ভারতের জেন-জি আন্দোলনে সংহতি জানালেন নাহিদ ইসলাম

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০১:১৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৯ বার পঠিত হয়েছে

শনিবার রাতে ‘ভারতের জেনজি এবং গণতান্ত্রিক শক্তির’ উদ্দেশে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ সব কথা জানান তিনি।

বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম বলেন, ইন্টারনেট বন্ধ করে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী ও নেতাদের আটক করা মৌলিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। সুষ্ঠু নির্বাচনী ব্যবস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্র-নাগরিকদের ওপর এমন দমন-পীড়ন চলতে পারে না।

ভারতের আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে নাহিদ বলেন, ‘এই লড়াই আপনাদের একার নয়। ঢাকা থেকেও আমরা আপনাদের পাশে আছি।’ ক্ষমতার জবাবদিহি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও মানবিক মর্যাদার অভিন্ন দাবিতে দুই দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিবৃতিতে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন পরবর্তী সময়ে ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। সে সময় আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচার গুলি চালানো হয়। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ওই সময়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ প্রাণ হারান।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের গণ-অভ্যুত্থানের সময় ভারতের শিক্ষার্থী, লেখক ও স্বাধীন কণ্ঠস্বরগুলো যে সংহতি জানিয়েছিল, তা তাঁরা গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।

ভারতের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস উল্লেখ করে তিনি বলেন, শাহীনবাগের নারী সমাজ, জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ) ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের সংগ্রাম তাঁদের অনুপ্রাণিত করে। বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনের মতো ভারতেও নারীরা আন্দোলনের সামনের সারিতে রয়েছেন।

বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম বলেন, হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসন, ফ্যাসিবাদ কিংবা যেকোনো ধরনের ধর্মীয় আধিপত্যবাদ দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না। কর্তৃত্ববাদ, সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ও রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতাকে এ অঞ্চলের মানুষ প্রত্যাখ্যান করে। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে এমন একটি সমাজ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি, যেখানে ধর্ম, জাত, লিঙ্গ বা শ্রেণির কারণে কোনো বৈষম্য থাকবে না।

ভারতে রাজনৈতিক বন্দীদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শারজিল ইমাম ও উমর খালিদকে বছরের পর বছর বিনা বিচারে আটকে রাখা হয়েছে। তরুণ নেতৃত্বসহ আরও কয়েক হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেন তিনি। এসব তরুণ আন্দোলনকারী ও রাজনৈতিক বন্দীকে সহযোদ্ধা হিসেবে অভিহিত করে তাঁদের সাহসের প্রতি শ্রদ্ধা জানান নাহিদ ইসলাম। একই সঙ্গে আটক নেতাদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান তিনি।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ, অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য বণ্টন, পরিবেশ রক্ষা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা তাঁদের অঙ্গীকার। এ অঞ্চলে রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমমর্যাদা, সরকারের জবাবদিহি এবং সব দেশের সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

ভারতের গণতান্ত্রিক জনগণের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের জুলাই প্রজন্ম তাঁদের পাশে রয়েছে। আন্দোলনকারীদের সাহস ধরে রাখা, পরস্পরকে রক্ষা করা এবং সাম্প্রদায়িক ঘৃণা প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানিয়ে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎকে বিভাজন ও ফ্যাসিবাদ থেকে রক্ষার কথা বলেন।

বিবৃতির শেষে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেন নাহিদ ইসলাম।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক চলছে। আজ শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জনপ্রিয় টার্গেট

ব্যাংক খাত পুনরুদ্ধার: বছরে লাগবে ৬০ হাজার কোটি টাকা

ভারতের জেন-জি আন্দোলনে সংহতি জানালেন নাহিদ ইসলাম

প্রকাশ: ০১:১৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

শনিবার রাতে ‘ভারতের জেনজি এবং গণতান্ত্রিক শক্তির’ উদ্দেশে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ সব কথা জানান তিনি।

বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম বলেন, ইন্টারনেট বন্ধ করে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী ও নেতাদের আটক করা মৌলিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। সুষ্ঠু নির্বাচনী ব্যবস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্র-নাগরিকদের ওপর এমন দমন-পীড়ন চলতে পারে না।

ভারতের আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে নাহিদ বলেন, ‘এই লড়াই আপনাদের একার নয়। ঢাকা থেকেও আমরা আপনাদের পাশে আছি।’ ক্ষমতার জবাবদিহি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও মানবিক মর্যাদার অভিন্ন দাবিতে দুই দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিবৃতিতে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন পরবর্তী সময়ে ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। সে সময় আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচার গুলি চালানো হয়। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ওই সময়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ প্রাণ হারান।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের গণ-অভ্যুত্থানের সময় ভারতের শিক্ষার্থী, লেখক ও স্বাধীন কণ্ঠস্বরগুলো যে সংহতি জানিয়েছিল, তা তাঁরা গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।

ভারতের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস উল্লেখ করে তিনি বলেন, শাহীনবাগের নারী সমাজ, জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ) ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের সংগ্রাম তাঁদের অনুপ্রাণিত করে। বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনের মতো ভারতেও নারীরা আন্দোলনের সামনের সারিতে রয়েছেন।

বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম বলেন, হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসন, ফ্যাসিবাদ কিংবা যেকোনো ধরনের ধর্মীয় আধিপত্যবাদ দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না। কর্তৃত্ববাদ, সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ও রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতাকে এ অঞ্চলের মানুষ প্রত্যাখ্যান করে। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে এমন একটি সমাজ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি, যেখানে ধর্ম, জাত, লিঙ্গ বা শ্রেণির কারণে কোনো বৈষম্য থাকবে না।

ভারতে রাজনৈতিক বন্দীদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শারজিল ইমাম ও উমর খালিদকে বছরের পর বছর বিনা বিচারে আটকে রাখা হয়েছে। তরুণ নেতৃত্বসহ আরও কয়েক হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেন তিনি। এসব তরুণ আন্দোলনকারী ও রাজনৈতিক বন্দীকে সহযোদ্ধা হিসেবে অভিহিত করে তাঁদের সাহসের প্রতি শ্রদ্ধা জানান নাহিদ ইসলাম। একই সঙ্গে আটক নেতাদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান তিনি।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ, অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য বণ্টন, পরিবেশ রক্ষা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা তাঁদের অঙ্গীকার। এ অঞ্চলে রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমমর্যাদা, সরকারের জবাবদিহি এবং সব দেশের সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

ভারতের গণতান্ত্রিক জনগণের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের জুলাই প্রজন্ম তাঁদের পাশে রয়েছে। আন্দোলনকারীদের সাহস ধরে রাখা, পরস্পরকে রক্ষা করা এবং সাম্প্রদায়িক ঘৃণা প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানিয়ে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎকে বিভাজন ও ফ্যাসিবাদ থেকে রক্ষার কথা বলেন।

বিবৃতির শেষে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেন নাহিদ ইসলাম।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক চলছে। আজ শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।