ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের (আইএমডি) তথ্য অনুযায়ী, অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর কেন্দ্রস্থলে বাতাসের তীব্রতা ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার বেগে ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত তিন ঘণ্টায় এটি ঘণ্টায় ৩ কিলোমিটার বেগে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়েছে। এর পর ‘অর্ণব’ প্রথমে ধীরে ধীরে উত্তর-পশ্চিম দিকে এবং পরবর্তীতে উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টি হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল রাত থেকে আজ বুধবার সকাল পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে নোয়াখালীর হাতিয়ায়। এ এ ছাড়া মোংলায় ২৩, চট্টগ্রামে ৮, খুলনায় ৩, কয়রায় ২৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
আগামী দুদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেসা। আজ সকালে তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ঘূর্ণিঝড় অর্ণব উপকূলে উঠতে আসার পর এর প্রভাবে বাংলাদেশে কিছু অঞ্চলে বৃষ্টি হতে পারে। রাজধানী ঢাকায় আগামী ৩০ অক্টোবর বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের আজ সকালের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ভোর সাড়ে ৫টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে হবে।

দৈনিক টার্গেট 
























