্য এক যুবকের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেরে মন খারাপ ছিল তাহসিফের। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধও চলছিল।

দীপের ভাষ্য অনুযায়ী, বারে গিয়ে তাহসিফ কর্তৃপক্ষকে সাউন্ড সিস্টেমে স্যাড গান (বিষণ্ন সংগীত) বাজাতে বলেন। পরে তিনজনই মদ্যপান করেন। রাত ১২টা পর্যন্ত ওই তরুণীর সঙ্গে অন্য যুবকের সম্পর্ক নিয়ে তাহসিফের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওই তরুণীকে উদ্দেশ্য করে তাহসিফ বলেন, ‘তুমি তো ইয়াবা খেয়েছ, আমি এর চেয়েও বড় কিছু খাব। আমি হেরোইন খাব।’

রাত ১২টার দিকে বার থেকে বের হয়ে তাহসিফ নিজের মোটরসাইকেলে ওই তরুণীকে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের বাসায় পৌঁছে দেন। দীপও নিজের মোটরসাইকেলে সেখানে যান। এরপর তাহসিফ ও দীপ টঙ্গী বাজার বস্তি-সংলগ্ন একটি মাঠের উদ্দেশে রওনা হন। দীপের দাবি, সেখানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তাহসিফ নিজেই।

দীপের বক্তব্য অনুযায়ী, বস্তির কাছে মোটরসাইকেল রেখে তাঁরা মাঠের দিকে যান। সেখানে স্থানীয় মাদকসেবী ও কারবারিসহ অনেক মানুষ ছিলেন। তাহসিফ উচ্চ স্বরে হেরোইন চান এবং যত টাকা লাগে দিতে রাজি হন। পরে কয়েকজন মাদক কারবারির কাছ থেকে হেরোইন কিনে সেবন করেন। বারে মদ্যপানের পর হেরোইন সেবনে তাহসিফ নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন বলেও দাবি করেন দীপ।

এরপরই আসে পুলিশ। দীপের ভাষ্য, তাহসিফ যখন মাদক সেবন করছিলেন, তখন সেখানে পুলিশের একটি টহল দল আসে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে স্থানীয় মাদক কারবারিরা পালিয়ে যান। দীপও দৌড়ে নদীর পাড়ের দিকে চলে যান। পরে তুরাগ নদের ২৯ নম্বর পিলারের পেছনে গিয়ে লুকিয়ে থাকেন। এ সময় তাহসিফের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান তিনি। এরপর কী ঘটেছিল, তা নিয়ে তাঁর বক্তব্যই এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তাহসিফ ও দীপের শেষ রাতের গতিপথ জানতে টঙ্গীর মাজার বস্তি এবং আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করেছে তদন্তসংশ্লিষ্টরা। বস্তিতে প্রবেশের মুখে থাকা দুটি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, রাত ১২টা ৩৯ মিনিটে দ্রুতগতিতে সেখানে ঢুকছেন তাহসিফ। এর কিছুক্ষণ পর প্রবেশ করে দীপের মোটরসাইকেল।

যে জায়গায় তাঁরা মোটরসাইকেল রেখেছিলেন, সেটিও শনাক্ত করা হয়েছে। এরপর সামনের দিকে এগিয়ে একটি গলিতে ঢোকার চেষ্টা করেন তাঁরা। গলির মুখে থাকা দুটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, রাত ১২টা ৪০ মিনিটে সেখানে ঢোকার চেষ্টা করছেন তাহসিফ। এ সময় বস্তির এক নারী তাঁকে বাধা দেন। এ নিয়ে ওই নারীর সঙ্গে তর্কে জড়ান তিনি। পাশে ছিলেন দীপও।

ওই নারী বলেন, তাহসিফ জোর করে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। তাঁকে নিষেধ করে বলা হয়েছিল, ভেতরে গেলে সমস্যা হতে পারে। কিন্তু তিনি কথা শোনেননি। উল্টো বলেন, ‘আমি ভেতরে যাব, কোনো সমস্যা নেই। আমরা রেইড দেব, আপনার কোনো সমস্যা হবে না।’ এরপর তিনি ভেতরে চলে যান।

তাহসিফ দীপকে তর্কে না জড়িয়ে দ্রুত গলির ভেতর দিয়ে এগিয়ে যেতে বলেন। গলি ধরে তাঁরা প্রধান সড়কে ওঠেন। এরপর সেখান থেকে নদীর তীরে যান। বস্তির মাজার গেটের সামনের সিসিটিভি ক্যামেরায় রাত ১২টা ৫২ মিনিটে তাহসিফের চেহারা স্পষ্ট দেখা যায়। এ সময় রাস্তার পাশে থাকা কয়েকজনের কাছে কিছু একটা চেয়ে তাঁদের রাস্তা থেকে সরে যেতে বলেন তিনি। তাঁর পেছনে ছিলেন দীপও।

মাজার গেট পার হওয়ার পর আর কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা নেই। ফলে এরপর তাঁরা কোন পথে, কোথায় গেছেন, তা ফুটেজে পাওয়া যায়নি। প্রায় ছয় মিনিট হেঁটে বস্তির পাশের একটি ফাঁকা মাঠের কাছে পৌঁছানো যায়। সেখানে একটি ভবনের সিঁড়ি রয়েছে। দীপের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সবশেষ সেখানে বসেছিলেন তাঁরা।

রাত ১টা ৫ মিনিটে বস্তির পিংকি গার্মেন্টসের সামনের সিসিটিভি ক্যামেরায় আট সদস্যের পুলিশের একটি দলকে মাঠে প্রবেশ করতে দেখা যায়। দীপের ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ দেখে মাঠে থাকা লোকজন দৌড়াতে শুরু করেন। তাহসিফ ও দীপও দৌড় দেন। দীপ তুরাগ নদের ২৯ নম্বর পিলারের পেছনে চলে যান। আর তাহসিফ যান নদীর তীরের দিকে। অন্ধকারে এরপর তাঁকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, পুলিশ অভিযান চালাতে এলে অনেকে ধরা পড়ার ভয়ে পানিতে লাফিয়ে সাঁতরে নদ পার হয়ে পালিয়ে যান। তবে তাহসিফও কি পালাতে গিয়ে পানিতে পড়েছিলেন, নাকি তাঁর সঙ্গে অন্য কিছু ঘটেছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে মাজার গেটের সামনের ক্যামেরায় পুলিশের দলটিকে মাঠ থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। একই সময়ে পিংকি গার্মেন্টসের ক্যামেরায় দীপকেও বস্তিতে ফিরে আসতে দেখা যায়। রাত ১টা ২১ মিনিটে আরেকটি ক্যামেরায় তাঁকে হাঁটতে দেখা যায়। এরপর আর কোনো ক্যামেরায় তাঁর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। দীপের বক্তব্য অনুযায়ী, রাত ১টা ৫২ মিনিটে তাহসিফকে রেখে তিনি বাসায় চলে যান। এই সময়ের মধ্যে তিনি কোথায় ছিলেন, তার তথ্যও সিসিটিভি ফুটেজে মেলেনি।

তাহসিফের বাসা থেকে টঙ্গীর মাজার বস্তি পর্যন্ত পুরো এলাকার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন স্থানে তাঁর উপস্থিতি শনাক্ত করা গেছে। কিন্তু মাজার বস্তি থেকে তুরাগ নদের তীর পর্যন্ত যাওয়ার পথে কোথাও তাঁর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। কারণ, ওই এলাকায় কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা নেই। ফলে শেষ পর্যন্ত নদীর তীরে কী ঘটেছিল, তা জানার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্যামেরার অনুপস্থিতি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, দীপকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং তাঁর বক্তব্য যাচাই করা হয়েছে। তাহসিফের মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। বারের বিভিন্ন বিষয়ও যাচাই করেছেন তদন্তকারীরা। মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণসহ পারিপার্শ্বিক তথ্য বিবেচনায় প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।

তবে ওই কর্মকর্তা বলেছেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষা করতে হবে। ওই প্রতিবেদনে তাহসিফ মাদক সেবন করেছিলেন কি না কিংবা তাঁর শরীরে কোনো বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল কি না, সে সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ময়নাতদন্তের সময় তাহসিফের পাকস্থলী ও কিডনির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ভিসেরা ও রক্তের নমুনাও পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার জন্যও নমুনা সংগ্রহ করেছে পুলিশ।

তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনেও সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্টদের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পিবিআইয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, তাহসিফের মরদেহে কোথাও আঘাতের চিহ্ন ছিল না। তাই একে হত্যাকাণ্ড বলা কঠিন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রয়োজন। কিন্তু অনেক সময় ভিসেরা প্রতিবেদনে ‘মৃত্যুর কারণ অজ্ঞাত’ বা ‘মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনিশ্চিত’ বলে উল্লেখ থাকে। তাহসিফের ক্ষেত্রেও এমন কিছু হলে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।

তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করবে এবং সত্য উদ্ঘাটন করতে পারবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় দীপের ডাকে বাসার নিচে নেমে নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়েছিলেন তাহসিফ। পরদিন বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের পর তিন দিনেও মামলা না হওয়ায় দীপকে নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছিল। ৩০ অক্টোবর রাতে তাঁকে নৌ-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই দিন রাতেই তাহসিফের বাবা হত্যা মামলা করলে দীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যেই ওই দিন সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাহসিফের মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছিল। মাদক কেনার উদ্দেশে মধ্যরাতে তাহসিফের সঙ্গে ওই এলাকায় যাওয়ার কথাও স্বীকার করেন দীপ।

চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে পারেননি তদন্তকারীরা। শেষ সাত ঘণ্টার অনেকটা সময়ের হিসাব মিলেছে সিসিটিভি ফুটেজে। পাওয়া গেছে দীপ ও তাদের সঙ্গে থাকা তরুণীর বক্তব্যও। কিন্তু যে সময়টুকুতে তাহসিফের জীবনের শেষ ঘটনা ঘটেছে, সেই সময়ের কোনো নির্ভরযোগ্য ছবি বা প্রত্যক্ষ তথ্য এখনো নেই। শেষ পর্যন্ত সেই ১৫ মিনিটের রহস্যের জট খুলবে কি না, তার উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।

বাস ঘোরানোর সময় আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় কয়েকজন: পুলিশ

বাস ঘোরানোর সময় আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় কয়েকজন: পুলিশ

রাজধানীর বাড্ডার নতুন বাজার এলাকায় বৈশাখী পরিবহনের একটি বাসে আগুন দিয়েছে কয়েকজন ব্যক্তি। আজ শুক্রবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে কোকাকোলা গেটের বিপরীত পাশে বাসটি ঘোরানোর সময় এ ঘটনা ঘটে।

‘মজুরি বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন করলেই শ্রমিকেরা হয়ে যান তৃতীয় পক্ষ’

‘মজুরি বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন করলেই শ্রমিকেরা হয়ে যান তৃতীয় পক্ষ’

শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন করলেই তাদের ‘তৃতীয় পক্ষের শক্তি’ ও বিদেশি ইন্ধনে পরিচালিত বলে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন গ্রিন বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি সুলতানা বেগম…

আবাসিক হলে পুলিশি হামলা, অ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্সের ছাত্রীদের প্রতিবাদ

আবাসিক হলে পুলিশি হামলা, অ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্সের ছাত্রীদের প্রতিবাদ

রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্সের (পূর্বের নাম হোম ইকোনমিকস কলেজ) শিক্ষার্থীদের ওপর মধ্যরাতে আবাসিক হলে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে মুখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতীকী প্রতিবাদ জানিয়েছেন আন্দোলনরত ছাত্রীরা। আজ শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে রাজধানীর নীলক্ষেত মোড়ে এই

জনপ্রিয় টার্গেট

তদন্ত ঘুরপাক খাচ্ছে ১৫ মিনিটে, কী ঘটেছিল তখন তাহসিফের সঙ্গে

প্রকাশ: ০৯:৫৩:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

তাহসিফের মৃত্যুর আগের শেষ সাত ঘণ্টার গতিপথের অনেকটাই উঠে এসেছে অর্ধশতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণে। মায়ের সঙ্গে কেনাকাটা, জুনিয়র ও বন্ধু দীপকে নিয়ে মোটরসাইকেল মেরামত, এক তরুণীর সঙ্গে রেস্তোরাঁয় খাওয়া, এরপর বন্ধুকে নিয়ে বারে যাওয়া—এক রাতেই একের পর এক জায়গায় গিয়েছিলেন তিনি। সবশেষে গেছেন মাদক কেনাবেচার আখড়া হিসেবে পরিচিত টঙ্গীর মাজার বস্তিতে। কিন্তু এত ফুটেজ বিশ্লেষণের পরও তাঁর মৃত্যুর আগের গুরুত্বপূর্ণ সময়ের হিসাব মেলাতে পারছেন না তদন্তকারীরা।

তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার হয় গত ২৮ অক্টোবর বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে। তাঁর বাবা কে এম এনায়েতুল করিম এ ঘটনায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় বন্ধুস্থানীয় দীপ ও ওই তরুণীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কয়েক দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করেছে নৌ-পুলিশ।

তদন্তকারীরা বলছেন, জিজ্ঞাসাবাদে তাহসিফের শেষ রাতের অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। কিন্তু কীভাবে তাঁর মৃত্যু হলো, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নৌ-পুলিশ ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘রিমান্ডে আসামিরা যে বক্তব্যগুলো দিয়েছে, তার কোন অংশ কতটুকু সঠিক, আমরা সেগুলো যাচাই-বাছাই ও পর্যবেক্ষণে রেখেছি। সময় যেহেতু আছে, তাই বাকি কাজগুলো করে দেখি, কী ফলাফল পাওয়া যায়।’

তদন্তকারীরা এই ঘটনার পেছনে এখন কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ দেখছেন। পূর্বশত্রুতা, আর্থিক লেনদেন কিংবা ব্যক্তিগত বিরোধ থেকে তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি পুলিশের উপস্থিতিতে পালানোর সময় দুর্ঘটনাবশত নদে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে কি না, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে এখন পর্যন্ত কোনো কারণই নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

তৃতীয় দফা রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, তাহসিফকে কেন হত্যা করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। পূর্বশত্রুতা, আর্থিক লেনদেন নাকি ব্যক্তিগত বিরোধ—এর কোনোটি হত্যার কারণ কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার, মূল পরিকল্পনাকারী ও সহযোগীদের শনাক্ত এবং কোনো ভাড়াটে খুনি বা অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা জানার জন্য দীপকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য ও আসামির বক্তব্য মিলিয়ে দেখার কথাও বলা হয়েছে রিমান্ড আবেদনে।

তাহসিফের মৃত্যুর আগের রাতের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে দীপের দেওয়া বক্তব্যে বেশ কিছু প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে দীপ জানান, গত ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৮ মিনিটে তাহসিফ, ওই তরুণী ও তিনি উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের একটি বারে যান। এর আগে ওই তরুণীর সঙ্গে অন্য এক যুবকের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেরে মন খারাপ ছিল তাহসিফের। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধও চলছিল।

দীপের ভাষ্য অনুযায়ী, বারে গিয়ে তাহসিফ কর্তৃপক্ষকে সাউন্ড সিস্টেমে স্যাড গান (বিষণ্ন সংগীত) বাজাতে বলেন। পরে তিনজনই মদ্যপান করেন। রাত ১২টা পর্যন্ত ওই তরুণীর সঙ্গে অন্য যুবকের সম্পর্ক নিয়ে তাহসিফের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওই তরুণীকে উদ্দেশ্য করে তাহসিফ বলেন, ‘তুমি তো ইয়াবা খেয়েছ, আমি এর চেয়েও বড় কিছু খাব। আমি হেরোইন খাব।’

রাত ১২টার দিকে বার থেকে বের হয়ে তাহসিফ নিজের মোটরসাইকেলে ওই তরুণীকে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের বাসায় পৌঁছে দেন। দীপও নিজের মোটরসাইকেলে সেখানে যান। এরপর তাহসিফ ও দীপ টঙ্গী বাজার বস্তি-সংলগ্ন একটি মাঠের উদ্দেশে রওনা হন। দীপের দাবি, সেখানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তাহসিফ নিজেই।

দীপের বক্তব্য অনুযায়ী, বস্তির কাছে মোটরসাইকেল রেখে তাঁরা মাঠের দিকে যান। সেখানে স্থানীয় মাদকসেবী ও কারবারিসহ অনেক মানুষ ছিলেন। তাহসিফ উচ্চ স্বরে হেরোইন চান এবং যত টাকা লাগে দিতে রাজি হন। পরে কয়েকজন মাদক কারবারির কাছ থেকে হেরোইন কিনে সেবন করেন। বারে মদ্যপানের পর হেরোইন সেবনে তাহসিফ নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন বলেও দাবি করেন দীপ।

এরপরই আসে পুলিশ। দীপের ভাষ্য, তাহসিফ যখন মাদক সেবন করছিলেন, তখন সেখানে পুলিশের একটি টহল দল আসে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে স্থানীয় মাদক কারবারিরা পালিয়ে যান। দীপও দৌড়ে নদীর পাড়ের দিকে চলে যান। পরে তুরাগ নদের ২৯ নম্বর পিলারের পেছনে গিয়ে লুকিয়ে থাকেন। এ সময় তাহসিফের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান তিনি। এরপর কী ঘটেছিল, তা নিয়ে তাঁর বক্তব্যই এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তাহসিফ ও দীপের শেষ রাতের গতিপথ জানতে টঙ্গীর মাজার বস্তি এবং আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করেছে তদন্তসংশ্লিষ্টরা। বস্তিতে প্রবেশের মুখে থাকা দুটি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, রাত ১২টা ৩৯ মিনিটে দ্রুতগতিতে সেখানে ঢুকছেন তাহসিফ। এর কিছুক্ষণ পর প্রবেশ করে দীপের মোটরসাইকেল।

যে জায়গায় তাঁরা মোটরসাইকেল রেখেছিলেন, সেটিও শনাক্ত করা হয়েছে। এরপর সামনের দিকে এগিয়ে একটি গলিতে ঢোকার চেষ্টা করেন তাঁরা। গলির মুখে থাকা দুটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, রাত ১২টা ৪০ মিনিটে সেখানে ঢোকার চেষ্টা করছেন তাহসিফ। এ সময় বস্তির এক নারী তাঁকে বাধা দেন। এ নিয়ে ওই নারীর সঙ্গে তর্কে জড়ান তিনি। পাশে ছিলেন দীপও।

ওই নারী বলেন, তাহসিফ জোর করে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। তাঁকে নিষেধ করে বলা হয়েছিল, ভেতরে গেলে সমস্যা হতে পারে। কিন্তু তিনি কথা শোনেননি। উল্টো বলেন, ‘আমি ভেতরে যাব, কোনো সমস্যা নেই। আমরা রেইড দেব, আপনার কোনো সমস্যা হবে না।’ এরপর তিনি ভেতরে চলে যান।

তাহসিফ দীপকে তর্কে না জড়িয়ে দ্রুত গলির ভেতর দিয়ে এগিয়ে যেতে বলেন। গলি ধরে তাঁরা প্রধান সড়কে ওঠেন। এরপর সেখান থেকে নদীর তীরে যান। বস্তির মাজার গেটের সামনের সিসিটিভি ক্যামেরায় রাত ১২টা ৫২ মিনিটে তাহসিফের চেহারা স্পষ্ট দেখা যায়। এ সময় রাস্তার পাশে থাকা কয়েকজনের কাছে কিছু একটা চেয়ে তাঁদের রাস্তা থেকে সরে যেতে বলেন তিনি। তাঁর পেছনে ছিলেন দীপও।

মাজার গেট পার হওয়ার পর আর কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা নেই। ফলে এরপর তাঁরা কোন পথে, কোথায় গেছেন, তা ফুটেজে পাওয়া যায়নি। প্রায় ছয় মিনিট হেঁটে বস্তির পাশের একটি ফাঁকা মাঠের কাছে পৌঁছানো যায়। সেখানে একটি ভবনের সিঁড়ি রয়েছে। দীপের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সবশেষ সেখানে বসেছিলেন তাঁরা।

রাত ১টা ৫ মিনিটে বস্তির পিংকি গার্মেন্টসের সামনের সিসিটিভি ক্যামেরায় আট সদস্যের পুলিশের একটি দলকে মাঠে প্রবেশ করতে দেখা যায়। দীপের ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ দেখে মাঠে থাকা লোকজন দৌড়াতে শুরু করেন। তাহসিফ ও দীপও দৌড় দেন। দীপ তুরাগ নদের ২৯ নম্বর পিলারের পেছনে চলে যান। আর তাহসিফ যান নদীর তীরের দিকে। অন্ধকারে এরপর তাঁকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, পুলিশ অভিযান চালাতে এলে অনেকে ধরা পড়ার ভয়ে পানিতে লাফিয়ে সাঁতরে নদ পার হয়ে পালিয়ে যান। তবে তাহসিফও কি পালাতে গিয়ে পানিতে পড়েছিলেন, নাকি তাঁর সঙ্গে অন্য কিছু ঘটেছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে মাজার গেটের সামনের ক্যামেরায় পুলিশের দলটিকে মাঠ থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। একই সময়ে পিংকি গার্মেন্টসের ক্যামেরায় দীপকেও বস্তিতে ফিরে আসতে দেখা যায়। রাত ১টা ২১ মিনিটে আরেকটি ক্যামেরায় তাঁকে হাঁটতে দেখা যায়। এরপর আর কোনো ক্যামেরায় তাঁর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। দীপের বক্তব্য অনুযায়ী, রাত ১টা ৫২ মিনিটে তাহসিফকে রেখে তিনি বাসায় চলে যান। এই সময়ের মধ্যে তিনি কোথায় ছিলেন, তার তথ্যও সিসিটিভি ফুটেজে মেলেনি।

তাহসিফের বাসা থেকে টঙ্গীর মাজার বস্তি পর্যন্ত পুরো এলাকার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন স্থানে তাঁর উপস্থিতি শনাক্ত করা গেছে। কিন্তু মাজার বস্তি থেকে তুরাগ নদের তীর পর্যন্ত যাওয়ার পথে কোথাও তাঁর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। কারণ, ওই এলাকায় কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা নেই। ফলে শেষ পর্যন্ত নদীর তীরে কী ঘটেছিল, তা জানার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্যামেরার অনুপস্থিতি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, দীপকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং তাঁর বক্তব্য যাচাই করা হয়েছে। তাহসিফের মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। বারের বিভিন্ন বিষয়ও যাচাই করেছেন তদন্তকারীরা। মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণসহ পারিপার্শ্বিক তথ্য বিবেচনায় প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।

তবে ওই কর্মকর্তা বলেছেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষা করতে হবে। ওই প্রতিবেদনে তাহসিফ মাদক সেবন করেছিলেন কি না কিংবা তাঁর শরীরে কোনো বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল কি না, সে সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ময়নাতদন্তের সময় তাহসিফের পাকস্থলী ও কিডনির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ভিসেরা ও রক্তের নমুনাও পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার জন্যও নমুনা সংগ্রহ করেছে পুলিশ।

তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনেও সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্টদের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পিবিআইয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, তাহসিফের মরদেহে কোথাও আঘাতের চিহ্ন ছিল না। তাই একে হত্যাকাণ্ড বলা কঠিন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রয়োজন। কিন্তু অনেক সময় ভিসেরা প্রতিবেদনে ‘মৃত্যুর কারণ অজ্ঞাত’ বা ‘মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনিশ্চিত’ বলে উল্লেখ থাকে। তাহসিফের ক্ষেত্রেও এমন কিছু হলে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।

তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করবে এবং সত্য উদ্ঘাটন করতে পারবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় দীপের ডাকে বাসার নিচে নেমে নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়েছিলেন তাহসিফ। পরদিন বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের পর তিন দিনেও মামলা না হওয়ায় দীপকে নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছিল। ৩০ অক্টোবর রাতে তাঁকে নৌ-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই দিন রাতেই তাহসিফের বাবা হত্যা মামলা করলে দীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যেই ওই দিন সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাহসিফের মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছিল। মাদক কেনার উদ্দেশে মধ্যরাতে তাহসিফের সঙ্গে ওই এলাকায় যাওয়ার কথাও স্বীকার করেন দীপ।

চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে পারেননি তদন্তকারীরা। শেষ সাত ঘণ্টার অনেকটা সময়ের হিসাব মিলেছে সিসিটিভি ফুটেজে। পাওয়া গেছে দীপ ও তাদের সঙ্গে থাকা তরুণীর বক্তব্যও। কিন্তু যে সময়টুকুতে তাহসিফের জীবনের শেষ ঘটনা ঘটেছে, সেই সময়ের কোনো নির্ভরযোগ্য ছবি বা প্রত্যক্ষ তথ্য এখনো নেই। শেষ পর্যন্ত সেই ১৫ মিনিটের রহস্যের জট খুলবে কি না, তার উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।

বাস ঘোরানোর সময় আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় কয়েকজন: পুলিশ

বাস ঘোরানোর সময় আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় কয়েকজন: পুলিশ

রাজধানীর বাড্ডার নতুন বাজার এলাকায় বৈশাখী পরিবহনের একটি বাসে আগুন দিয়েছে কয়েকজন ব্যক্তি। আজ শুক্রবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে কোকাকোলা গেটের বিপরীত পাশে বাসটি ঘোরানোর সময় এ ঘটনা ঘটে।

‘মজুরি বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন করলেই শ্রমিকেরা হয়ে যান তৃতীয় পক্ষ’

‘মজুরি বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন করলেই শ্রমিকেরা হয়ে যান তৃতীয় পক্ষ’

শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন করলেই তাদের ‘তৃতীয় পক্ষের শক্তি’ ও বিদেশি ইন্ধনে পরিচালিত বলে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন গ্রিন বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি সুলতানা বেগম…

আবাসিক হলে পুলিশি হামলা, অ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্সের ছাত্রীদের প্রতিবাদ

আবাসিক হলে পুলিশি হামলা, অ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্সের ছাত্রীদের প্রতিবাদ

রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্সের (পূর্বের নাম হোম ইকোনমিকস কলেজ) শিক্ষার্থীদের ওপর মধ্যরাতে আবাসিক হলে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে মুখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতীকী প্রতিবাদ জানিয়েছেন আন্দোলনরত ছাত্রীরা। আজ শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে রাজধানীর নীলক্ষেত মোড়ে এই