০৩:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পারিবারিক বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগে স্ত্রী ও তাঁর ৬ স্বজনকে হত্যা ক্যাবচালকের

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০২:০৬:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
  • ৯ বার পঠিত হয়েছে

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে—পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল ইন্দুশেখরের। প্রায় ২০ বছর আগে সুনীতার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁরা বেঙ্গালুরুর রাজাজিনগর এলাকায় বসবাস করতেন। দাম্পত্য বিরোধ মেটাতে আত্মীয়স্বজন একাধিকবার উদ্যোগ নিলেও তাঁদের মধ্যে বিরোধ চলতে থাকে। এ সময় স্ত্রীর মা ও ভাইয়েরা সুনীতাকে সমর্থন করায় তাঁদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ইন্দুশেখর।

পুলিশের ধারণা, একপর্যায়ে স্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের নিজের জীবনে হস্তক্ষেপকারী মনে করে তাঁদের হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, প্রথমে স্ত্রী সুনীতাকে হত্যা করেন ইন্দুশেখর। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি শিলপাটা দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ নন্দী হিলসে নিয়ে ফেলে আসেন তিনি। এদিকে প্রতিবেশীদের সন্দেহ এড়াতে স্ত্রী বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গেছেন এবং মোবাইল ফোন বন্ধ রেখেছেন বলে জানান।

এর পরদিন দুই শ্যালক শিবকুমার ও শঙ্করকে মদ্যপানের আসরের কথা বলে নিজের বাড়িতে ডেকে নেন ইন্দুশেখর। সেখানে তাঁদের হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। পরে তাঁদের স্ত্রী নলিনী ও দিব্যা, নিজের শাশুড়ি রূপাবতী এবং শঙ্করের সাত বছর বয়সী ছেলে পুনীতকেও হত্যা করেন তিনি।

পুলিশের ধারণা, পরিবারের সদস্যদের একে একে বাড়িতে ডেকে হত্যা করা হয়। পরে হত্যার ঘটনা আড়াল করতে মরদেহগুলো বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর বাড়িতে রক্তের দাগ পরিষ্কার করেন অভিযুক্ত। এ ছাড়া হত্যায় ব্যবহৃত হয়েছে বলে সন্দেহ করা শিলপাটাটি রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে ধুয়ে ফেলেন। তদন্তকারীরা শিলপাটা ও মরদেহ পরিবহনে ব্যবহৃত সন্দেহে একটি গাড়ি জব্দ করেছেন।

এদিকে নলিনীর মা পুলিশের কাছে পরিবারের সদস্যদের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ দায়ের করলে ঘটনাটি তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে ইন্দুশেখরের বক্তব্যে অসংগতি এবং তাঁর বাড়ি থেকে পাওয়া বিভিন্ন আলামতের ভিত্তিতে তাঁর ওপর সন্দেহ তৈরি হয়। পরে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন বলে দাবি পুলিশের।

তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযুক্তকে নিয়ে নন্দী হিলসে অভিযান চালায় পুলিশ। কয়েক ঘণ্টার তল্লাশির পর সেখান থেকে সাত বছর বয়সী পুনীতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বাকি মরদেহগুলোর সন্ধানে অভিযান চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত। তবে হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ সহযোগিতা করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে অভিযুক্তের মেয়ের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে।

এদিকে শুক্রবার কর্ণাটকের মন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গে ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। মনে হচ্ছে, পরিবারের মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর স্ত্রীর পরিবারের সাত সদস্যকে হত্যা করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘তদন্ত চলছে। অভিযুক্ত দাবি করেছেন, স্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের কাছে তিনি অপমানিত বোধ করতেন। নিশ্চিতভাবেই বিকৃত মানসিকতার কোনো ব্যক্তি এই কাজ করেছেন। রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে মরদেহগুলো কোথায় রাখা হয়েছে, সে সম্পর্কেও তিনি তথ্য দিয়েছেন।’

শ্রীকৃষ্ণকে ‘বাঁকা’ বলায় বাগেশ্বর বাবার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা

শ্রীকৃষ্ণকে ‘বাঁকা’ বলায় বাগেশ্বর বাবার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা

শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে কটূক্তি ও মানহানিকর মন্তব্যের অভিযোগে ‘বাগেশ্বর ধাম’-এর প্রধান পুরোহিত ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীর (বাগেশ্বর বাবা) বিরুদ্ধে উত্তর প্রদেশের আগ্রার একটি আদালতে ফৌজদারি মানহানির মামলা করা হয়েছে।

দিল্লিতে আবারও ভবনধসে নিহত ২

দিল্লিতে আবারও ভবনধসে নিহত ২

গত ৬ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় ছেলেদের পেইং গেস্ট (পিজি) আবাসন হিসেবে ব্যবহৃত একটি ভবন ধসে পড়ার পর এমসিডি দিল্লির বিভিন্ন ভবনে নিরাপত্তা নিরীক্ষা বা সেফটি অডিট পরিচালনা করেছিল। তবে সেই নিরীক্ষার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভরদ্বাজ।

ত্রিপুরা সীমান্তে ৩ বিএসএফ সদস্যকে বেধড়ক পেটাল গ্রামবাসী

ত্রিপুরা সীমান্তে ৩ বিএসএফ সদস্যকে বেধড়ক পেটাল গ্রামবাসী

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সিপাহীজলা জেলায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালানকারী সন্দেহে এক ব্যক্তিকে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীর তোপের মুখে পড়েছে বিএসএফ (সীমান্ত রক্ষী বাহিনী)। গ্রামবাসী কয়েকজন জওয়ানকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়েছে।

জনপ্রিয় টার্গেট

টেন্ডারে অনিয়ম-দুর্নীতি ধামাচাপা দিতে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা: যুবদল নেতা পিন্টু

পারিবারিক বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগে স্ত্রী ও তাঁর ৬ স্বজনকে হত্যা ক্যাবচালকের

প্রকাশ: ০২:০৬:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে—পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল ইন্দুশেখরের। প্রায় ২০ বছর আগে সুনীতার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁরা বেঙ্গালুরুর রাজাজিনগর এলাকায় বসবাস করতেন। দাম্পত্য বিরোধ মেটাতে আত্মীয়স্বজন একাধিকবার উদ্যোগ নিলেও তাঁদের মধ্যে বিরোধ চলতে থাকে। এ সময় স্ত্রীর মা ও ভাইয়েরা সুনীতাকে সমর্থন করায় তাঁদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ইন্দুশেখর।

পুলিশের ধারণা, একপর্যায়ে স্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের নিজের জীবনে হস্তক্ষেপকারী মনে করে তাঁদের হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, প্রথমে স্ত্রী সুনীতাকে হত্যা করেন ইন্দুশেখর। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি শিলপাটা দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ নন্দী হিলসে নিয়ে ফেলে আসেন তিনি। এদিকে প্রতিবেশীদের সন্দেহ এড়াতে স্ত্রী বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গেছেন এবং মোবাইল ফোন বন্ধ রেখেছেন বলে জানান।

এর পরদিন দুই শ্যালক শিবকুমার ও শঙ্করকে মদ্যপানের আসরের কথা বলে নিজের বাড়িতে ডেকে নেন ইন্দুশেখর। সেখানে তাঁদের হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। পরে তাঁদের স্ত্রী নলিনী ও দিব্যা, নিজের শাশুড়ি রূপাবতী এবং শঙ্করের সাত বছর বয়সী ছেলে পুনীতকেও হত্যা করেন তিনি।

পুলিশের ধারণা, পরিবারের সদস্যদের একে একে বাড়িতে ডেকে হত্যা করা হয়। পরে হত্যার ঘটনা আড়াল করতে মরদেহগুলো বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর বাড়িতে রক্তের দাগ পরিষ্কার করেন অভিযুক্ত। এ ছাড়া হত্যায় ব্যবহৃত হয়েছে বলে সন্দেহ করা শিলপাটাটি রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে ধুয়ে ফেলেন। তদন্তকারীরা শিলপাটা ও মরদেহ পরিবহনে ব্যবহৃত সন্দেহে একটি গাড়ি জব্দ করেছেন।

এদিকে নলিনীর মা পুলিশের কাছে পরিবারের সদস্যদের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ দায়ের করলে ঘটনাটি তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে ইন্দুশেখরের বক্তব্যে অসংগতি এবং তাঁর বাড়ি থেকে পাওয়া বিভিন্ন আলামতের ভিত্তিতে তাঁর ওপর সন্দেহ তৈরি হয়। পরে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন বলে দাবি পুলিশের।

তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযুক্তকে নিয়ে নন্দী হিলসে অভিযান চালায় পুলিশ। কয়েক ঘণ্টার তল্লাশির পর সেখান থেকে সাত বছর বয়সী পুনীতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বাকি মরদেহগুলোর সন্ধানে অভিযান চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত। তবে হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ সহযোগিতা করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে অভিযুক্তের মেয়ের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে।

এদিকে শুক্রবার কর্ণাটকের মন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গে ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। মনে হচ্ছে, পরিবারের মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর স্ত্রীর পরিবারের সাত সদস্যকে হত্যা করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘তদন্ত চলছে। অভিযুক্ত দাবি করেছেন, স্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের কাছে তিনি অপমানিত বোধ করতেন। নিশ্চিতভাবেই বিকৃত মানসিকতার কোনো ব্যক্তি এই কাজ করেছেন। রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে মরদেহগুলো কোথায় রাখা হয়েছে, সে সম্পর্কেও তিনি তথ্য দিয়েছেন।’

শ্রীকৃষ্ণকে ‘বাঁকা’ বলায় বাগেশ্বর বাবার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা

শ্রীকৃষ্ণকে ‘বাঁকা’ বলায় বাগেশ্বর বাবার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা

শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে কটূক্তি ও মানহানিকর মন্তব্যের অভিযোগে ‘বাগেশ্বর ধাম’-এর প্রধান পুরোহিত ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীর (বাগেশ্বর বাবা) বিরুদ্ধে উত্তর প্রদেশের আগ্রার একটি আদালতে ফৌজদারি মানহানির মামলা করা হয়েছে।

দিল্লিতে আবারও ভবনধসে নিহত ২

দিল্লিতে আবারও ভবনধসে নিহত ২

গত ৬ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় ছেলেদের পেইং গেস্ট (পিজি) আবাসন হিসেবে ব্যবহৃত একটি ভবন ধসে পড়ার পর এমসিডি দিল্লির বিভিন্ন ভবনে নিরাপত্তা নিরীক্ষা বা সেফটি অডিট পরিচালনা করেছিল। তবে সেই নিরীক্ষার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভরদ্বাজ।

ত্রিপুরা সীমান্তে ৩ বিএসএফ সদস্যকে বেধড়ক পেটাল গ্রামবাসী

ত্রিপুরা সীমান্তে ৩ বিএসএফ সদস্যকে বেধড়ক পেটাল গ্রামবাসী

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সিপাহীজলা জেলায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালানকারী সন্দেহে এক ব্যক্তিকে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীর তোপের মুখে পড়েছে বিএসএফ (সীমান্ত রক্ষী বাহিনী)। গ্রামবাসী কয়েকজন জওয়ানকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়েছে।